91

Return to London!

নিউজিল্যান্ড এর কুইন্সটাউনের পর্ব চুকিয়ে এবার লন্ডনে ফেরার পালা। ইউভানের বিজনেস সাম্রাজ্য আর ম্যানশনের বিশালতা তাকে আবার ডাকছে। কুইন্সটাউন ছেড়ে যাওয়ার আগের দিন বিকেলে ভিলার লনেই এক ঘরোয়া কিন্তু আভিজাত্যময় গেট-টুগেদারের আয়োজন করা হলো।

লনের ডেকোরেশনে তাজা সাদা লিলি আর ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজছে মন্থর এক ক্লাসিক্যাল মিউজিক। মিহিরিমার পরনে ছিল পেস্ট রঙের একটা এলিগ্যান্ট গাউন, যা তার গায়ের স্নিগ্ধ উজ্জ্বলতা আর চার মাসের মাতৃত্বের সামান্য রূপরেখাকে অপূর্ব এক মায়ায় মুড়ে রেখেছিল। সে আয়রাকে কোলে নিয়ে হালকা হাসিমুখে অতিথিদের সাথে কথা বলছিল। ইউভান কিছুটা দূরে ডেভিডের সাথে ফ্লাইট আর সিকিউরিটি নিয়ে জরুরি কথা নিয়ে ব্যস্ত ছিল

ঠিক তখনই নেবারহুডের নতুন সদস্য—একজন সুদর্শন ও আভিজাত্যময় যুবক, নাম তার অ্যারন—হাতে রেড ওয়াইনের গ্লাস নিয়ে মিহিরিমার দিকে ধীরপায়ে এগিয়ে এলো।

"হাই, আই অ্যাম অ্যারন," যুবকটি অত্যন্ত ভদ্র ও প্রলুব্ধকর হেসে মিহিরিমার দিকে হাত বাড়াল।

" আপনাকে দেখে সত্যি অবাক হচ্ছি! এত ইয়াং আর গর্জাস এক নারী এই কিউট বাচ্চার মা, বিশ্বাস করাই কঠিন।"

মিহিরিমা সৌজন্যমূলক হেসে বলল, "থ্যাংক ইউ, অ্যারন। হ্যাঁ, আয়রা আমারই মেয়ে।"

অ্যারন মোহিত চোখে মিহিরিমার দিকে তাকিয়ে বলল, "অনেস্টলি বলতে গেলে, আপনাকে দেখে তো কলেজের ফার্স্ট ইয়ারের স্টুডেন্ট মনে হচ্ছে! আই মাস্ট সে, ইউ লুক এবসোলিউটলি স্টানিং।"

ঠিক সেই মুহূর্তে বাতাসের সুবাস বদলে গেল। এক পরিচিত, তীব্র ডার্ক পারফিউমের গন্ধে চারপাশটা ভারী হয়ে উঠল। মিহিরিমা অনুভব করল তার ঠিক পেছনে এসে দাঁড়িয়েছে এক বিশালাকার ও উত্তপ্ত উপস্থিতি।

ইউভান এক হাত পরম অধিকারবোধ নিয়ে মিহিরিমার কোমরে জড়িয়ে ধরে তাকে নিজের সুগঠিত, শক্ত বুকের সাথে একদম লেপ্টে নিল। তার পরনে ডার্ক ব্ল্যাক থ্রি-পিস সুট, নীলচে চোখে বরফশীতল হিংস্রতা আর মাফিয়া ডনের থমথমে গাম্ভীর্য।

অ্যারন কিছুটা থমকে গেল। ইউভানের ৪০-এর কোঠায় পৌঁছানো হলেও তার সুগঠিত পেশিবহুল শরীর আর রাজকীয় প্রভাব স্পষ্ট। তবে মিহিরিমার পাশে এত  বয়সের ব্যবধান  দেখে অ্যারন একটু দ্বিধায় পড়ে অবলীলায় বলে ফেলল—

"ওহ্... হ্যালো স্যার! আপনি নিশ্চয়ই মিহিরিমার আঙ্কেল বা ফ্যামিলি গার্ডিয়ান?"

'আঙ্কেল' শব্দটা শোনামাত্রই ইউভানের চোখের মনি নীল থেকে এক লহমায় মারাত্মক বিপজ্জনক কালো রঙে রূপ নিল! তার চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল,  চারপাশে যেন এক পৈশাচিক হিংস্রতা ছড়িয়ে পড়ল।

মিহিরিমা ইউভানের হাতের বাঁধন কোমরে শক্ত হতেই বুঝতে পারল ইউভান এর মেজাজ কতটা বিগড়ে গেছে! সে পরিস্থিতি সামলানোর আগেই কোলে থাকা ছোট আয়রা আধো-আধো গলায় ইউভানের দিকে তাকিয়ে খিলখিল করে হেসে উঠল—

"পাপা ওল্ড! পাপা ওল্ড!"

আয়রা অবুঝ মনে কথাটা বললেও ইউভানের ক্ষোভের আগুনে যেন ঘি ঢেলে দিল! অ্যারন ইউভানের চোখের সেই চরম বিষাক্ত ও পৈশাচিক চাহনি দেখে ভয়ে শুকিয়ে গেল।

মিহিরিমা আর এক মুহূর্ত সেখানে দাঁড়ানো নিরাপদ মনে করল না। ইউভানকে শান্ত করতে সে দ্রুত বলল, "অ্যারন, এক্সকিউজ আস। আমাদের এখন যেতে হবে।"

সমস্ত গেস্ট চলে যাওয়ার পর,

ভিলার বেডরুমে পা রাখতেই ইউভান এক ঝটকায় রুমের দরজা লক করে দিল। তার শান্ত কিন্তু থমথমে নীরবতা এক ভয়ংকর ঝড়ের বার্তা দিচ্ছিল।

সোজা ড্রেসিং টেবিলের সামনে গিয়ে ইউভান সুটের টাইটা এক টানে খসিয়ে নিচে ছুঁড়ে ফেলল। শার্টের ওপরের তিনটে বোতাম খোলা, বুকের পেশিগুলো ক্ষোভে  টানটান।

মিহিরিমা ধীরপায়ে ইউভানের দিকে এগোতেই ইউভান এক নিমেষে  ছোঁ মেরে তাকে দেয়ালের সাথে চেপে ধরল!

"Old, huh?" ইউভান নিচু, অত্যন্ত বিপজ্জনক ও গম্ভীর গলায় ফিসফিস করে মিহিরিমার কানের কাছে মুখ আনল, তার চোখ দুটো তখন তীব্র কামনায় আর হিংস্র পসেসিভনেসে জ্বলছে, "You think I'm too old for you, babygirl?"

"ইউভান, ও না বুঝে বলেছে—" মিহিরিমা হাঁপাতে হাঁপাতে ইউভানের বুকে হাত দিল, কিন্তু তার নিজের শরীরও ইউভানের এই বিপজ্জনক আবেশে শিহরিত হতে শুরু করেছে।

"Tonight, I'm going to show you exactly how young, wild, and dangerous your husband is," ইউভান এর ঠোঁটে বাঁকা, ডার্ক স্মাইল ফুটে উঠল।

মিহিরিমাকে কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়ে ইউভান এক টানে তার গাউনের ব্যাক জিপার খুলে দিল। কাপড়ের বাঁধন মুক্ত হতেই মিহিরিমাকে কোলে তুলে নিয়ে সোজা বিছানায় ফেলে দিয়ে তার ওপর ঝুঁকে পড়ল।

কিন্তু তার আগেই পাশের রুম থেকে ঘুমন্ত আয়রার কান্নার। শব্দ পেতেই মিহিরিমা নিজেকে ইউভান এর থেকে ছাড়িয়ে উঠে দাঁড়াল। ততক্ষণে আয়রা কাদো কাদো অবস্থায় কাপা পায়ে এসে উপস্থিত হয়েছে দরজার কাছে।

মিহিরিমা ছুটে গিয়ে মেয়েকে কোলে নিল।

" কি হয়েছে আমার বেবীর? হুম ভয় পেয়েছে?"

ছোট আয়রা মাথা দোলাল। ইউভান এগিয়ে এসে মেয়ে নিজের কোলে তুলে নিল। বুকের মাঝে জাপটে ধরে পুরো রুম। পায়চারি করতে থাকল। ইশারায় মিহিরিমা কে বিছানায় আয়রার জন্য জায়গা করতে বলল সে। মিহিরিমা থমকাল। এত দিন সে নিজেই করে এসেছে এসব । একজন মা বাবার দায়িত্ব উঠিয়েছে। এই অনুভূতি টা তার নতুন। এই মানুষ টা তার থেকে অনেক ম্যাচুয়র খানিক ক্ষণ আগের উত্তেজনা মুহূর্ত ব্যাখ্যাত ঘটলেও ইউভান এর মুখে কোনো বিরক্তি নেই। সে যেনো এখন তার পিতার ভূমিকা পালন করছে। মিহিরিমার বুক ভরে আসল মুহূর্তেই।

ততক্ষণে  আয়রা ঘুমিয়ে পড়েছে। ইউভান সন্তর্পনে তাকে বিছানায় শুইয়ে দিল। মিহিরিমা মেয়ের ঘুমন্ত মুখে আদর করে তার পাশে শুয়ে পড়ে। ভেবেছিল মেয়েকে মাঝখানে রাখবে কিন্তু সেগুড়ে বালি! ইউভান শক্ত করে নিজের সাথে জাপটে ধরে। পেছন থেকে। মিহিরিমার যেনো মনে হয় এখন তার জীবন পূর্ণতা পেয়েছে। কাল লন্ডন এর ফ্লাইট। যা তার মন কে বিচলিত করে রেখেছে। কারণ এত কিছুর পরও রেহান , লারা , ইসাবেলা কিছুতেই এত সহজে চুপ করে থাকার মানুষ নয়। তার ভয় হয় যদি আবা

রও তারা আলাদা হয়ে যায়?

চলবে?

Write a comment ...

Write a comment ...

story universe ( স্নেহার ডায়রি)

Pro
A proud pratilipi bengali writer