70

কাছাকাছি ❤️‍🔥

রোজির প্রশ্নে মারিয়ার মুখের রঙ বদলে গেল।

"আমি..."

কথাটা শেষ করার আগেই করিডোরের অন্যপ্রান্ত থেকে কারও পায়ের শব্দ ভেসে এলো।

রোজি চমকে উঠে দ্রুত সোজা হয়ে দাঁড়াল।

"ওহ শিট! কেউ আসছে।"

মারিয়া যেন বেঁচে গেল।

"আমাকে যেতে হবে।"

রোজি আর কিছু বলার আগেই দ্রুত সরে গেল সেখান থেকে।

কিন্তু যাওয়ার আগে একবার ঘুরে তাকাল।

তার চোখে স্পষ্ট সন্দেহ। ফোনটা বের করে কানে তুলে ফিসফিস করে বলল,

"স্যার আপনি ঠিক ধরেছেন  মারিয়া ক্লার্ক এর ওপর আমার ও সন্দেহ হচ্ছে । তবে আমাদের আগে উপযুক্ত তথ্য দরকার.."

---

দেখতে দেখতে Duke Mansion এক সপ্তাহ কেটে গিয়েছে মারিয়ার। তবে প্রতিদিন ই সে

গ্র্যানির ওষুধ, রুটিন আর প্রয়োজনীয় কাজগুলো শেষ করেই সুযোগ পেলেই বেরিয়ে যায় আয়রার সাথে দেখা করতে। সকলের আড়ালে। পুরো এক সপ্তাহ নিজের মেয়ের সঙ্গে ভালোই সময় কাটিয়েছে মারিয়া। কিন্তু রোজ এভাবে আসলে সে সকলের নজরে আসতে পারে। শেষ দিন আয়রার ছোট্ট হাতটা যখন তার গলা জড়িয়ে ধরে বলেছিল—

"মাম্মা, তুমি আবার চলে যাবে?"

তখন নিজের চোখের জল লুকাতে কষ্ট হচ্ছিল তার।

কিন্তু সে জানে।এখনও সময় আসেনি।

সে নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে পারবে না। তার মেয়ের উচ্চ ভবিষ্যৎ এর জন্য এই পথ ছাড়া কোনো উপায় নেই তার।

---

সেই বিকেলেই আবার Duke Mansion-এ ফিরল মারিয়া।গেট পেরোতেই তার মনে হলো বাড়িটার পরিবেশ যেন আরও গুমোট হয়ে এলো।

স্টাফদের মুখে চাপা আতঙ্ক টের পেল সে করিডোরে অদ্ভুত নীরবতা।মনে হচ্ছে কিছু একটা ঘটেছে।ঠিক তখনই তাড়াহুড়ো করে একজন স্টাফ তার সামনে এসে দাঁড়াল।

"Maria! Thank God."

"কি হয়েছে?"

"বসের জন্য কফি নিয়ে যেতে হবে।"

মারিয়া ভ্রু কুঁচকাল। সে ইউভান এর সম্মুখীন খুব কম হয় কারণ লারা বিষয় টা প্রত্যক্ষ করলে হয়তো তার জীবনের শেষ দিন হবে।

"তুমি নিয়ে যাও।" মিনমিনে গলায় বলল সে।

"অসম্ভব!"

মেয়েটা ভয়ে ফিসফিস করে বলল।

"সকালে তিনজন স্টাফকে বের করে দিয়েছেন স্যার। জানি না কিছু একটা হয়েছে যার জন্য তিনি রেগে আছেন। বাড়িতে লারা ম্যাম ইসাবেলা ম্যাম কেউ নেই।এখন কেউ তার রুমের সামনে যেতেও চাচ্ছে না। তুমিই পারবে ! তো প্লীজ না করো না!"

মেয়েটি আকুতি গলায় বলল,

মারিয়া দীর্ঘশ্বাস ফেলল। কিছু করার নেই দেখে।

"Fine."

---

পাঁচ মিনিট পরে ট্রেতে কফির কাপ নিয়ে ইউভানের রুমের সামনে দাঁড়িয়ে আছে সে।

দরজাটা আধখোলা।ভেতর থেকে জলের শব্দ শুনতে পেল মারিয়া!

মারিয়া নক করল। কিন্তু কোনো সাড়া পেল না। দুবার তাই হলো। কোনো উপায় নেই দেখে অস্থির পায়ে ভেতরে ঢুকতেই সে থমকে গেল। পুরো রুমটাই অন্ধকারে ছেয়ে আছে। বাথরুম থেকে জলের শব্দ শুনে মারিয়া নিশ্চিত হলো ইউভান রুমে নেই। ঈশ্বর কে শত কোটি প্রণাম জানিয়ে কফি টা টেবিল এর ওপর রাখতে রাখতে সে বলল, স্যার আপনার কফি!

মারিয়া প্রত্যক্ষ করল তাও কোনো সাড়া আসছে না বাথরুম থেকে! আচ্ছা ওনার কিছু হলো না তো? মারিয়া চিন্তিত হলো। দ্রুত বাথরুমের দরজায় কড়া নেড়ে বলল, স্যার আপনার কফি নিয়ে এসেছি!

দ্বিতীয় বার কড়া নাড়ার আগেই একটি শক্ত পুরুষালি হাত তার কব্জি টেনে বাথরুমের  ভেতরে নিয়ে আসে।

ইউভান তাকে বাথরুমে টেনে ঢুকিয়ে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মারিয়ার বুক ধক করে উঠল।

“স্যার—!”

চমকে উঠেছিল সে।

কিন্তু ইউভান কোনো উত্তর দিল না। এক হাতে তার কবজি ধরে দেওয়ালের পাশে দাঁড় করিয়ে দিল। মারিয়ার মুখ হা হয়ে গেল সামনের দৃশ্যটি দেখে। ইউভান এর পুরো শরীর জলে সিক্ত। কোমড়ের নীচ টাওয়াল দিয়ে মোড়ানো। নগ্ন ঊর্ধ্বাঙ্গএ জলের বারি ধারা টপ টপ করে পড়ছে। মারিয়ার গলা শুকিয়ে এলো। অজান্তেই সে ইউভান এর সিক্ত পুরুষালি শরীর প্রত্যক্ষ করে গাল গরম হয়ে এলো তার। এখনও ঠিক আগের মতোই। একটুও কোনো বদল নেই। কেবল বয়সের সাথে সাথে বুকের রোম গুলো সাদা কালো রঙ ধারণ করেছে। মারিয়া নিজের ঠোঁট দিয়ে জিভ ভিজিয়ে নিল। কিন্তু যখন টের পেল এতক্ষণ সে ইউভান কে চেক আউট করছিল ওমনি সে ইউভান এর সাথে দৃষ্টি নিবদ্ধ করতেই ইউভান এর ঠোঁটের কোণে মোহনীয় হাসি ফুটে উঠল যা অজান্তেই মারিয়ার কান লালচে রঙ ধারণ করে। তার শরীর অব

শ হয়ে আসে। তার স্মৃতি থেকে যেনো গত পাঁচবছরের স্মৃতি ঝাপসা হয়ে আসছে ক্রমশ!

Write a comment ...

Write a comment ...