“Sorry to interrupt, boss. But Mr. Harrison is looking for you.”
ডেভিডের কণ্ঠ শুনেই ইউভান এক পা পিছিয়ে গেল মারিয়ার কাছ থেকে। মারিয়া তখনও নিজের স্থানে কাপছে। কিছুক্ষণ আগের ঘনিষ্ঠতায় মনে হচ্ছে তার শরীর কাজ করছে না। দূরত্ব বজায় রেখে ইউভান দাঁড়িয়ে নিজের চিরাচরিত গম্ভীর কণ্ঠে বলল,
“Come in.”
দরজা খুলে ভেতরে ঢুকল ডেভিড। তার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি একবার মারিয়ার দিকে পরখ করে তারপর ইউভানের দিকে ফেরাল। মারিয়া ডেভিড এর দৃষ্টি লক্ষ্য করল নিজের প্রতি। অদ্ভুত ভাবে অসঙ্কোচ লজ্জায় তার শরীর সিঁটিয়ে আসতে চাইছে। ডেভিড কি না কি ভাবছে তাকে! এমনিতেই সে ডেভিড এর নজরে ছিল।
ইউভান বিরক্ত মুখে ঘড়ির দিকে তাকাল।
“I'm coming.”
তারপর আবার চোখ গেল মারিয়ার দিকে। কন্ঠ নরম হয়ে এলো তার।
“তুমি ঠিক আছো?”
মারিয়া দ্রুত মাথা নাড়ল।
“জি, স্যার।”
কিন্তু ডেভিড লক্ষ্য করল। মেয়েটার হাত এখনও কাঁপছে। তারপর ইউভান এর ব্যবহার অদ্ভুত লাগল তার নিজের কাছে।
ইউভান কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থেকে বলল,
“ডেভিড, ওকে বাইরে পর্যন্ত পৌঁছে দাও।”
“Sure, boss.”
মারিয়ার বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল।
ডেভিডের সঙ্গে একা যেতে তার মোটেও ভালো লাগবে না।
" স্যার তার দরকার নেই । আমি চলে যাচ্ছি"
মারিয়া কথা টি বলার পর বুঝতে পারল কতটা ভুল করেছে।
" I hate when people don't obey me !!"
ইউভান এর তীক্ষ্ম কন্ঠে মারিয়া চমকে উঠলো। ইউভান কোনো রকম কথা না বলে হন হন করে বেরিয়ে যায়। ডেভিড আর মারিয়া সেখানে দাঁড়িয়ে রইল।
---
করিডোরে বের হতেই দুজনের মাঝে নীরবতা নেমে এলো।
কিছুদূর হাঁটার পর ডেভিড হঠাৎ বলল,
“তুমি অনেক মিথ্যে বলো, মিস ক্লার্ক।”
মারিয়ার পা থমকে গেল।
“Excuse me?”
“তুমি বলেছিলে তোমার ফ্যামিলি তে কেউ নেই।"
“নেই তো!"
মারিয়া মিনমিনে গলায় বলল।
“Interesting.”
ডেভিড মৃদু হেসে উঠল।
“তাহলে প্রায় একদিন পর পর নির্দিষ্ট সময়ে একটি স্থানে যাওয়া হয় কেনো শুনতে পারি মিস ক্লার্ক ?"
মুহূর্তেই মারিয়ার মুখের রঙ বদলে গেল।
কারণ সে। চায় না তার আয়রা কে এসব এর মধ্যে জড়াতে। কেউ যাতে না জানে তার অস্তিত্ব। নয়তো এত লড়াই এতো কষ্টের দাম টা কোথাই থাকল।
ডেভিড তার প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করল।
“Good night, Miss Clark.”
এটুকু বলেই সে চলে গেল।
কিন্তু মারিয়ার বুকের ভেতর ঠান্ডা একটা ভয় জমে রইল। ডেভিড সন্দেহ করছে। যদি সে সত্যিই জেনে যায় আয়রার কথা! এক মিনিট? সে রাতে ডেভিড ও সাক্ষী ছিল রেহান এর বিশ্বাস ঘাতকতার। তবে? হতে পারে মিহিরিমা ভুল করেছিল বিশ্বাসঘাতক ছিল নিজের স্বামীর বিরুদ্ধে কিন্তু রেহান তার সৎ ভাই। ডেভিড তো নিজেও জানে তবুও কেনো চুপ? কি হচ্ছে টা কি এখানে? পাঁচ বছরে যেনো মিহিরিমার সমস্ত চিহ্ন তাদের জীবন থেকে মুছে গিয়েছে।
---
রাতে ডেভিড অফিসের চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে ছিল।টেবিলের ওপর একটা ফাইল রাখা।
ফাইলের উপরে বড় অক্ষরে লেখা—
MARIA CLARK
সে ধীরে ধীরে পাতা উল্টাতে লাগল।জন্ম তারিখ।
পাসপোর্ট।কর্মস্থল।সব ঠিক আছে।অস্বাভাবিক কিছু নেই। কেবল পারিবারিক তথ্য ছাড়া।
কিন্তু শেষ পাতায় এসে তার চোখ থেমে গেল।
“That's impossible...”
ফাইলের সঙ্গে যুক্ত একটি পুরোনো হাসপাতালের রিপোর্ট। ডেট টা পাঁচ বছর আগের সেই অভিশপ্ত দিন টা। যেদিন থেকে আজ পর্যন্ত তাকে প্রতিনিয়ত দম আটকে থাকতে হচ্ছে। কেবল মাত্র দু টো মানুষের দোহায় দিয়ে।
ডেভিডের শ্বাস ভারী হয়ে উঠল।
“না... এটা হতে পারে না।”
পাঁচ বছর আগে এই দিনেই তো মিহিরিমা ম্যাম এর ডেডবডি পচা গলা দেহ নদীর পাড়ে পাওয়া গিয়েছিল। রেহান ডিউক নিজে যার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। ডেভিড তিক্ত হাসল। সেই দিন এর পর থেকেই তার পায়ে লোহার শেকল পরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। যা ভাঙার ক্ষমতা তার নেই। ইউভান এর প্রাণ বাঁচাতে নিজের সমস্ত সত্ত্বা বেঁচে দিয়েছিল সেদিনই!
" মারিয়া ক্লার্ক কে তুমি আসলে ?"
---
"Farhan is finally back in London" ,
ইসাবেলা কথা টি বলেই উচ্ছ্বসিত হয়ে জড়িয়ে ধরল তার স্বামী রেহান কে। রেহান এর ঠোঁটেও খুশির ঝলক। ছেলে এত দিন দুবাই এ ছিল দুবছর ধরে।
" এবার আমাদের বিয়ে টা হবে তো দি? "
লারা বিছানায় শরীর টা এলিয়ে বলল। ইসাবেলা ফিক করে হাসল, আরে ফারহান এর জন্যই বিয়ে টা লেট করছিলাম আর বেশিদিন নেই। তুই হয়ে যাবি লারা ইউভান ডিউক।
ইসাবেলা সোফায় হেলান দিয়ে বসে ছিল। হাতে ওয়াইনের গ্লাস। তার ঠোঁটের কোণে আত্মতৃপ্তির হাসি।
“তুই বুঝতে পারছিস না লারা, আর কয়েকটা মাস। তারপর সবকিছু আমাদের পরিকল্পনা মতোই হবে।”
লারা কৌতূহলী চোখে তাকাল।
“কিন্তু একটা বিষয় এখনও বুঝি না। ইউভানের এত সম্পত্তি, এত কোম্পানি... বিয়ের পর তো সেগুলোর মালিক আমিই হব, তাই না?”
কথাটা শুনে রেহান তিক্ত হেসে উঠল।
“এত সহজ না।”
“মানে?”
রেহান টেবিলের ওপর আঙুল ঠেকিয়ে কাগজ গুলো কে ইঙ্গিত করে বলল,
“ডিউক পরিবারের উত্তরাধিকার আইন সাধারণ পরিবারের মতো নয়। ইউভানের ব্যক্তিগত সম্পদের একটা অংশ স্ত্রী পেতে পারে ঠিকই। কিন্তু পুরো সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকার নির্ধারণ হয় রক্তের সম্পর্ক অনুযায়ী।”
লারার ভ্রু কুঁচকে গেল।
“স্পষ্ট করে বলো।”
ইসাবেলা এবার গ্লাস নামিয়ে রাখল।
“তার মানে, ভবিষ্যতে ইউভানের বৈধ সন্তানই হবে প্রধান উত্তরাধিকারী।”
ঘরের ভেতর কয়েক সেকেন্ড নীরবতা নেমে এলো।
লারা কুটিল হেসে উঠল রীতিমতো
“তাহলে তো আরও ভালো। বিয়ের আগেই যদি আমি তার সন্তান এর মা হয়ে যাই?"
“Exactly.”
ইসাবেলার চোখে অদ্ভুত ঝিলিক ফুটে উঠল।
“বোর্ড অফ ট্রাস্টিজ, ফ্যামিলি ফাউন্ডেশন, ডিউক হোল্ডিংস—সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ শেষ পর্যন্ত পরবর্তী প্রজন্মের হাতে যাবে।”
রেহান গম্ভীর গলায় বলল,
“সেই কারণে ইউভানকে বিয়ে করা এত গুরুত্বপূর্ণ।”
“আর যদি...” লারা একটু থামল, “যদি ওই মেয়েটার সন্তান বেঁচে থাকতো সেই হতো এই সম্পদ এর উত্তরাধিকারী তাই না!"
প্রশ্নটা শুনে ইসাবেলা আর রেহান দুজনেই একে অপরের দিকে তাকাল।
এক মুহূর্তের জন্য ঘরের পরিবেশ বদলে গেল।
তারপর ইসাবেলা রাগে চোয়াল শক্ত করে বলল।
“অসম্ভব।”
“কেন?”
“ ওই মেয়েটা মারা গিয়েছে সেদিনই। ওর পেটের সন্তান ও শেষ হয়ে গিয়েছিল। "
রেহানও মাথা নাড়ল।
“আর পাঁচ বছর আগের যে খেলা টা শুরু হয়েছিল অবশেষে আর কিছুদিনের মধ্যে তা পূর্ণতা পাবে!"
কথাটা বলেই সে উঠে দাঁড়াল।
কিন্তু কেউ খেয়াল করল না।
দরজার বাইরে করিডোরে দাঁড়িয়ে থাকা এক স্টাফ তাদের কথার শেষ অংশটা শুনে ফেলেছে।
আর সেই স্টাফের হাতে ধরা ট্রেটা কাঁপছে।
“আর পাঁচ বছর আগে যা হওয়ার ছিল, তা হয়ে গেছে।”
রেহানের কথাটা শেষ হতেই দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটার হাত থেকে ট্রেটা প্রায় পড়ে যাচ্ছিল।
স্টাফ টির নাম সোফিয়া।মাত্র তিন মাস হয়েছে Duke Mansion-এ কাজ করছে।
সে মূলত ইসাবেলার জন্য চা নিয়ে এসেছিল। কিন্তু ভেতরে কথোপকথন শুনে অজান্তেই দাঁড়িয়ে পড়েছিল।
“উত্তরাধিকারী...?”
মেয়েটা ফিসফিস করে বলল।ঠিক তখনই—
ক্যাঁচ! শব্দ করে তার মুখের সামনে দরজা টা খুলে যায়।
সোফিয়ার বুক ধক করে উঠল।সামনে দাঁড়িয়ে আছে ইসাবেলা। তার ঠোঁটে হাসি নেই।চোখ দুটো বরফের মতো ঠান্ডা।
“তুমি এখানে কী করছো?”
সোফিয়ার গলা শুকিয়ে গেল।
“ম-ম্যাম... আমি শুধু—”
“শুধু কী?”
ইসাবেলা এক পা এগিয়ে এল।মেয়েটা ভয়ে কাঁপতে লাগল।
“আমি কিছু শুনিনি ম্যাম।”
“আমি তো এখনও জিজ্ঞেসই করিনি তুমি কী শুনেছো।”
মুহূর্তেই সোফিয়ার মুখের রং উধাও হয়ে গেল।
ঘরের ভেতর রেহান ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল।
তার মুখও গম্ভীর।
“ভেতরে নিয়ে আসো ওকে।”
তারপর ঘরের ভেতর থেকে বীভৎস একটি চিৎকার এর শব্দের পর সব চুপ। দরজার কোণ বেয়ে রক্তের ধারা বেরিয়ে এলো। এরপর নীরবতা হঠাৎ পুরো করিডোর এ গ্রাস করে নিল যেন কিছুই হয় নি।
---
নিজের বরাদ্দ ঘরে মারিয়ার ঘুম যেন চোখেই নামছে না।বিছানায় শুয়ে বারবার এপাশ-ওপাশ করছে সে। অবশেষে বিরক্ত হয়ে ফোনটা হাতে নিল।স্ক্রিন জ্বলে উঠতেই জেকবের মেসেজ দেখে তার ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠল।
জেকব এখন নিউজিল্যান্ডে।
মেসেজটা কয়েক মিনিট আগেই এসেছে—
"Darling, everything fine na?"
মারিয়া দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
তারপর রিপ্লাই করল—
"Fine, Jacob. Relax."
মেসেজটা পাঠালেও নিজের মনকে সে ফাঁকি দিতে পারল না।এখানে কিছুই ঠিক নেই।গ্র্যানির অদ্ভুত স্মৃতিভ্রংশ।আর ইউভান...মানুষটা যেন অজান্তেই তার চারপাশের দেয়ালগুলো ভেঙে দিতে চাইছে।
এরপর এমার সঙ্গে দশ মিনিট কথা বলল সে।
আয়রার কথা শুনেই বুকটা মোচড় দিয়ে উঠল।
এতদিন হয়ে গেছে।কাল যেভাবেই হোক সে তার মেয়েকে দেখতে যাবে।আর অপেক্ষা করা সম্ভব নয়।কল কেটে যাওয়ার পরও অনেকক্ষণ ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল মারিয়া।
হঠাৎ টক... টক...
দরজায় মৃদু শব্দ হলো।মারিয়ার বুক ধক করে উঠল।ঠিক সেদিন রাতের মতো।ঘড়ির দিকে তাকাল।রাত দুটো বাজে।
“কে?”
সে সতর্ক গলায় জিজ্ঞেস করল।কোনো উত্তর এল না।কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।
তারপর আবার—
টক... টক...
মারিয়ার শরীরের লোম দাঁড়িয়ে গেল।
ধীরে ধীরে বিছানা থেকে নেমে দরজার দিকে এগোল সে।হাত বাড়িয়ে নব ঘুরাল।দরজা খুলতেই করিডোরের ফাঁকা অন্ধকার সামনে ভেসে উঠল।
কেউ নেই।একদম কেউ না।মারিয়ার কপালে ভাঁজ পড়ল।
ঠিক তখনই—
“ এই নাও তোমার ওয়ার্ক লিস্ট।”
হঠাৎ পাশ থেকে ফিসফিস আওয়াজ ভেসে আসতেই সে প্রায় চিৎকার করে উঠেছিল।
ঘুরে তাকিয়ে দেখল—
রোজি।
যে আগে তার সর্বক্ষণ সঙ্গী ছিল। মারিয়ার বুকের ভেতর প্রচণ্ড উত্তেজনা তৈরি হলো। মনে হচ্ছিল রোজি কে জাপটে জড়িয়ে ধরতে। জিজ্ঞেস করতে সে কি তাকে ভুলে গিয়েছে?
মেয়েটা দেয়ালের সঙ্গে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
মারিয়া বুকের ওপর হাত চাপল। এত রাতে রোজি কে দেখে তার সত্যি ভয় লেগেছে।
“হে ভগবান! তুমি আমাকে ভয় পাইয়ে দিয়েছো।”
রোজি মুখ চেপে হাসল।
“সরি। কিন্তু তোমার মুখের এক্সপ্রেশনটা দেখার মতো ছিল।”
মারিয়া এবার বিরক্ত মুখে তাকাল।
“এই সময় এখানে কি করছো?”
রোজি চারপাশে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল—
“ আমি ডেভিড স্যার এর হয়ে কাজ করি। এখন আমার কাজ শেষ হলো তাই ইসাবেলা ম্যাম এর অর্ডার মতো এটা দিতে এলাম। আর দেখতে এলাম নতুন স্টাফ কে।
“কি কিন্তু এত রাতে এভাবে!"
মারিয়ার চোখে মুখে বিরক্তি স্পষ্ট!
রোজি কাঁধ ঝাঁকাল।
“এই বাড়িতে রাত-দিন বলে কিছু নেই। যখন যার ইচ্ছে অর্ডার দেয়, তখনই কাজ করতে হয়।”
মারিয়া ফাইলটা নিল। কিন্তু তার দৃষ্টি আটকে আছে রোজির মুখে।
পাঁচ বছর।পুরো পাঁচ বছর পর সে নিজের সবচেয়ে কাছের মানুষগুলোর একজনকে সামনে থেকে দেখছে।এক সময় রোজি ছায়ার মতো তার সঙ্গে থাকত।
কিন্তু আজ...আজ সে তাকে চিনতেই পারছে না।
বুকের ভেতরটা হঠাৎ মোচড় দিয়ে উঠল মারিয়ার।
ইচ্ছে করছিল এক ঝটকায় জড়িয়ে ধরে বলতে—
"রোজি, আমি মিহিরিমা!"
কিন্তু সে পারল না।পারবে না।কারণ একটা ভুল মানেই সব শেষ।
“আচ্ছা, তুমি নতুন এসেছো তাই না?”
রোজির প্রশ্নে সম্বিৎ ফিরল তার।
“হ্যাঁ।”
“কতদিন হলো?”
“দুদিন।”
“ওহ।”
রোজি মাথা নাড়ল।
তারপর হঠাৎ কয়েক সেকেন্ড চুপ করে মারিয়ার দিকে তাকিয়ে রইল।এমনভাবে তাকাচ্ছে যেন কিছু একটা ভাবছে।মারিয়ার গলা শুকিয়ে এলো।
সে কি কিছু বুঝে ফেলল?
না...অসম্ভব। তার মুখ বদলে গেছে।নাম বদলে গেছে।পাঁচ বছর অনেক বড় সময়।
“কি হলো?”
স্বাভাবিক গলায় জিজ্ঞেস করল মারিয়া।
রোজি ভ্রু কুঁচকাল।
“অদ্ভুত।”
“কি অদ্ভুত?”
“তোমার চোখ দুটো।”
মুহূর্তেই মারিয়ার শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল।
“আমার চোখ?”
“হুম।”
রোজি ধীরে ধীরে এগিয়ে এলো।
“জানি না কেন... কিন্তু খুব চেনা চেনা লাগছে।”
মারিয়ার আঙুলগুলো অজান্তেই শক্ত হয়ে গেল।
“হয়তো ভুল দেখছো।”
“হতে পারে।”
রোজি হাসল।
“কিন্তু আমি কাউকে চিনতাম... যার চোখ একদম তোমার মতো ছিল।”
এইবার মারিয়ার শ্বাস আটকে গেল।
“কে?”
" আমার বড় দিদির মতো ছিল সে। মিহিরিমা ম্যাম! আচ্ছা তুমি কি মিহিরিমা ম্যাম?"
রোজির প্রশ্নে মারিয়ার মুখের রঙ বদলে গেল। গলা শুকিয়ে এলো।
" আমি .."
To be continued,
Write a comment ...