" মিসেস আলেকজেন্দ্রি আপনার ব্রেকফাস্ট"
বৃদ্ধ মহিলা টি বিছানায় নড়ে চড়ে বসলেন মিষ্টি আওয়াজ টি শুনে চোখ খুলতেই নতুন আসা কেয়ার টেকার টিকে দেখে ওনার মুখে হাসি ফুটল।
" মারিয়া একদম ঠিক টাইমে এসেছো। "মিসেস আলেকজেন্দ্রি মৃদু হেসে মারিয়ার হাত টেনে তাকে বসতে বললেন। মারিয়া ইতস্তত বোধ করল একটু। তবে হঠাৎ বৃদ্ধা কাপা গলায় বললেন , তুমি আমায় খাইয়ে দেবে মারিয়া। আমার না খুব দুর্বল লাগছে।
মারিয়ার প্রচণ্ড মন খারাপ হলো। ঠোঁট কামড়ে চোখের জল মুছে ফেলল দ্রুত। তারপর কোনো দ্বিধা না করেই চামচ দিয়ে তুলে গ্র্যনি কে নিজের হাতে খাইয়ে দিতে থাকল সে। মারিয়ার বুক টা ফেঁটে যায় এই মানুষটার সামনে আসলে মাঝেমাঝে। ইউভান কে বাদ দিলেও গ্র্যাণি কি করে মিহিরিমা কে ভুলে গেল সহজে? আচ্ছা ওনার কি মনে পড়ে মিহিরিমার কথা!
" বেটা তোমার গলায় ওটা কিসের দাগ ?"
মিসেস আলেকজেন্দ্রি এর কথায় মারিয়া থমকাল। গলায় ওড়না সরে যাওয়ায় হয়তো চিহ্ন টা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে । শুকনো ঢোক গিললো সে। কালকে রাতের ঘটনায় সে নিজেও গুটিয়ে রয়েছে। একটু হলে তো তার প্রাণ টাই চলে যেতো। জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিল সে। সকালে উঠে নিজেকে মেঝে তে আবিষ্কার করেছিল। কেউ তাকে চিনে ফেলেছে? না এমনটা কখনওই সম্ভব নয়। কিন্তু কে তাকে মারতে চেয়েছে কালকে তবে?
" ম্যাম এটা র্যাশ থেকে হয় আমার মাঝে মাঝে ডোন্ট ওয়ারি!"
মারিয়া কথা টি বলেই স্যুপ চামচে করে গ্র্যাণীর মুখের সামনে তুলে ধরল। বৃদ্ধা টি অবুঝ শিশুর মতো সবটা শেষ করে দিল। মারিয়ার ওনার অবস্থা দেখে বুক টা ফেঁটে যাচ্ছে। পাঁচ বছর আগেও তো সব ঠিক ছিল। তবে এখন কেনো গ্র্যাণীর অবস্থা এরকম! এত শক্তিশালী ব্যক্তিত্বের মহিলা টি আজ শিশুর মতো হয়ে গিয়েছে অসুখে।
মারিয়া তারপর ওষুধ এর প্যাকেট গুলো ডাক্তার এর কথা মতো এক এক করে ওনার হাতে তুলে দিল। কিন্তু গ্র্যাণী হঠাৎ সব গুলো ছিটকে ফেলে চিৎকার করে উঠল, না আমি খাবো না এগুলো। আমার শরীর জ্বালা করে। মাথা ভার হয়ে আসে। কত বার বলেছি এই ওষুধ আমি খাবো না"
মারিয়া ভয় পেয়ে ওনাকে শান্ত করার চেষ্টা করলেন কিন্তু গ্র্যাণীর স্বভাব যেনো আরও ভায়োলেন্ট হয়ে এলো। নীচ থেকে ইসাবেলা লারা আর তাদের স্টাফ রা প্রায় ছুটে এসেছে। ভেতরে প্রবেশ করতেই লারা কড়া নজরে তাকাল মারিয়ার দিকে। মারিয়া দাঁতে দাঁত চেপে সরে এলো গ্র্যণীর কাছ থেকে। ইসাবেলা কে দেখেই যেনো গ্র্যণী আরও প্যানিক করে উঠল। মারিয়া নিজের স্থানে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে রইল
" গ্র্যাণী প্লীজ বাচ্ছামি করো না। ইউভি যদি শোনে তুমি এমন টা করেছো ও কতটা কষ্ট পাবে?
মিসেস আলেকজেন্দ্রি এবার হুহু করে কেঁদে উঠলেন, আমার ইউভি আমার নাতি কে ডেকে আনো। আমি এই ওষুধ খাবো না।
ইসাবেলা বিরক্ত হয়ে স্টাফ দের চোখের ইশারা করতেই দুজন ওনাকে চেপে ধরল শক্ত করে। তারপর হঠাৎ ইসাবেলা পেছনে ঘুরে হিসহিসিয়ে বলল, এই মেয়ে বেরিয়ে যাও এখান থেকে। লারা তুইও । এরপর ২ ঘণ্টা যেনো ওনার ঘরে কেউ না আসে।
মারিয়া প্রথমে যেতে না চাইলেও লারার বেরিয়ে যাওয়া দেখে সেও বেরিয়ে গেল। করিডোর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে সে ভাবছিল ইসাবেলা করতে কি চাইতে গ্র্যাণীর সাথে। আর গ্র্যাণী কেনো ভয় পাচ্ছে ওষুধ এ। ওষুধ ঠিক মতো খেলে তিনি ঠিক ও তো হতে পারেন! সে হাঁটতে হাঁটতে সে খেয়াল করে নি করিডোর এর শেষ মাথায় ইউভান এর রুমটির সামনে চলে এসেছে। এক মিনিট ঘরের দরজা টা হাল্কা খোলা রয়েছে! মারিয়া প্রথমে উপেক্ষা করে চলে চাইলেও দু কদম এগিয়ে তার পা এর গতি থেমে যায় কারণ রুম থেকে ভেসে আসা একটি মেয়েলি কন্ঠ পেয়ে।
মারিয়া হাতের মুঠো শক্ত করে এক বুক নিশ্বাস নিয়ে দরজার একদম কাছে এসে দাঁড়ায়। ভেতরের দৃশ্য টি দেখে সে থমকে গেল।
ইউভান এর উপরের অংশ অনাবৃত তার প্রশস্ত পেশিবহুল বক্ষ কে এত বছর পর দেখে মারিয়া শুকনো ঢোক গিললো। সেই অবস্থায় আয়নায় চুল ঠিক করছে। হয়তো রেগুলার জিম এর কারণে তার পিঠের পেশিগুলো আরও আকর্ষণীয় লাগছে তার কাছে। লারা তাকে পেছন থেকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছে। আয়নায় লারার হাত ইউভান এর বক্ষে অবাধ বিচরণ করছে। লারার স্তন ও ইউভান এর পৃষ্ঠ দেশের সাথে পিষ্ঠ হচ্ছে। আর লারা ডেসপারেট ভাবে ইউভান এর পিঠে চুম্বন এঁকে যাচ্ছে।
মারিয়ার যেনো মনে হলো তার শরীর জ্বলে যাচ্ছে রাগে । দিশা না পেয়ে হুট করে সামনের একটি টেবিল থেকে কাচের প্লেট সেট টি তুলে পুরো টাই দরজার সামনে ফেলে দিল। ঝন ঝন ভাঙার শব্দে মুহূর্তেই পরিবেশ টি কেঁপে উঠল। মারিয়া ঠায় দাঁড়িয়ে রইল সেখানে। দরজা খুলল। প্রথমেই লারা ছুটে আসল। মারিয়া জানত ।
" Are you fucking crazy hhuh bitch? এগুলো ভাঙলো কি করে ? প্রথম দিন থেকে আসার পর একটা না একটা কাণ্ড করেই যাচ্ছে!!"
মারিয়া মিনমিনে গলায় বলল, আম সরি ম্যাম। এগুলো হাত থেকে ভুলবশত পরে গিয়েছে!
মারিয়ার মাথা নিচু চোখে জল গড়িয়ে পড়ছে। লারার যেনো রাগে মাথা ফেটে যাচ্ছে এর জন্য তার ইউভান এর সাথে মুহূর্ত টা নষ্ট হলো। লারার নিজের হাত উঁচিয়ে মারিয়া কে মারতে উদ্যত হলেও মারিয়া স্থির দাঁড়িয়ে রইল পিছিয়ে গেল না। কিন্তু মারিয়া নিজের ওপর কোনো প্রহার অনুভব না করায় মাথা তুলে দেখল ইউভান লারার হাত শক্ত করে ধরে আছে। তার দৃষ্টি কড়া।
" আমার বাড়ির স্টাফ দের সাথে তুমি কোন সাহসে এমন বিহেভ করো? যাও তুমি নিজের স্টাফ দিয়ে এগুলো পরিষ্কার করাবে এখন! "
" বেবী আর ইউ ক্রেজি! ওকে আম সরি। .."
ইউভান মুখের সামনে দরজা বন্ধ করে দিলো লারার। লারা রীতিমত পাগল এর মতো দরজায় কড়া নাড়ছে। চিৎকার করছে কিন্তু ইউভান খোলে না দরজা টি
মারিয়া কিছুটা দূরেই দাঁড়িয়ে ছিল পেছন ঘুরে নিজের রুমের উদ্দেশ্যে হাঁটা দিলো। অদ্ভুত ভাবে হলেও আজ তার ঠোঁটের কোণায় মৃদু হাসি লেগে আছে।
_______________________________________
" আবারও বলছি মেনশন এর টেরেসে কখনোই যাবে না। এটা নিষিদ্ধ। নয়তো ইসাবেলা ম্যাম চাকরি থেকে বরখাস্ত করে দেবে!"
স্টাফ দের ইনস্টেক্টর ইয়াসমিন প্রত্যেক দিনের মতো আজও সকল স্টাফ দের একই কথা বলল। মারিয়াও ছিল সেখানে। মেনশেন এর টেরস এ কি আছে সে জানে না কিন্তু বড্ড কৌতূহল জেগে ওঠে তার মাঝে কিসের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে কাউকে যেতে!
অদ্ভুত ভাবেই মারিয়ার মাঝে প্রথম দিনের অসহায়তা কাজ করছে না। তার মনের এক কোণে জেগে উঠেছে ভিন্ন ভাবে। কিছু একটা তো বিষয় রয়েছে সকলের আড়ালে। যা কেউ জানে না। এই রহস্য উন্মোচন এর কৌতূহল কে বলতে পারে তার জীবন
কোন দিশায় নিয়ে যায়!
চলবে!
কেমন লাগছে জানাবেন
Write a comment ...