66

Mr prince 🥀

“Have we met before?”

ঘরের বাতাস যেন হঠাৎ ভারী হয়ে উঠল।

মারিয়া ধীরে ধীরে হাতের মুঠো শক্ত করল।না… এটা সম্ভব নয়।ইউভান তাকে চিনতে পারবে না।

চিনতে পারার কথাও নয়।তার মুখ বদলে গেছে।

তার পরিচয় বদলে গেছে।পুরো পৃথিবীর কাছে মিহিরিমা অনেক আগেই মৃত।

তবুও…

" Darling she is our new caretaker for granny!!"

লারা তার নিজের শরীর টি দোদুল্যমান গতি তে ভেতরে প্রবেশ করে ইউভান এর ডান হাতের বাহু শক্ত করে আঁকড়ে ধরল।  যেনো ইউভান কে ছাড়লেই সে তাকে হারিয়ে ফেলবে।

মারিয়ার বুকের ভেতর মোচড় দিয়ে উঠল।

লারা ঠোঁটে হাসি টেনে বলল,

“Baby, তুমি আবার staff-দের নিয়ে interrogate করা শুরু করলে নাকি?”

ইউভান ভ্রু কুঁচকে তার দিকে তাকাল।

“আমি শুধু একটা প্রশ্ন করেছি।”

“Exactly.”

লারা এবার মারিয়ার দিকে তাকাল।তার চোখে স্পষ্ট আক্রোশ!

“আর সে তার উত্তর দিয়েছে কি?”

মারিয়া দ্রুত মাথা নাড়ল। তার সারা শরীর থরথর করে কাপছে।

“No, sir.”

তার কণ্ঠটা কাঁপছিল। মনে হচ্ছিল ছুটে পালিয়ে যেতে এদের মাঝ থেকে। আয়রা কে নিয়ে অনেক দূরে ।

“আমি আগে কখনও আপনাকে দেখিনি।”

কথাটা বলার সময় মনে হচ্ছিল বুকের ভেতর কেউ ছুরি চালিয়ে মারিয়ার।কারণ সত্যিটা সম্পূর্ণ উল্টো।সে শুধু ইউভানকে দেখেনি।সে তাকে ভালোবেসেছিল। এই ব্যক্তি টি তাকে  বিয়ে করেছিল।তার সন্তানের জন্ম দিয়েছিল সে।

ইউভানের বুকের ভেতর অদ্ভুত একটা অনুভূতি হলো।কথাটা শুনে কেন যেন বিরক্ত লাগল তার।

সে নিজেও জানে না।

“See?”

লারা হেসে উঠল।

“Now can we stop this?”

ইউভান বিরক্ত কন্ঠে বলল। তারপর আর একবারও মারিয়ার দিকে না তাকিয়ে গিয়ে গ্র্যানির পাশে বসে পড়ল।ধীরে বৃদ্ধার কুঁচকানো হাতটা নিজের হাতে তুলে নিল সে।

“Granny…”

মিসেস আলেকজেন্দ্রি তখন আধো ঘুমে ছিলেন। কিন্তু ইউভানের কণ্ঠ শুনতেই ঠোঁটের কোণে ক্ষীণ হাসি ফুটে উঠল।

“ইউভি…”

ইউভান নিচু হয়ে তার হাতের পিঠে ঠোঁট ছোঁয়াল।

দৃশ্যটা দেখে লারা তৃপ্তির হাসি হাসল।যেন সে ইতিমধ্যেই এই পরিবারের ভবিষ্যৎ গৃহকর্ত্রী।তারপর হঠাৎ করেই মারিয়ার দিকে ফিরে কড়া গলায় বলল,

“তুমি এখনও দাঁড়িয়ে আছো কেন?”

তার চোখদুটো তীক্ষ্ণ হয়ে উঠেছে।

“Get out.”

মারিয়া আর এক মুহূর্তও দাঁড়াল না। দ্রুত দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে গেল।দরজাটা বন্ধ হতেই তার বুকের ভেতর জমে থাকা কান্নাটা গলায় দলা পাকিয়ে উঠল।সে দ্রুত করিডোর পেরিয়ে হাঁটতে লাগল হন্ত দন্ত হয়ে।না।সে এখানে এক মুহূর্তও থাকতে চায় না।কিন্তু ভাগ্য যেন বারবার তাকে এই বাড়ির সঙ্গে বেঁধে ফেলছে তাকে!

লন্ডনের আকাশ আজ অস্বাভাবিক পরিষ্কার।

দুপুরের দিকে ইউভানের কালো Rolls-Royce এসে থামল শহরের অন্যতম অভিজাত Boarding School-এর সামনে।Duke Foundation-এর অর্থায়নে চলা স্কুলগুলোর বার্ষিক পরিদর্শনে এসেছে সে।তার সঙ্গে রয়েছে ডেভিড এবং আরও কয়েকজন কর্মকর্তা।

Principal নিজে গেটের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

“Welcome, Mr. Duke.”

ইউভান শুধু মাথা নাড়ল।

“Let’s begin.”

তারপর তারা স্কুলের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখতে লাগল।লাইব্রেরি।Science Lab।Sports Complex।সবকিছু মনোযোগ দিয়ে দেখছিল ইউভান।কিন্তু অদ্ভুতভাবে তার মন আজ অন্য কোথাও আটকে আছে।

বারবার সেই অচেনা caretaker-এর চোখদুটো  যেনো কোথাও দেখছে!আর সেটা তাকে আরও বিরক্ত করে তুলছে। এক্সিন্ডেটের পর তার জীবন থেকে অনেক গুলো বছর এর স্মৃতি নেই। যার জন্য তার ভেতরে মাঝে মাঝে এই জিনিস টা কাজ করে, কারোর সাথে দেখা হলেই মনে হয় কোথাও দেখেছে তাকে! ব্যাস তার পর মাথার পেছনে দশ টা সেলাই এর জায়গা টি তে অসহ্য ব্যথার আবির্ভাব! ইউভান এর মনেও নেই কেনো তার এক্সিডেন্ট হয়েছিল। যেখানে তার এত নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও। তবে এই টুকু বোঝে সে ভেতর ভেতর কিছুটা হলেও দুর্বল হয়ে পড়েছে। যেনো তার জীবনের অনেক বড় অংশ তার কাছে নেই।

এসব ভাবনার মাঝেই,

করিডোরের একপাশ থেকে শিশুর উচ্চস্বরে কান্নার শব্দ ভেসে এলো।

ইউভান থেমে গেল।

“What’s that?”

Principal বিব্রত মুখে বললেন,

“Probably one of the students.”

কিন্তু ইউভান ইতিমধ্যেই শব্দের দিকে হাঁটা শুরু করেছে।করিডোরের শেষ মাথায় একটা ছোট্ট মেয়ে মাটিতে বসে কাঁদছে।বয়স পাঁচ কি ছয় হবে ।চোখভর্তি জল।হাতে আঁকড়ে ধরা একটা ছোট্ট আঁকার খাতা।

ইউভান ভ্রু কুঁচকাল।

“Why is she alone?”

একজন teacher তাড়াহুড়ো করে এগিয়ে এলেন।

“I’m sorry, sir. ওর কোনো ফ্রেন্ড নেই, ও এখানে আসার পর থেকে একা একাই থাকে। ও পড়ে গিয়ে হাঁটুতে একটু আঘাত পেয়েছে।”

মেয়েটা তখনও নাক টানছে।ইউভান কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল।অদ্ভুতভাবে তার বুকের ভেতর একটা অনুভূতি কাজ করল।সাধারণত বাচ্চাদের সঙ্গে তার বিশেষ যোগাযোগ নেই।

তবুও…কেন যেন এই ছোট্ট মেয়েটাকে দেখে দৃষ্টি সরাতে পারছে না।

সে ধীরে নিচু হয়ে বসল।

“What’s your name?”

মেয়েটা চোখ মুছে তাকাল।বড় বড় ধূসরাভ চোখ যেমন টা ইউভান এর নিজের রয়েছে।অস্বাভাবিক সুন্দর।

বাচ্চা টি নিজের মনে বিড়বিড় করল, মাম্মা বলে অপরিচিত ব্যক্তি দের নিজের বিষয়ে কখনও বলতে নেই। , সে আমতা আমতা করে বলল, সিনড্রেলা…আ

মুহূর্তেই ইউভানের বুকের ভেতর অদ্ভুত একটা  ভালোলাগা কাজ করল।

“ সিন্ড্রেলা প্রিন্সেস এর নামে?”

মেয়েটা মাথা নাড়ল।

“হুম।”

“Why are you crying?”

মেয়েটি ঠোঁট ফুলিয়ে বলল,

“I fell.”

“That’s all?”

“না!”

সে আরও জোরে বলল।

“আমার drawing-টাও নষ্ট হয়ে গেছে!”

এবার ইউভানের চোখ গেল খাতার দিকে।পাতায় আঁকা একটা ছবি।একজন মহিলা।আর একটা ছোট্ট মেয়ে।দুজনের হাত ধরে দাঁড়িয়ে থাকা ছবি।

উপরে শিশুসুলভ হাতে লেখা—

“Me & Mama”

কেন যেন ছবিটার দিকে তাকিয়ে ইউভানের বুকের ভেতর অদ্ভুত শূন্যতা তৈরি হলো।

“Your mother drew this?”

আয়রা সঙ্গে সঙ্গে মাথা নাড়ল।

“No!”

তার গলায় গর্ব।“আমি এঁকেছি মাম্মা কে দেবো বলে। "

“Really?”

“হ্যাঁ।”

আয়রা এবার চোখ বড় বড় করে তাকাল।

“তুমি কি Prince?”

ডেভিড  কেশে উঠল পাশ থেকে।

Principal প্রায় বিব্রত হয়ে গেলেন। তারা সকলেই দেখছিলেন এতক্ষণ দুজন দুজন কে।

কিন্তু ইউভানের ঠোঁটের কোণে অদৃশ্য হাসি ফুটে উঠল।

“Why?”

“কারণ তোমাকে movie star-এর মতো লাগে।”

ডেভিড মুখ ফিরিয়ে হাসি চাপল।

ইউভান অনেক বছর পর প্রথমবারের মতো হালকা হেসে ফেলল।

“Is that so?”

“হুম।”

মেয়েটি গম্ভীর মুখে বলল,

“কিন্তু তুমি একটু sad।”

হাসিটা মিলিয়ে গেল ইউভানের মুখ থেকে।

“Sad?”

“হ্যাঁ।”আয়রা মাথা কাত করল।

“মাম্মা বলে, যারা বেশি sad থাকে তারা বেশি হাসে না।”কথাটা শুনে ইউভান কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।কেন যেন মনে হলো এই কথাটা সে আগে কোথাও শুনেছে।

ঠিক তখনই দূরে দাঁড়িয়ে থাকা এক Sister ডাকলেন—

“ hey girl !”

মেয়েটা লাফিয়ে উঠে দাঁড়াল।

“I’m coming!”

তারপর আবার ইউভানের দিকে তাকাল।

“Bye, Mr. Prince!”

বলে দৌড়ে চলে গেল।ইউভান স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।তার চোখ অজান্তেই মেয়েটার পেছনে আটকে গেল।আর ঠিক তখনই খেয়াল হলো

একটা ছোট্ট লকেট মাটিতে পড়ে আছে।

কেউ খেয়াল করল না বিষয় টা।  ইউভান ঝুঁকে লকেটটা তুলে নিল।

লকেটের ভেতরের একটি না মেয়ের ছবি কিন্তু সেটি নষ্ট হয়ে গিয়েছে বলে স্পষ্ট কিছু বোঝা গেল না। ইউভান লকেট টা হাতের মুঠোয় চেপে ধরল।

____________________________________________

এক কামরার একটি ঘরে বালিশ আঁকড়ে ফুঁফিয়ে কেঁদে যাচ্ছে মারিয়া। মধ্য রাত তখন। পুরো ম্যানশন যেনো খা খা করছে।  এ কোন নরকে চলে এসেছে সে ? তার ছোট আয়ু তার কাছ ছাড়া। কি নিষ্ঠুর মা সে!! নিজে হাতে নিজের স্বামী সন্তান কে  এভাবে দুর করে দিয়েছে সে নিজেই! ইউভান তাকে মনে রাখে নি .. কেনই বা রাখবে .. কোন স্ত্রী তার স্বামীকে নিজে হাতে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়!

ঠক ঠক ঠক!

জোরে জোরে দরজা ঢাক্কানোর আওয়াজ হতেই মারিয়া ধপ করে উঠে বসল।

কে ? ,, মিনমিনে গলায় বলল সে। মধ্য রাতে এখন কে হতে পারে? আবারও সেই একই আওয়াজ। এবার মারিয়া দ্রুত পায়ে দরজা খুলতেই বাইরে কাউকে দেখতে পেল না। হঠাৎ ই কিছুক্ষণ আগের আওয়াজ যেনো থেমে গেল।

" কেউ তো নেই? তবে কিসের আওয়াজ হলো!!"

মারিয়া বাইরে কাউকে না দেখে ভাবুক হলো। বুকের ভেতর টা হঠাৎ কাপছে তার। পেছনে ঘুরে দ্রুত দরজা বন্ধ করার আগেই হঠাৎ তার গলায় যন্ত্রণা শুরু হলো। চোখ কুঁচকে এলো। কারণ পেছন থেকে কেউ তাকে অতি শক্ত করে চেপে ধরেছে গলায়

" আহ্!!'

ফুঁফিয়ে ওঠে মারিয়া। মুখ খুলে আসে আপন গতি তে। একটি ছায়া তার কানের কাছে ফিসফিস করে বলল, চলে যাও এখান থেকে। চলে যাও!!

মারিয়ার চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে এলো ক্রমশ।

চলবে?

Write a comment ...

Write a comment ...