ইউভানের হাতে পরিহিত রয়েছে বিশাল diamond solitaire ring— কয়েক মিনিট আগেই লারার আঙুলে একই ডিজাইনের ring পরিয়ে দিয়েছে সে। সদ্য সম্পন্ন হওয়া engagement-এর চকচকে চিহ্ন এখনো স্পষ্ট তার হাতে। কব্জিতে দামি Rolex watch, কালো tailored suit-এ তাকে আজ যেন আরও ভয়ংকর সুন্দর লাগছে।কিছুক্ষণ আগেই মিসেস আলেকজেন্দ্রীর উপস্থিতিতে Duke family-র বহু প্রতীক্ষিত engagement সম্পন্ন হয়েছে। পুরো ballroom তখন করতালিতে গর্জে উঠেছিল। লারা আবেগে প্রায় কেঁদে ফেলেছিল। আর ইউভান সে শুধু নির্লিপ্ত মুখে ringটা পরিয়ে দিয়েছিল।যেন এটা তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত নয়।
“মিস্টার ডিউক, দুবাই কবে আসছেন আবার? আমাদের dealটা কিন্তু দু’তরফেই profitable হবে।”
মধ্যবয়সী আরব businessman মুচকি হেসে কথাটা বলতেই চারপাশের কয়েকজন অতিথিও আগ্রহ নিয়ে ইউভানের দিকে তাকাল।
ইউভান তখনও নির্লিপ্ত ভঙ্গী তে দাঁড়িয়ে ছিল । তার উপস্থিতিই যথেষ্ট— নিজের ক্ষমতা প্রমাণ করার জন্য তাকে আলাদা করে কিছু বলতে হয় না।তার জীবন থেকে কয়েকটা বছর মুছে গেলেও সে এখনও এই সাম্রাজ্যের একচ্ছত্র অধিপতি।
ঠিক তখনই একজন waiter তার সামনে crystal glass এগিয়ে দিল।
“Your drink, sir.”
ইউভান ধীরে glassটা হাতে নিল। amber রঙের whiskey আলোয় ঝিলমিল করছে।
দূরে দাঁড়িয়ে ইসাবেলা ঠোঁটের কোণে চাপা হাসি টানল।কারও নজরে না পড়ে কয়েক মিনিট আগেই সে ড্রিঙ্কটার মধ্যে sedative মিশিয়ে দিয়েছে।
আজকের রাতটা সে “special” করে তুলতে চায়।
ইউভান glass-এ কয়েক চুমুক দিয়ে নিচু গলায় বলল,
“শীঘ্রই আসবো, মিস্টার শেখ।”
লোকটা সন্তুষ্ট মুখে হাসল। “Looking forward to it, Mr. Duke.”
ইউভান আর কিছু বলল না।কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যেই তার শরীরে অদ্ভুত পরিবর্তন শুরু হলো।
কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যেই তার শরীরে অদ্ভুত পরিবর্তন শুরু হলো।মাথার ভেতর চাপা ঝিমঝিমে অনুভূতি অনুভব করল সে। বুকের ভেতর অস্বাভাবিক উত্তাপ।সে ধীরে কপাল চেপে ধরল।“Boss?” ডেভিড এগিয়ে আসল দ্রুত।ইউভান মাথা নেড়ে বলল, “I’m fine.”
কিন্তু সে fine না।hallroom-এর আলো ধীরে ধীরে ঝাপসা লাগছে।মানুষের কণ্ঠগুলো দূর থেকে ভেসে আসছে যেন।ঠিক তখনই লারা তার কাছে এগিয়ে এলো লাস্যময়ী ভঙ্গী তে। চোখেমুখে লাজুক উত্তেজনা বদলে চিন্তিত গলায় সে বলল,
“Yuvaan… কি হয়েছে তোমার? বেবি আর ইউ ফাইন?।”
" নাথিং! আম ফাইন। আমার জাস্ট একটু রেস্ট দরকার"
" কিন্তু বেবী গ্র্যানি ওপরে ডাকছে তোমায়। একবার দেখা করে আসো তার সাথে "
ইউভান কিছু না বলেই ধীরে staircase-এর দিকে এগিয়ে গেল।তার হাঁটার ভঙ্গিতেও আজ অস্বাভাবিক ভারী ভাব।
ইউভান এর ভাব গতি দেখে লারার ঠোঁটে বাঁকা হাসি ফুটল। আজ রাত টা স্পেশাল করে তুলতে চাই একান্তে। সে নিজেও ধীর কদমে এগিয়ে যেতে থাকে সিঁড়ি বেয়ে কিন্তু একটি ফিমেল স্টাফ তার কাছে ছুটে আসে।
মুহূর্তেই লারার মুখমন্ডল শক্ত হয়ে ওঠে।
“Ma’am, Mrs. Alexandrie suddenly isn’t feeling well again,” হাঁপাতে হাঁপাতে বলল female staffটা। “ রেহান স্যার আপনাকে ডাকছেন।”লারা বিরক্তিতে ঠোঁট কামড়াল।
ঠিক এই মুহূর্তে?সে একবার সিঁড়ির উপরের দিকে তাকাল। ইউভান ইতিমধ্যেই দোতলায় উঠে গেছে।
তার চোখে এক ঝলক অধৈর্যতা ফুটে উঠল। এতদিনের অপেক্ষার পর আজকের রাতটা সে কোনোভাবেই নষ্ট করতে চায় না।
“Fine. I’m coming.”
ঠান্ডা গলায় বলেই সে নিচে নেমে গেল staffটার সঙ্গে।
_______________________________________
ballroom-এর এক কোণায় দাঁড়িয়ে সবকিছু দেখছিল মারিয়া।
কালো silk mask-এ মুখের অর্ধেক ঢাকা। mansion-এর নতুন caretaker হিসেবে তাকে temporary staff uniform দেওয়া হয়েছে।
সে চেষ্টা করছে কারও নজরে না পড়তে। হায় ভাগ্যের কি পরিহাস! যাদের থেকে এত দিন পালিয়ে আসছে , সেই নদেই এসে পড়তে হলো তার। কিন্তু ইউভানকে এত কাছ থেকে দেখার পর বুকের ভেতরের পুরোনো ক্ষতগুলো যেন আবার জেগে উঠেছে। ইউভান বেঁচে আছে! সুস্থ স্বাভাবিক কথা বলছে? আর পাঁচ বছর আগের মিহিরিমা ভেবেছিল মানুষটা কে হারিয়ে ফেলেছে সারাজীবনের মতো। ইউভান বেঁচে থাকা সত্ত্বেও এত গুলো বছরে তার খোঁজ করে নি কোনোদিন। এমনকি রেহান তার দাদা যে পুরো ষড়যন্ত্র টা সাজিয়েছিল ইউভান এর সামনে প্রকাশ্যে ঘুরছে অথচ তার কোনো হেল দোল নেই কেনো? অনেক প্রশ্ন অনেক কথার মাঝে আজকের একটি কথা পরিষ্কার , ইউভান আর তার নেই। Engagement ringটার দিকে চোখ পড়তেই বুকের মাঝখানে অদ্ভুত ব্যথা অনুভব করল সে। লারার সাথে অবশেষে ইউভান এঙ্গেজমেন্ট করল অথচ। মানুষটা কত সহজে ভুলে গিয়ে অন্য কাউকে আপন করে নিয়েছে । সে কেনো পারল না তাহলে?
পাঁচ বছর আগে এই মানুষটার জন্যই সে সবকিছু ছেড়েছিল।নিজের জীবন , পরিচয়, চেহারা পর্যন্ত
আর আজ?ইউভান দিব্যি অন্য কাউকে নিজের future wife বানিয়ে ফেলেছে।তার গলায় হঠাৎ কাঁটা বিঁধল।ঠিক তখনই এক female staff তাড়াহুড়ো করে তার কাছে এলো।
“Miss Clark! Mrs. Alexandrie needs her medicine upstairs.”
মারিয়া ধীরে মাথা নাড়ল।
“Which room?”
“Second floor. East wing. Last room on the right.”
Medicine trayটা তার হাতে ধরিয়ে দিয়েই staffটা আবার তাড়াহুড়ো করে নিচে নেমে গেল।
মারিয়া গভীর নিঃশ্বাস নিল।তারপর ধীরে সিঁড়ির দিকে এগিয়ে গেল। এটা কি তার ভাগ্যের পরিহাস? আবারও ডিউক পরিবারের সাথে জড়িয়ে পড়ল সে? সেদিন এমা না থাকলে হয়তো আয়রা কে পেতো না সে। এই রেহান ডিউক এর আদেশ এই তাকে মেরে ফেলার আদেশ দেওয়া হয়। এমা তাকে সাহায্য করেছিল এই দেশ ছাড়তে। কিন্তু তার এই চেহারা পরিচয় সমাজ মাধ্যমে মৃত ঘোষিত হয়েছে। মিহিরিমার দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত নিজের মুখমন্ডল সম্পূর্ণ পাল্টে না ফেললে হয়তো রেহান ডিউক তাকে খুঁজে বের করত ,মেরে ফেলতো তার মেয়েকে।
গলার কাছে দলা ওয়াকওয়ে আসছে ভাবনা গুলো! তাকে এখন থেকে এই ম্যানশন এই থাকতে হবে তাও মিসেস আলেকজেন্দ্রির কেয়ার টেকার হিসেবে। আগে যদি জানত কখনোই হ্যা করত না সে এই কাজে। গ্র্যানীর ক্যান্সার এর লাস্ট স্টেজ শুনে মারিয়ার চোখে জল এসেছিল। কারণ এই মানুষটা তার একসময় সবথেকে আপন ছিল। এখন তাকে ভুলে গিয়েছে সে আলাদা কথা কিন্তু, আজই এই ম্যানশন এ শেষ দিন , আর দ্বিতীয় দিন কাজ করতে পারবে না। দিনের পর দিন গ্র্যানী কে এভাবে কষ্ট পেতে দেখা সবথেকে বড় ইউভান এর সাথে একই ছাদের তলায় সে এক মুহূর্ত থাকবে না।
মারিয়ার আঙুলগুলো অজান্তেই শক্ত হয়ে উঠল medicine tray-এর ওপর।
সিঁড়ির প্রতিটা ধাপ যেন তার বুকের ভেতরের চাপা আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
দোতলায় উঠতেই নিচের ballroom-এর শব্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেল। দূর থেকে শুধু piano-র সুর আর মানুষের চাপা হাসির আওয়াজ ভেসে আসছে। অথচ এই নির্জন করিডোরে দাঁড়াতেই মারিয়ার মনে হলো যেন সে পাঁচ বছর আগের সেই অন্ধকারে ফিরে গেছে।
East wing…
লম্বা করিডোরটা আধো আলোয় ঢাকা। দেয়ালে ঝুলছে পুরোনো painting, মেঝেতে মোটা কার্পেট। চারপাশে অস্বাভাবিক নীরবতা।মারিয়া ধীরে হাঁটতে লাগল।তার মাথার ভেতর তখন হাজারটা চিন্তা ঘুরছে একসাথে।
রেহান ডিউক…মানুষটার নাম মনে পড়তেই শরীর ঠান্ডা হয়ে এলো।
সেই রাতটার কথা সে আজও ভুলতে পারেনি। গাড়ির বিস্ফোরণ… আগুন… রক্ত… আর নিজের গর্ভের সন্তানকে বাঁচানোর জন্য মরিয়া হয়ে পালিয়ে বেড়ানো।যদি এমা সেদিন সাহায্য না করত— তাহলে আজ সে বা আয়রা কেউই বেঁচে থাকত না।মারিয়ার শ্বাস ভারী হয়ে উঠল।ইউভান সব জানত।জানত তার নিজের ভাই তাকে মারতে চেয়েছিল। জানত মিহিরিমা নির্দোষ ছিল।তবুও…
আজ সে দিব্যি সেই পরিবারের মাঝখানে দাঁড়িয়ে engagement করছে অন্য এক নারীর সাথে।
ভাবতেই বুকের ভেতর কেমন ব্যথা ছড়িয়ে পড়ল।
সে দ্রুত চোখ বন্ধ করল।না। এই দুর্বলতা এখন চলবে না।সে এখন Maria Clark. শুধু একজন caretaker।করিডোরের শেষ মাথায় পৌঁছে থেমে গেল সে।দুটো দরজা পাশাপাশি।
একটার দরজা পুরোপুরি বন্ধ। আরেকটা সামান্য খোলা।ঠিক তখনই নিচতলা থেকে কারও ডাক ভেসে এলো— “Quick! Doctor!”শব্দে মুহূর্তের জন্য চমকে উঠল মারিয়া। তাড়াহুড়োয় সে ভেবে নিল আধখোলা দরজাটাই হয়তো মিসেস
আলেকজেন্দ্রীর room।medicine trayটা সামলে ধীরে দরজাটা ঠেলে ভেতরে ঢুকল সে।
ঘরটা অন্ধকার এ ছেয়ে রয়েছে। শুধু bedside lamp-এর মৃদু হলুদ আলো জ্বলছে।
মারিয়া ভ্রু কুঁচকে ধীরে ভেতরে পা রাখল।
“Mrs. Alexandrie…?”
কোনো উত্তর এলো না।ঠিক তখনই দরজাটা পিছন থেকে অটোমেটিক বন্ধ হয়ে গেল।ক্লিক,শব্দটা শুনে মারিয়ার বুক ধক করে উঠল।পরের মুহূর্তেই হঠাৎ শক্ত একটা হাত তার কব্জি চেপে ধরল।
“Ah—!”
medicine trayটা হাত থেকে পড়ে মেঝেতে ভেঙে ছড়িয়ে পড়ল।মারিয়া কিছু বোঝার আগেই তাকে টেনে দেয়ালের সঙ্গে চেপে ধরা হলো।
তার নিঃশ্বাস আটকে গেল। এই পুরুষালি গন্ধ টা তার খুব পরিচিত। মন মস্তিষ্কে গেঁথে রয়েছে।
গরম, ভারী নিঃশ্বাস এসে পড়ছে তার মুখের ওপর।
“who are you…”
কর্কশ, ভারী কণ্ঠটা শুনেই মারিয়ার পুরো শরীর জমে গেল।ইউভান।তার চোখ বিস্ফোরিত হয়ে উঠল।সারা শরীর কাপছে। ইউভান বেঁচে আছে! তার কাছে এখনও স্বপ্নের মতো। তার চোখের জল বাঁধ মানল না। অন্ধকারের মাঝেও সে চিনে ফেলেছে মানুষটাকে।কালো suit এলোমেলো। টাই আলগা হয়ে গেছে। ধূসর চোখদুটো অস্বাভাবিক ঝাপসা আর উত্তপ্ত।মনে হচ্ছে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে কষ্ট হচ্ছে তার।ইউভানের এক হাত এখনও দেয়ালের পাশে। অন্য হাতটা শক্ত করে ধরে আছে মারিয়ার কব্জি।
“তুমি…” ভারী নিঃশ্বাস ফেলল সে। “Why are you hiding your face…?”
মারিয়ার বুকের ভেতর প্রচণ্ড শিরশিরে অনুভব হলো।এত কাছে…পাঁচ বছর পর আবার এত কাছে দাঁড়িয়ে আছে সে।এই মানুষটার জন্যই সে রাতের পর রাত কেঁদেছে। এই মানুষটার সন্তানকে বুকে নিয়ে পালিয়ে বেড়িয়েছে।আর আজ—
ইউভান তাকে চিনতেই পারছে না। কারণ মিহিরিমা মৃত। সে এখন মারিয়া।
তার দৃষ্টি হঠাৎ গিয়ে আটকাল ইউভানের হাতে।
Diamond engagement ringটা আলোয় চকচক করছে।
সেই দৃশ্যটাই যেন ছুরির মতো বিঁধল তার বুকে।
ইউভান ধীরে মুখ নামিয়ে আনল আরও কাছে।
তার শরীর অস্বাভাবিক গরম।
স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে ড্রিঙ্কে মেশানো জিনিসটার প্রভাব পড়েছে।
“Lara you?…” আবারও ফিসফিস করল সে। “Stay…”
মারিয়ার চোখ ভিজে উঠল অজান্তেই।
না। সে লারা নয়।
সে সেই মেয়ে… যাকে একদিন ইউভান নিজের জীবন থেকেও বেশি ভালোবাসত।
কিন্তু আজ— ইউভানের স্মৃতিতে তার কোনো অস্তিত্বই নেই। নিজের সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করে নিজেকে ছাড়িয়ে ইউভান এর দিকে ক্রন্দন রত অবস্থায় মারিয়া বলল, আই হেট ইউ মিস্টার ডিউক!
ইউভান নিজেকে বোঝার আগেই মা
রিয়া দ্রুত বেগে রুম থেকে ছুটে বেরিয়ে যায়।
যারা পড়ছে প্লীজ বলবে কেমন লাগলো সকলের?
Write a comment ...