62

Engagement 💢

আজ Duke Mansion যেন আলোয় মোড়ানো এক রাজপ্রাসাদ।

পুরো বাড়িটা সোনালি ঝাড়বাতির আলোয় ঝলমল করছে। বিশাল ballroom জুড়ে লন্ডনের অভিজাত সমাজের মানুষের ভিড়। কারও হাতে crystal champagne glass, কেউ নিচু গলায় business deal নিয়ে কথা বলছে, আবার কেউ দূর থেকে বিস্ময়ে তাকিয়ে আছে আজকের অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণের দিকে—

ইউভান ডিউক।

কালো tailored suit-এ তাকে আজ যেন আরও ভয়ংকর সুন্দর লাগছে। প্রশস্ত কাঁধ, ধারালো চোয়াল, বরফ-শীতল ধূসর চোখ— তার চারপাশে এমন এক চাপা আতঙ্ক কাজ করছে যে কেউ খুব বেশি কাছে যাওয়ার সাহস পাচ্ছে না।

তার পাশেই দাঁড়িয়ে আছে লারা সিনক্লেয়ার। গাঢ় লাল satin gown-এ অপূর্ব লাগছে তাকে। চোখেমুখে স্পষ্ট উত্তেজনা আর সুখের ছাপ। অবশেষে পাঁচ বছর অপেক্ষার পর সে আজ ইউভানের fiancé হতে চলেছে।

কিন্তু যার engagement— তার মুখেই কোনো অনুভূতি নেই।

ইউভান একহাতে wine glass ধরে নির্লিপ্ত চোখে চারপাশ দেখছে। যেন এই অনুষ্ঠান, এই মানুষগুলো, এমনকি তার নিজের engagement পর্যন্ত তাকে স্পর্শ করতে পারছে না।

দূরে দাঁড়িয়ে ডেভিড সবকিছু গভীর দৃষ্টিতে লক্ষ্য করছিল। সে জানে— Boss ভিতরে ভিতরে ভেঙে যাচ্ছে। কিন্তু কাউকে বুঝতে দেয় না।

ঠিক তখনই এক মধ্যবয়সী businessman এগিয়ে এসে হেসে বলল, “Mr. Duke, finally settling down?”

ইউভান ধীরে তার দিকে তাকাল। তার ঠান্ডা দৃষ্টি দেখে লোকটার হাসি পর্যন্ত ফিকে হয়ে গেল।

কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে ইউভান নিচু গলায় বলল, “Maybe.”

লোকটা অস্বস্তিতে হেসে সরে গেল।

লারা ধীরে ইউভানের বাহু স্পর্শ করল। “Are you okay?”

“Hmm.”

শুধু এতটুকুই উত্তর দিল সে।

লারা ঠোঁট চেপে হাসল। আজকের এই দিন টির জন্য গত পাঁচ বছর বা তার আগে থেকে ধরে সে চেষ্টা করেছে ইউভানের কাছে পৌঁছাতে। ইউভান রাগ, নীরবতা, অন্ধকার— সবকিছু সহ্য করেছে। তবুও মাঝে মাঝে মনে হয় ইউভানের হৃদয়ের একটা অংশ কোথাও হারিয়ে গেছে… যেখানে সে পৌঁছাতে পারে না। কিন্তু লারার এতে কিছুই যায় আসে না।

" আমার বোন কে এত সুন্দর লাগছে! "

ইসাবেলা রীতিমতো লারা কে জড়িয়ে ধরল। রেহান ও মুচকি হাসছে। পাশে দাঁড়িয়ে। লারা তখনও ইউভান এর বাহু শক্ত করে ধরে রেখেছে। এবার কিছুতেই হাত ছাড়া করবে না  ইউভান কে সে।

" ইউভি আর লারার বিয়ে টাও গ্র্যানী থাকতে থাকতে সম্পন্ন করা ভালো কি বলো রেহান?"

ইসাবেলা তার ড্রিঙ্ক এ চুমুক দিতে দিতে বলল। রেহান মুচকি হেসে ইউভান এর দিকে তাকাল। ইউভান নিজের মধ্যেই যেনো নেই তখন। চোয়াল শক্ত। চোখের দৃষ্টি স্থির। ঠিক তখনই ইউভানের মাথার ভেতর তীব্র যন্ত্রণা ছড়িয়ে পড়ল।তার আঙুলের চাপ এতটাই বেড়ে গেল যে wine glassটা কেঁপে উঠল হাতে।

কানে ভেসে এলো একটা নারীকণ্ঠ—

“ইউভান…”সে আচমকা চোখ বন্ধ করে ফেলল।

মাথার ভেতর ঝলসে উঠল কিছু অস্পষ্ট দৃশ্য—

অন্ধকার রাস্তা…… রক্ত… আর একটা মেয়ের কান্না।

“ইউভান… প্লিজ…”

ধড়মড় করে চোখ খুলল সে।

শ্বাস ভারী হয়ে গেছে। কপালের পাশে নীলচে শিরা ফুলে উঠেছে।“Boss?”

পাশ থেকে ডেভিড দ্রুত এগিয়ে এলো।

ইউভান কপাল চেপে ধরল শক্ত করে। “Why… do I keep hearing her voice?”

ডেভিডের বুক ধক করে উঠল।

“স্যার calm down—”

“WHO IS SHE?!”

ইউভানের গম্ভীর কণ্ঠ মুহূর্তেই পুরো ballroom নিস্তব্ধ করে দিল।সবাই অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।

লারা ভয় পেয়ে তার হাত ধরল। “Yuvaan…”

ইউভান কয়েক সেকেন্ড স্থির দাঁড়িয়ে রইল। তারপর ধীরে নিজেকে সামলে নিল।

" কি হলো ভাই? ডাক্তার কে ডাকবো?"

ইউভান  মাথা ঝাঁকাল রেহান এর চিন্তিত গলায়। ইশারায় বোঝাল তার দরকার নেই। রেহান কিছু বলল না। সে তীক্ষ্ম দৃষ্টি তে ইসাবেলা কে ইশারা করল কিছু একটা।

ঠিক তখনই grand staircase দিয়ে নিচে নামলেন মিসেস আলেকজেন্দ্রী।

সাদা silk gown-এর ওপর শাল জড়ানো। তবুও আজ তাকে ভীষণ দুর্বল লাগছে। মুখ ফ্যাকাশে, হাঁটতেও কষ্ট হচ্ছে।

তাকে দেখেই পুরো hall চুপ হয়ে গেল।

ইউভানের চোখ মুহূর্তেই নরম হয়ে এলো। সে দ্রুত এগিয়ে গেল।

“গ্র্যানি, তোমার নিচে আসা উচিত হয়নি।”

মিসেস আলেকজেন্দ্রী মৃদু হাসলেন। “আজকের দিনটা আমি miss করতে পারি?”

এদিকে ইসাবেলা সন্তর্পনে ইউভান এর ড্রিঙ্ক এ একটি মেডিসিন মিলিয়ে দিল সকলের নজরে আড়ালে।

________________________________

লন্ডনের আকাশ আজও কুয়াশায় ঢাকা। হালকা বৃষ্টির ফোঁটা কালো SUV-টার কাঁচে টুপটাপ শব্দ তুলছে। গাড়ির ভেতরে নিশ্চুপ বসে আছে মারিয়া। কালো coat-এর ভেতর হাত দুটো শক্ত করে গুটিয়ে রেখেছে সে। তার বুকের ভেতর অদ্ভুত এক অস্বস্তি কাজ করছে সকাল থেকেই।

ড্রাইভারের পাঠানো লোক শুধু এতটুকুই বলেছিল— “Client is from a very influential family.”

এর বেশি কিছু না।

গাড়িটা ধীরে ধীরে শহরের সবচেয়ে অভিজাত এলাকাগুলোর একটায় ঢুকল। উঁচু wrought iron gate, বিশাল mansion, চারদিকে security।

SUV থামতেই মারিয়ার ভ্রু কুঁচকে গেল।

মেইন গেটের বাইরে সারি সারি দামি গাড়ি দাঁড়িয়ে। পুরো mansion আলোয় ঝলমল করছে। ভেতর থেকে ভেসে আসছে piano music আর মানুষের হাসির শব্দ।

আজ এখানে কোনো party চলছে।

ড্রাইভার নিচু গলায় বলল, “Welcome to the Mansion, Miss Clark.”

মুহূর্তের জন্য মারিয়ার পুরো শরীর জমে গেল।

শব্দ দুটো যেন মাথার ভেতর বিস্ফোরণের মতো আঘাত করল।

না…না এটা হতে পারে না।

তার নিঃশ্বাস আটকে আসতে লাগল। আঙুল কাঁপছে স্পষ্টভাবে।

“Ma’am?” ড্রাইভারের ডাক শুনে বাস্তবে ফিরল সে।

মারিয়া দ্রুত চোখ বন্ধ করল। নিজেকে সামলাও। এখন কেউ তোমাকে চিনবে না।

সে আর মিহিরিমা নয়। সে Maria Clark.

ধীরে ধীরে গাড়ি থেকে নামতেই ঠান্ডা বাতাস মুখে এসে লাগল। ঠিক তখনই ভেতর থেকে ভেসে এলো announcement—

“Ladies and gentlemen… tonight is a special evening. .”

মারিয়ার বুকের ভেতরটা হঠাৎ মোচড় দিয়ে উঠল। আজকে কিসের বিশেষ অনুষ্ঠান!

অদ্ভুতভাবে বুকের মাঝখানে ব্যথা অনুভব করল সে। যেন পাঁচ বছর আগের পুরোনো ক্ষতটা আবার নতুন করে ছিঁড়ে গেল।

কিন্তু পরের মুহূর্তেই সে নিজেকে শক্ত করল। তার এসব অনুভব করার অধিকার নেই।

একজন female staff দ্রুত এগিয়ে এলো।

“You’re the new caretaker?”

মারিয়া ধীরে মাথা নাড়ল।

“Follow me.”

মারিয়া mansion-এর ভেতরে পা রাখতেই চারপাশের বিলাসিতা চোখ ধাঁধিয়ে দিল।

ঝাড়বাতির সোনালি আলো পুরো marble floor জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। দূরে violin-এর সুর বাজছে। দামি perfume আর wine-এর গন্ধে ভারী হয়ে আছে বাতাস।কিন্তু মারিয়ার কাছে সবকিছুই যেন ঝাপসা লাগছে।তার বুকের ভেতর অস্বাভাবিকভাবে ধুকপুক করছে।প্রতিটা পা ফেলতে ফেলতে মনে হচ্ছে সে যেন ধীরে ধীরে নিজের অতীতের দিকেই ফিরে যাচ্ছে।

“এইদিকে, Miss Clark.”

female staff সামনে হাঁটছে। মারিয়া চুপচাপ তার পেছনে এগোতে লাগল। মাথা নিচু করে রাখলেও অনুভব করতে পারছে— চারপাশে শত মানুষের ভিড়।

ঠিক তখনই ballroom-এর দিক থেকে করতালির শব্দ ভেসে এলো।

“Congratulations Mr. Duke!”নামটা শুনেই মারিয়ার পা থেমে গেল।পুরো শরীর জমে বরফ হয়ে গেল যেন।

না…না এটা হতে পারে না।ধীরে ধীরে মাথা তুলল সে।আর পরের মুহূর্তেই তার নিঃশ্বাস আটকে গেল।

দূরের বিশাল ballroom-এর মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে ইউভান।

কালো suit-এ আগের মতোই ভয়ংকর সুন্দর।

এক হাতে wine glass। অন্য পাশে দাঁড়িয়ে লারা।

আর চারপাশের সবাই তাদের engagement-এর জন্য অভিনন্দন জানাচ্ছে।

মারিয়ার কানে হঠাৎ সব শব্দ বন্ধ হয়ে গেল।

শুধু একটা শব্দ বারবার প্রতিধ্বনিত হতে লাগল—

Engagement.

ইউভান… বেঁচে আছে?

তার চোখ কাঁপতে লাগল।

পাঁচ বছর আগে নিজের চোখে সেই মানুষটার রক্তাক্ত শরীর দেখেছিল সে।

সেই রাতের পর সবাই বলেছিল— ইউভান মারা গেছে।তাহলে…?

তার হাত থেকে brown envelope-টা প্রায় পড়ে যাচ্ছিল।ঠিক তখনই female staff বিরক্ত গলায় বলল, “Miss Clark?”মারি

য়া দ্রুত নিজেকে সামলে নিল।না। এখন ভেঙে পড়লে চলবে না।

সে মাথা নিচু করে ফিসফিস করল, “Sorry…”

চলবে?

Write a comment ...

Write a comment ...