61

পর্ব 4(আর্থার জেকব)

আজ লন্ডনের মাটিতে মারিয়ার দ্বিতীয় দিন।

লন্ডনের আকাশটা আজ ধূসর কুয়াশায় ঢাকা। ঠান্ডা বাতাসে পুরো শহরটাকে আরও নির্জীব লাগছে। কালো ক্যাবের জানালার পাশে মাথা ঠেকিয়ে নিশ্চুপ বসে আছে মারিয়া। তার চোখ দুটো বাইরের রাস্তায় স্থির হলেও ভেতরে ভেতরে যেন হাজারটা চিন্তা একসাথে ঘুরছে।

তার পাশেই ছোট্ট আয়রা নিজের গোলাপি ব্যাগটা কোলে নিয়ে বসে আছে। ঘুমঘুম চোখে বারবার বাইরে তাকাচ্ছে সে। নতুন শহর, নতুন রাস্তা— সবকিছুই তার কাছে অচেনা অথচ রোমাঞ্চকর।

আজ আয়রার নতুন বোর্ডিং স্কুলে প্রথম দিন।

কিছুক্ষণ পর গাড়িটা এসে থামল বিশাল এক বিল্ডিংয়ের সামনে। উঁচু কালো গেট, চারদিকে ছাঁটা বাগান আর সামনে বড় অক্ষরে লেখা—

St. Mary’s Boarding School for Girls

আয়রা বিস্ময়ে বড় বড় চোখ করে বলল, “মাম্মা… ইটস সো বিগ!”

মারিয়ার ঠোঁটে হালকা হাসি ফুটল। কিন্তু বুকের ভেতরটা ধীরে ধীরে ভারী হয়ে উঠছে। সে জানে এই সিদ্ধান্তটা খুব কঠিন। তবুও তার আর কোনো উপায় নেই। এই বোর্ডিং স্কুলে ভর্তি হতে আয়রার মা হিসেবে তার ডকুমেন্ট ছাড়া অন্য কিছু লাগে নি। শহরের বুকে বেশ ভালো একটি প্রতিষ্ঠান। যার জন্য এত দুর আসা।এই শহরে টিকে থাকতে হলে তাকে কাজ করতে হবে। আর সে কখনো চায় না তার অতীতের অন্ধকার আবার আয়রার জীবনে এসে পড়ুক। বোর্ডিং স্কুল অন্তত মেয়েটাকে নিরাপদ রাখবে।

মারিয়া নিচু হয়ে আয়রার কোটটা ঠিক করে দিল।

“Because my baby deserves the best school.”

আয়রা ঠোঁট ফুলিয়ে জিজ্ঞেস করল, “But… you won’t stay here?”

প্রশ্নটা শুনে মুহূর্তের জন্য থেমে গেল মারিয়া। বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল। পাঁচ বছর ধরে সে নিজের মেয়েকে বুকের সাথে আগলে রেখেছে। অথচ আজ নিজের হাতেই তাকে দূরে রেখে যেতে হচ্ছে।

তবুও মুখে হাসি টেনে বলল, “মাম্মাকে কাজ করতে হবে বেবি… কিন্তু প্রতি weekend-এ আমি তোমার সাথে দেখা করতে আসবো। Promise.”

আয়রার চোখ চিকচিক করে উঠল। “Promise?”

মারিয়া কপালে চুমু খেয়ে ফিসফিস করল, “Promise, my Ayu.”

আয়রার চোখের জল মারিয়া এড়িয়ে যায় আজ। মেয়েটা এখানে রাখা ছাড়া কোনো উপায় নেই।

কিছুক্ষণ পর boarding wing-এর এক মহিলা এসে আয়রার হাত ধরলেন। ছোট্ট মেয়েটা বারবার পিছন ফিরে তাকাচ্ছিল।

“মাম্মা বাই…!”

মারিয়া ঠোঁটে হাসি রেখেই হাত নাড়ল। কিন্তু আয়রা চোখের আড়ালে যেতেই তার মুখের হাসিটা ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল।

চোখ বন্ধ করে গভীর নিঃশ্বাস নিল সে। না… এখন ভেঙে পড়লে চলবে না।ঠিক তখনই ফোনটা ভাইব্রেট করে উঠল।স্ক্রিনে ভেসে উঠল— Unknown Numberকল রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে ভেসে এলো এক নারীকণ্ঠ।

“Miss Maria Clark?”

“Speaking.”

“আমি Black Thorn Medical Agency থেকে বলছি। আপনার profile আমাদের কাছে recommend করা হয়েছে।”

মারিয়ার ভ্রু কুঁচকে গেল। এমা বলেছিল একটা private medical agency কাজ খুঁজছে।

“Patient কে?”

ওপাশের মহিলা কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে বলল—

“ সরি মিসেস ক্লার্ক পেশেন্ট এর ডিটেলস আমরা দিতে পারবো না, আপাতত । পেমেন্ট নিয়ে কোনো চিন্তা করবেন না পার ডে ১০০ ডলার ।"

মারিয়া শুকনো ঢোক ঢুকল।

তার আঙুল ধীরে ধীরে শক্ত হয়ে উঠল ফোনের ওপর। এত টাকা? তার আপাতত টাকার প্রয়োজন।

কিন্তু পরের মুহূর্তেই নিজেকে সামলে নিল সে। এখন কেউ তাকে চিনবে না।সে আর মিহিরিমা নয়।

সে এখন শুধু মারিয়া ক্লার্ক। এত ভয় কেনো পাচ্ছে সে?ওপাশ থেকে আবার ভেসে এলো— “We need a live-in private caretaker urgently.”

মারিয়া ধীরে চোখ বন্ধ করল।

তার কাজ দরকার। টাকা দরকার। আর সবচেয়ে বেশি দরকার— তার মেয়ের নিরাপদ ভবিষ্যৎ।

কয়েক সেকেন্ড নীরব থাকার পর অবশেষে সে ধীরে বলল—

“…When do I start?”

ওপাশ থেকে সঙ্গে সঙ্গে উত্তর এলো—

“ Tommorow evening, Miss Clark. আমাদের গাড়ি আপনাকে pick up করবে।”

“Location?”

“আপনাকে message করে দেওয়া হবে।”

কলটা কেটে যেতেই কিছুক্ষণ স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল মারিয়া।

ঠান্ডা বাতাস হঠাৎ যেন আরও ভারী লাগছে তার কাছে।Live-in caretaker…

মানে তাকে ওই বাড়িতেই থাকতে হবে।

মারিয়া ধীরে মাথা তুলে বিশাল boarding school-এর দিকে তাকাল। এই মুহূর্তে আয়রা হয়তো নতুন রুমে বসে কাঁদছে। ভাবতেই বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল তার।কিন্তু না। সে দুর্বল হতে পারবে না।পাঁচ বছর আগে সে শিখেছে— এই পৃথিবীতে বাঁচতে হলে হৃদয়কে পাথর বানাতে হয়।

ধীরে ধীরে ক্যাবের দিকে এগিয়ে গেল মারিয়া। ফোনটা শক্ত করে চেপে ধরে আছে সে।

ক্যাবটা ধীরে ধীরে এসে থামল Blackwood Road-এর ছোট্ট দুইতলা বাড়িটার সামনে।

পুরো এলাকাটা অদ্ভুত শান্ত। রাস্তার দু’পাশে পুরোনো ল্যাম্পপোস্ট, ভেজা রাস্তা আর কুয়াশার আবরণে জায়গাটা যেন আরও নির্জন লাগছে।

মারিয়া ব্যাগটা কাঁধে নিয়ে ধীরে গাড়ি থেকে নামল। সারাদিনের ক্লান্তিতে শরীর ভেঙে আসছে তার। কিন্তু মাথার ভেতর এখনো ঘুরছে সেই একটা কথাই—Live-in caretaker.

অজানা একটা অস্বস্তি বারবার বুকের ভেতর চেপে বসছে।

চাবি বের করে দরজার সামনে দাঁড়াতেই হঠাৎ থেমে গেল সে।দরজাটা আধখোলা।

মুহূর্তের জন্য শরীর শক্ত হয়ে উঠল মারিয়ার। অভ্যাসবশত চারপাশে দ্রুত চোখ বুলিয়ে নিল সে। পাঁচ বছর পালিয়ে পালিয়ে বাঁচতে গিয়ে danger sense তার ভেতরে গেঁথে গেছে।

ধীরে দরজাটা ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই ড্রইংরুমের হলুদ আলো চোখে পড়ল।

আর তারপরই সোফায় বসে থাকা মানুষটাকে দেখে তার ভ্রু কুঁচকে গেল।

কালো শার্ট, হাতে whiskey glass, ঠোঁটে হালকা ব্যঙ্গাত্মক হাসি।

Arthur Jacob.

মারিয়া বিরক্ত গলায় বলল, “তুমি আবার দরজা খুলে ভেতরে ঢুকেছো?”

আর্থার কাঁধ ঝাঁকাল।

“Still alive, sweetheart. Good to see you too.”

মারিয়া ব্যাগটা টেবিলের ওপর ছুঁড়ে রেখে ক্লান্ত গলায় বলল, “আমাকে sweetheart বলা বন্ধ করো।”

আর্থার গ্লাসটা নামিয়ে এবার গভীর দৃষ্টিতে তার দিকে তাকাল।

আর্থার ধীরে উঠে দাঁড়াল।

“তুমি জানো এই শহর তোমার জন্য safe না।”

মারিয়ার চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল।

“আমি পাঁচ বছর ধরে পালিয়ে বেড়িয়েছি, Jacob.” “আর না।”

আর্থার তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ।

এই পাঁচ বছরে সে নিজের চোখে দেখেছে মিহিরিমা কিভাবে ধীরে ধীরে “মারিয়া” হয়ে উঠেছে। নতুন মুখ। নতুন পরিচয়। নতুন জীবন।

কিন্তু একটা জিনিস কখনো বদলায়নি—

তার চোখের ভেতরের ভয়।

আর্থার নিচু গলায় বলল, “তুমি বুঝতে পারছো না তুমি কোথায় ফিরে এসেছো।”

“আমি সব বুঝি।”

“না, তুমি বুঝছো না।” এবার কণ্ঠ উঁচু হলো তার।

“যদি Duke family জানতে পারে তুমি বেঁচে আছো—”

“ইউভান মারা গিয়েছে!”

মারিয়ার কণ্ঠ আচমকা কেঁপে উঠল।

ঘরটা মুহূর্তে নিস্তব্ধ হয়ে গেল। আর্থারই গত পাঁচ বছর তার পাশে ছিল।যখন পুরো পৃথিবী তাকে মৃত ভাবছিল, তখন এই মানুষটাই নতুন identity তৈরি করে দিয়েছিল। নতুন passport, নতুন জীবন… সবকিছু।

কিন্তু একটা জিনিস সে কখনও বুঝতে দেয়নি—

সে মারিয়াকে ভালোবাসে।

নিঃশব্দে।

একতরফাভাবে।

আর সেই কারণেই লন্ডনে ফিরে আসার সিদ্ধান্তটা শুনে ভিতরে ভিতরে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিল সে।

“তুমি জানো এই শহর safe না,” নিচু গলায় বলল আর্থার। “Especially for you.”

মারিয়া ঠান্ডা গলায় উত্তর দিল,

“মিহিরিমা মারা গিয়েছে পাঁচ বছর আগে। আর আমার মেয়ে ওখানে ভালো ছিল না। তাকে রীতিমতো হ্যারাস করা হচ্ছিল দিনের পর দিন । আমি কিভাবে  তাকে দিনের পর দিন এভাবে দেখতাম জেকব। "

মিহিরিমা নিজেকে সামলাতে পারল না।

পাঁচ বছর ধরে বুকের ভেতর জমে থাকা সমস্ত ক্লান্তি, ভয়, অসহায়তা যেন এক মুহূর্তে ভেঙে পড়ল তার ওপর।

“আমি পারছি না জেকব…”

কাঁপা গলায় ফিসফিস করে বলল সে।

“ওরা আয়রাকে প্রতিদিন টার্গেট করছিল… ‘fatherless child’ বলে অপমান করত… আমি আর দেখতে পারছিলাম না…”

কথাগুলো বলতে বলতেই তার গলা ভেঙে গেল।

আর্থার এক মুহূর্ত দেরি করল না। দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে শক্ত করে নিজের বুকে জড়িয়ে ধরল।

মারিয়া প্রথমে সরে যেতে চাইল।

কিন্তু পরের মুহূর্তেই যেন সমস্ত শক্তি হারিয়ে ফেলল সে।

আর্থারের বুকের ওপর মাথা রেখে নিঃশব্দে কেঁদে উঠল।বাইরে কুয়াশার মাঝে টুপটাপ বৃষ্টির শব্দ শোনা যাচ্ছে। তার হৃদ গতি বেড়ে গিয়েছে রীতিমতো। এত গুলো বছরে প্রথম মিহিরিমা তার এত টা কাছে। এত টা ঘনিষ্ঠ।

আর্থারের হাত ধীরে ধীরে তার মাথায় থেমে রইল।

“Hey… hey… it’s okay…”

নিচু গলায় বলল সে।

“তুমি খারাপ মা না, Maria.”

মারিয়া চোখ বন্ধ করল শক্ত করে।খারাপ মা না?

তাহলে কেন আজ নিজের হাতেই আয়রাকে boarding school-এ রেখে এসেছে সে?

কেন ছোট্ট মেয়েটার কান্না উপেক্ষা করে চলে এসেছে?বুকের ভেতরটা আবার মোচড় দিয়ে উঠল।“আমি শুধু ওকে একটা normal life দিতে চাই…”তার কণ্ঠ এবার ভাঙা।

“আমি চাই না আমার অতীত ওর জীবনটাও শেষ করে দিক…”

আর্থারের চোখ ধীরে নরম হয়ে এলো।

এই কারণেই সে কখনো মারিয়াকে ছেড়ে যেতে পারেনি।

কারণ পৃথিবীর কাছে মিহিরিমা হয়তো একজন strong woman…

কিন্তু তার কাছে—সে শুধু একটা ভাঙা মেয়ে, যে বেঁচে থাকার জন্য প্রতিদিন যুদ্ধ করছে।

কিছুক্ষণ পর ধীরে ধীরে নিজেকে সামলে সরে এলো মারিয়া।

চোখের জল মুছে বিরক্ত গলায় বলল,

“Don’t look at me like that.”

আর্থার হালকা হাসল।

“Like what?”

“যেন আমি খুব weak.”

“তুমি weak নও।”

আর্থার গভীর দৃষ্টিতে তার দিকে তাকাল।

“তুমি শুধু অনেক ক্লান্ত।”

কথাটা শুনে মারিয়া কিছু বলল না।

মারিয়া এখনো সোফার পাশে দাঁড়িয়ে। চোখ দুটো লাল, মুখ ক্লান্ত। হাতে শক্ত করে ধরা সেই brown envelope।আর্থার কয়েক সেকেন্ড চুপচাপ তার দিকে তাকিয়ে রইল।

এই মেয়েটাকে সে পাঁচ বছর ধরে দেখছে।

প্রতিটা রাতের দুঃস্বপ্ন, প্রতিটা panic attack, প্রতিটা ভেঙে পড়া মুহূর্তের সাক্ষী সে।

তবুও—মারিয়া কখনো পুরোপুরি তার হয়নি।

হয়তো কোনোদিন হবেও না।কিন্তু এই মুহূর্তে তাকে এতটা ভাঙা লাগছে যে আর্থারের বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল।

ধীরে ধীরে সে মারিয়ার কাছে এগিয়ে এলো।

“Maria…”

মারিয়া মাথা তুলতেই আর্থারের আঙুল আলতো করে তার গাল ছুঁয়ে গেল। চোখের কোণে লেগে থাকা জলটা মুছে দিল সে।

“তুমি অনেক ভালো কিছু ডিজার্ভ করো। লন্ডনের চাইতে আমরা আয়রা কে অন্য কোনো জায়গায় সিফট হতাম। এত দিন তুমি আমার সহকারী ছিলে। হুট করে কাজ ছেড়ে এখানে চলে এলে তখন আমি খেয়াল করলাম তোমাকে ছাড়া আমি কত টা নিরুপায়। …”

কথাটা ফিসফিস করে বলেই আবেগের বশে ঝুঁকে এলো আর্থার। ঠিক মারিয়ার ঠোঁটের থেকে সামান্য ইঞ্চি দূরে। আর্থার গভীর নিঃশ্বাস মারিয়ার মুখমণ্ডলে পড়ছে।

কিন্তু ঠিক শেষ মুহূর্তে মারিয়া দ্রুত এক পা পিছিয়ে গেল।আর্থারের ঠোঁট থেমে গেল মাঝপথে।

ঘরটা মুহূর্তে নিস্তব্ধ হয়ে গেল।

মারিয়ার নিঃশ্বাস ভারী। চোখে স্পষ্ট অস্বস্তি।

“Don’t…”

খুব নিচু গলায় বলল সে।

আর্থারের হাত ধীরে নিচে নেমে এলো।

তার চোখে এক ঝলক কষ্ট ফুটে উঠলেও সে জোর করে হালকা হাসল।

“Sorry…”

মারিয়া চোখ সরিয়ে নিল।

“জেকব… প্লিজ complicated কোরো না আমাদের সম্পর্ক টা।”

আর্থার কয়েক সেকেন্ড চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল। তারপর ধীরে মাথা নাড়ল।

“Too late for that, sweetheart.”

“আমি সিরিয়াস।” মারিয়া বিরক্তি নিয়ে বলল পুনরায়। চাইলেও আর্থার এর অনুভূতির দাম সে দিতে পারবে না।

“আমিও।”

কথাটা বলেই  দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলল।

“আমি জানি তুমি এখনও তাকে ভুলতে পারোনি।”

মারিয়ার শরীর মুহূর্তে শক্ত হয়ে উঠল।

ইউভান।

নামটা কেউ উচ্চারণ না করলেও তাদের মাঝখানে সবসময় উপস্থিত থাকে।মৃত মানুষের মতো।

আর্থার তিক্ত হেসে বলল, “Funny thing is… আমি একটা মৃত মানুষের সাথেও প্রতিযোগিতায় হারছি।”

“Stop it.” মারিয়া মুখে স্পষ্ট বিরক্তি। তার ভালো লাগে না আর্থার যখন ইউভান এর প্রসঙ্গ তোলে ।

“Why?”

আর্থার এর কণ্ঠ এবার ভারী শোনাল।

“পাঁচ বছর হয়ে গেছে, Maria.”

মারিয়া ধীরে চোখ বন্ধ করল।

“কিছু মানুষকে সময় দিয়েও ভোলা যায় না…”

কথাটা শুনে আর্থার আর কিছু বলল না।

কারণ সে জানে—

মারিয়ার হৃদয়ে

র একটা অংশ এখনও সেই মানুষটার কাছেই আটকে আছে… যাকে সে মৃত বলে বিশ্বাস করে।

________________________________________

এত কম রিভিউ? এত জন পড়ছে! ২০+ হলেই পরবর্তী পর্ব আসবে।

Write a comment ...

Write a comment ...