57

First season The end!

ভিকি  বস এর নির্দেশ মতো  মিহিরিমার নিথর শরীর গাড়িতে রেখে নিজে ড্রাইভ করে নিয়ে গেল শহরের শেষ প্রান্তে টেমস নদীর তীরে। হাতের মাঝে ধারালো এক ছুরি। গাড়ি টা থামিয়ে পেছনের সিটে মিহিরিমার ঠিক পেটের কাছে ছুরি টা ধরলেও তার হাত টা কেঁপে উঠল কোথাও একটা নরম হৃদয়ে নিজের সন্তান এর কথা মনে পড়ে গেল তার।  ভিকি লম্বা শ্বাস নিয়ে গাড়ির ডিকি খুলতেই দেখল একটি মহিলার লাশ । সে চাকু টা দিয়ে তার গলা টা কেটে লাশ টার মুখ টা পাথর দিয়ে খুব বাজে ভাবে থেতলে দিয়ে, তৎপর হাতে বেশ কয়েকটা ফটো তুলে নদীতে ভাসিয়ে দিল।

ভিকি কিছু মুহূর্ত দাঁড়িয়ে রইল; দৃষ্টিতে দুঃখ আর দ্বিধা মিলেমিশে ছিল। নিজের করণীয় নিয়ে সে লম্বা নিঃশ্বাস নিলো, তারপর অচেতন মিহিরিমাকে ঝোপের  পেছনে  ফেলে রেখে ড্রাইভ শুরু করল — কিন্তু তার হাত যেনো কাপছে।

" বস কাজ হয়ে গিয়েছে। She is dead!"

" Vicky.. my boy I'm proud of you"

কল টা কেটে ভিকি তারপর ছুঁড়ে ফেলে দিল জানলার বাইরে। গাড়ি টি   ড্রাইভ করে নিয়ে গেল নতুন উদ্দেশ্যে। তার নতুন ঠিকানায়। এই কালো জগৎ থেকে বহু দূরে!

_________________________________

টেমসের ধারে রাতটা ছিল নিস্তব্ধ, ভোর হওয়ার আগ মুহূর্ত ছিল তখন।   ভিকির গাড়ি চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই নরম চাঁদের আলো পড়ল সেই পথের ওপর। একাকী এক নারী — ধবধবে সাদা পোশাকে, হাতে ছোট্ট টর্চলাইট — হাঁটছিল ধীরে ধীরে নদীর ধারে।

সে ছিলেন এমা ক্লার্ক, কাছের ক্লিনিকের এক নার্স। রাতের শিফট শেষে বাড়ি ফেরার পথে তার চোখে পড়ল রাস্তার পাশে পড়ে থাকা একটি অবয়বে। প্রথমে সে ভেবেছিল কেউ হয়তো মদ্যপ, কিন্তু কাছে যেতেই দেখল — এক তরুণী অচেতন, নিঃশব্দে শুয়ে আছে, ঠোঁটের কোণে রক্তের  ছাপ লেগে।

“হে ঈশ্বর…” এমা হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল। তার প্রশিক্ষিত হাত সঙ্গে সঙ্গে নাড়ি পরীক্ষা করল — মিহিরিমা এখনো বেঁচে আছে, কিন্তু দুর্বল। আরো কিছু লক্ষিত হলো তার তবে আর কিছু না ভেবে এমা তাড়াতাড়ি নিজের ব্যাগ খুলে স্যালাইন ও প্রথমিক ওষুধ বের করল, তারপর ফোন করে ক্লিনিকের এম্বুলেন্স ডাকল।

এমা মিহিরিমার মাথার পাশে একটা নরম কাপড় রেখে বলল,

“তুমি ঠিক হয়ে যাবে,। শুধু একটু ধৈর্য ধরো…”

দূরে অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। চাঁদের আলোয় এমা মিহিরিমার চোখের কোণে কিছু ঝিলিক দেখল — যেন অচেতন অবস্থাতেও কারও নাম উচ্চারণ করতে চাইছে।

“ইউ…ভান…”

এমা এক মুহূর্তের জন্য থেমে গেল। সে জানত না এই নামের মানুষটি কে, কিন্তু বুঝতে পারল — এই নাম টি মেয়েটির সাথে জড়িয়ে আছে।

______________________________________

মিহির ধীরে ধীরে চোখ খুলে চোখে ঝাপসা আলো, কানে  মেশিনের ক্ষীণ বীপের শব্দ টের পেল। নিজের চারপাশে অপরিচিত সাদা দেয়াল, গায়ে স্যালাইনের সূচ দেখে কিছু টা ভয় পেল সে। কিছু বোঝার আগেই এক কোমল কণ্ঠ ভেসে এলো,

“শান্ত হও মেয়ে, তুমি নিরাপদে আছো।”

সামনে দাঁড়িয়ে আছে এক মধ্যবয়সী নারী — ধবধবে নার্সের পোশাকে, চোখে মমতা।

তিনি মৃদু হাসলেন, “আমি এমা ক্লার্ক। তুমি তিন দিন ধরে অচেতন ছিলে… কিন্তু এখন বিপদের কিছু নেই।”

মিহিরিমা ঠোঁট শুকিয়ে বলল, “আমি… কোথায়?”

“কাছের ক্লিনিকে। তোমাকে আমি টেমস নদীর ধারে পেয়েছিলাম,” এমা জানালেন। তারপর একটু থেমে ধীরে বললেন,

“আরও একটা কথা — তুমি পাঁচ মাসের প্রেগন্যান্ট। বেশ জটিল অবস্থা সাবধানে না থাকলে বাচ্চা মা কাউকে বাঁচানো  সম্ভব না!

মুহূর্তের জন্য ঘরটা নিঃশব্দ হয়ে রইল। মিহিরিমার মুখে কোনও শব্দ নেই। যেন সময় থেমে গেছে। বুকের ভেতর কেবল এক অচেনা ধ্বনি — ইউভানের মুখ, ইউভানের চোখ, ইউভানের নিথর দেহ। নাহ নাহ নাহ!!

" কিছু হবে না আমার সন্তান এর । আমি হতে দেবো না। এটা আমাদের ভালোবাসার চিহ্ন। ওরা আমাকে মেরে ফেলতে চায়। ওরা আমাকে মেরে ফেলবে!"

পাগলের মতো চিৎকার করে ওঠে  মিহিরিমা। দুজন নার্স ছুটে এসে তাকে ধরতে চাইলে ছিটকে সরে যায় সে।

এমা ইশারায় তাদের বেরিয়ে যেতে বলে ধীর কন্ঠে বলে, তুমি কে? তোমার পরিচয় জানতে পারি?মিহির কাঁপা গলায় বলল, “না… এখন না। দয়া করে কাউকে কিছু বলো না।”

এমা বোঝে গেল — এই মেয়েটির অতীতে আছে ভয়, আছে গোপন ক্ষত। তাই আর কিছু জিজ্ঞেস করল না। শুধু বলল, “তুমি এখানে থাকবে যতদিন চাইবে। আমি আছি তোমার সঙ্গে।”

মিহি কাঁপা গলায় বলল, “না… দয়া করে কাউকে কিছু বলবেন না। ওরা জানতে পারলে আমাকে মেরে ফেলবে!

এমার চোখে জল টলমল করল। অচেনা মেয়েটির আতঙ্ক তাকে কাঁপিয়ে দিল। তার নিজের মেয়ের কথা মনে পড়ে গেল—যাকে সে এক দুর্ঘটনায় হারিয়েছিল।

তিনি ধীরে মিহিরিমার হাত ধরলেন,

“আমি বুঝতে পারছি তোমার অতীতে কিছু আছে। কিন্তু ভয় পেয়ো না। তুমি এখানে থাকবে যতদিন চাইবে, আমি তোমার পাশে আছি। তোমার ও তোমার সন্তানের নিরাপত্তার ব্যবস্থা আমি করব।”

মিহিরিমা চোখ বুজে ফেলল। এমার কণ্ঠে এমন এক নির্ভরতার স্পর্শ ছিল, যা সে বহুদিন অনুভব করেনি।

তার ভেতর কোথাও একটুখানি বিশ্বাস জন্ম নিল—

হয়তো এখনো পৃথিবীতে কেউ আছে, যে তাকে নিঃস্বার্থভাবে বাঁচাতে চায়।

____________________________________

4 মাস পর

চার মাস কেটে গেছে সেই রাতটার পর।

টেমসের ধারে ছোট্ট ক্লিনিকটায় এখন মিহিরিমার দিন কাটে এক অদ্ভুত নীরবতায়। চারদিকে কেবল সাদা দেওয়াল, আর এমার স্নেহভরা উপস্থিতি। ধীরে ধীরে শরীর সেরে উঠছে, কিন্তু মন—সে তো এখনো অজস্র  ক্ষত তে ভরা।

তবুও প্রতিদিন সন্ধ্যায় জানলার পাশে বসে সে পেটের ভেতর ছোট্ট নড়াচড়া অনুভব করে। কখনও হাসে, কখনও কাঁদে।

এমা মৃদু হেসে বলে, “ও তোমার জীবনের আলো হবে, মিহি।”

কিন্তু সেদিন রাতটা যেন ঈশ্বরও অন্যভাবে লিখে রেখেছিলেন।

আকাশ ভরে উঠেছিল কালো মেঘে। রাত গভীর হতেই শুরু হলো তুমুল ঝড়—বিদ্যুৎ চমক, বৃষ্টি, আর বাতাসের গর্জন।

ঠিক তখনই মিহিরিমার তলপেটে অসহ্য ব্যথা ওঠে। তার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে ওঠে,  চোখে আতঙ্ক।

“এমা… ব্যথা হচ্ছে… এমা…”

চিৎকার করে উঠল সে।

এমা দৌড়ে এসে তার হাত ধরল।

“শান্ত হও শ্বাস নাও, আমি আছি তোমার সঙ্গে।”

বাইরে ঝড়ের গর্জন, ভেতরে এক নারীর যন্ত্রণার চিৎকার। লেবার রুম এর আলো নিভে গেল হঠাৎ, কেবল বজ্রের ঝলকে দেখা যাচ্ছিল দুই নারীর লড়াই—একজনের জীবনের জন্য, আরেকজনের জন্মের জন্য।

ঘণ্টাখানেক পর, ঝড়ের মাঝেই, সেই অন্ধকার ঘরে প্রতিধ্বনিত হলো এক নবজাতকের কান্না।

ঝড় থেমে গেল যেন মুহূর্তেই।

এমা কাঁপা হাতে নবজাতকটিকে কোলে তুলে নিল। ছোট্ট, উষ্ণ, নিঃশব্দ প্রাণ—কিন্তু তার কান্নার শব্দে যেন জীবনের নতুন ঘোষণা।

সে মিহিরিমার পাশে এসে বাচ্চাটিকে তার হাতে তুলে দিয়ে বলল,

“তোমার মেয়ে এসেছে, মিহি… তোমার আলো।”

মিহিরিমা বহু কষ্টে চোখের পাতা খোলে। কাঁপা হাতে শিশুটিকে বুকের কাছে টেনে নিল। তার চোখ বেয়ে নেমে এলো জল, ঠোঁটে বিড়বিড় করে বলে ওঠে,

“ আমার ইউভানের অংশ… আমার একমাত্র ভালোবাসা, আমাদের  আয়রা। "

" আমার জন্য ইউভান আজ আমাদের সাথে নেই। আমার সোনা মা তোর জন্ম পর্যন্তই আমি প্রত্যেকটা দিন এই কষ্ট বুকে বহন করে গিয়েছি। তবে আজ আমার মুক্তির সময় এসেছে । আমি তোর বাবার কাছে যেতে চাই। "

মিহিরিমা বিড়বিড় করে ছোট সদ্যজাত শিশুর কপালে চুমু এঁকে দেয়। দুই চোখ বেয়ে অঝোরে জল গড়িয়ে পড়ছে। চোখ ঝাপসা হয়ে ওঠে ক্রমে ।

" ইউ ভান ন ন!"

" নার্স পেশেন্ট এর রক্ত লস হয়েছে প্রচণ্ড। বিপি লো হচ্ছে ইটস আর্জেন্ট। "

এমা দেখল  মিহিরিমার জ্ঞান নেই। সদ্যজাত কে কোলে নিয়ে সে ডাক্তার কে আকুতি জানায়, ডাক্তার প্লিজ মেয়েটাকে বাঁচান।

" আম ট্রায়িং এমা। কিন্তু পেশেন্ট এর বেঁচে থাকার কোনো ইচ্ছাই নেই!"

ডাক্তার এডওয়ার্ড অনেক চেষ্টার পরও হাল ছেড়ে দিলেন।

" It's over!"

এমা কান্নায় ভেঙে পড়ে। নিজের অজান্তেই সদ্যজাত শিশুর কান্না পুরো হল জুড়ে মুখরিত হতে থাকে।

The end??

.

.

.

.

.

.

.

.

Ofcourse not!!!

_________________________________

Write a comment ...

Write a comment ...