54

His confession ❤️‍🔥

ইউভানের হাতে বন্দুক— দৃষ্টি প্রচণ্ড হিংস্র।  মিহিরিমার বুক ধক করে ওঠে; চোখে কেবল ভয় আর অস্বস্তি। ঘড়ির কাঁটা থমকে গেছে যেন।

ইউভান ধীর কণ্ঠে বলল, “ তুমি কার হয়ে কাজ করছো জান ?”

মিহিরিমা কাঁপা গলায় উত্তর দিল, “আমি—আমি কাউকেই–”

কথাটা শেষ করতেই ইউভান একটু দ্রুত ধাতব  বন্দুক টি  মিহিরিমার কপালে তাক করল।

ইউভান হাত টা নির্দ্বিধায় ট্রিগার পয়েন্ট এ নিয়ে এলো। তার মুখের রেখাগুলো যেনো আরও কঠিন। ডেভিড দুই পা পিছনে সরে এলো  —চোখ কাঁপছে, বডিগার্ডরা দম বন্ধ করে তাকিয়ে আছে। এই দৃশ্য যে দেখতে হবে তাকারোর কল্পনাতেও ছিল না।

" আমার বাবার মৃত্যুর জন্য আপনি দায়ী! খুনি আপনি। প্রমাণ করতে পারবেন আপনি নির্দোষ। আমার বাবা রয়েল  ডাচ কোম্পানিতে কাজ করত।

মিহিরিমা এবার নিজের ভয় কাটিয়ে চেঁচিয়ে ওঠে। তার কণ্ঠে রাগ ক্ষোভ মিশে আছে।

ইউভান  অদ্ভুত চোখে এক পলক দেখল মিহিরিমা কে। বড্ড দুর্বল লাগছে তাকে । চোখের কোণ জ্বলে উঠলেও তার ঠোঁটের কোণে একরকম নির্মম হাসি, যেটা ভয়ের থেকেও ভয়ঙ্কর।

“তোমার বাবা…” — ইউভান ঠান্ডা স্বরে বলল — “ওই নামটা মুখে নিও না আমার সামনে। আমি যা করিনি, তার দোষ আমার ঘাড়ে চাপিয়ে এই নাটক করার কি মানে হটাৎ?"

মিহিরিমা  ইউভান এর ডোন্ট কেয়ার ভাব টা কে ঘৃণা করে। কিন্তু এবার সে ভয় পাবে না । সে কেবল সত্য টা জানতে চায়

“ আপনি মিথ্যে বলছেন! আমার বাবা নির্দোষ , বিনা কারণে তাকে আপনাদের কোম্পানী হেনস্তা করে । সে নিজেকে শেষ করে দিতে বাধ্য হয় আর সেটা আপনি করেছিলেন ইউভান ডিউক! —”

এক মুহূর্তেই ইউভান আবার বন্দুক শক্ত করে ধরে। কিন্তু তার চোখে আগুন,  হাত কাঁপছে।

“চুপ! আমি কাউকে মারিনি!”

“তাহলে কে করেছে?” মিহিরিমা হাঁফাতে হাঁফাতে বলে ওঠে।

পুরো ঘর জুড়ে নিঃশব্দতা ছেয়ে যায়।

মিহিরিমা ফুঁফিয়ে কেঁদে ওঠে। সে যেনো ভেতর থেকে ভেঙে পড়েছে পুরোপুরি।

পাশ থেকে ডেভিড ফিসফিস করে বলে ওঠে, “স্যার… ট্রিগারটা নামান, please…”

" Out! Each and every one get out from here . Except her!"

ডেভিড কিছু বলার সাহস পেল না। মাথা নত করে সম্মতি জানিয়ে সে তার পেছনে উপস্থিত চার জন বডিগার্ড রুম থেকে বেরিয়ে গেল। এখন কেবল ইউভান আর মিহিরিমা উপস্থিত সেখানে।

ইউভান চোখ বন্ধ করে লম্বা নিঃশ্বাস নিল।

তার বুকটা কাঁপছে। ট্রিগার চাপার আগমুহূর্তে  যেন নিজের ভেতরেই যুদ্ধ চলছে।  ইউভান ডিউক এর হাত কপছে বিষয় টা তার কাছেও অজানা ঠেকল। গলার কাছ টায় দলা পাকিয়ে এলো । ইউভান কি দুর্বল হয়ে পড়ছে!

মিহিরিমা এক পা এগিয়ে এলো, চোখে চোখ রাখল।

“মেরে ফেলো, যদি সত্যিই খুনি হও।আমি আর মরতে ভয় পাই না। হাপিয়ে উঠেছি আমি । কোনটা সত্য কোনটা মিথ্যে। আমি আর নিতে পারছি না"

ইউভান এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে মিহিরিমার দিকে। তার স্ত্রী। তার একমাত্র দুর্বলতা।

তার চোখে কোণ জ্বলে ওঠে পুনরায়, কিন্তু মুখের অভিব্যক্তি বদলায় না।

কাঁপা হাতে বন্দুক টা নামিয়ে নেয় সে। মিহিরিমার চোখের প্রতিটা গড়িয়ে পড়া অশ্রু তার বুকে তীরের মতো আঘাত করছে।

ইউভানের কণ্ঠ রুদ্ধস্বরে বলে —

“ মিহিরিমা! তুমি প্রথম দিন থেকে আমার বিরুদ্ধে গোপনে কাজ করে এসছো। আমাদের বিয়েটাও তোমার প্ল্যান এর অংশ। আমার অফিস এর প্রজেক্ট গুলো তুমি ফাঁস করেছ আমি চাইলে যে কোনো মুহূর্তে তোমাকে শেষ করে দিতে পারতাম কিন্তু!"

সে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ে মিহিরিমার ঠিক সামনে, এক নিঃশ্বাসে বলে ওঠে

“Even if you were my enemy, you would still be my weakness… and after everything, you are still mine.”

মিহিরিমা যেনো নিজের জায়গায়  স্থির হয়ে জমে যায় । স্বয়ং ইউভান ডিউক তার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে আছে। সে কি ভুল দেখছে? কোথায় সেই রুথলেস পুরুষ যার কথায় সকলে তটস্থ।

মিহিরিমা নিজেও হাঁটু মুড়ে বসে পড়ে ইউভান এর সামনে। তার চোখে জল। ইউভান কে এভাবে ভেঙে পড়ে যেতে দেখে তার হৃদয় কাপছে। যেই মানুষ টা কিছুক্ষন আগে তাকে মেরে ফেলতে তৎপর ছিল আর এখন যেনো আলাদাই ব্যক্তিত্ব। মিহিরিমা তার কাঁধ আঁকড়ে ধরে ফিসফিসিয়ে বলল, আমি কেবল সত্য টা জানতে চাই ইউভান। আমার বাবার মৃত্যুর সত্য।

ইউভান ঝট করে তাকে নিজের দিকে টেনে নিল। তাদের বক্ষের স্পর্শে মিহিরিমার শরীরে শিউরের মতো অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ল। চোখের ভেতর জ্বলছে আগুন—রাগ, হতাশা, আর এক অদ্ভুত আকর্ষণ, যেটা মিহিরিমা স্বীকার করতে বাধ্য।

“তো মিহিরিমা বর্মন বিলিয়নিয়ার ইউভান ডিউককে ফাঁসাতে গিয়ে নিজেই দুর্বল হয়ে পড়েছে দেখছি…”

মিহিরিমা শ্বাস ফেলতে ভুলে গেল। ইউভানের নিঃশ্বাস তার মুখ ছুঁয়ে যাচ্ছে।

“ছাড়ুন আমাকে…” — তার কণ্ঠ কাঁপছে, কিন্তু সে কোনো প্রতিবাদ করল না। ইউভান কে চাইলেও নিজের জীবন থেকে আলাদা করতে পারবে কি?

ইউভান ঠান্ডা স্বরে বলল,

“তুমি ভাবো আমি জানি না তুমি আমাকে ঘৃণা করো? কিন্তু আমার ভেতরে যা চলছে, সেটা ঘৃণার চেয়েও ভয়ংকর। তুমি আমায়  ধ্বংস করতে চেয়েছ কিন্তু তুমি হয়তো ভুলে গিয়েছ আমি ইউভান ডিউক। আমি প্রথম থেকেই তোমার হাতে  ধ্বংস হতে চেয়েছি। "

“আমি তোমাকে ঘৃণা করা শিখতে পারিনি,” — ইউভানের গলা ভাঙা, “তুমি যতবার আমায় আঘাত করেছ, আমি ততবার তোমার কাছে ফিরে এসেছি।”

মিহিরিমা এক মুহূর্ত স্থির রইল, তারপর ফিসফিসিয়ে বলে,

“ ইউভান আপনি সব জানতেন! তবুও কেনো..

“প্রতিটা পদক্ষেপ, প্রতিটা নিঃশ্বাস… তুমি আমার মায়াবী, আমার অভিমানী, আমার obsession। Even if you hate me, I love you more than that,” ইউভান ধীরস্বরে বলল।

মিহিরিমার বুক টা ধক করে উঠল। গলা শুকিয়ে এলো। সে কি ঠিক শুনেছে ? ইউভান তাকে ভালবাসে? তার আকুতি ভরা কথা গুলো কেনো তাকে দুর্বল করে দিচ্ছে আরো! এত কিছুর পর ও মিহিরিমার মন চাচ্ছে মানুষটা কে একটু জড়িয়ে ধরতে। বলে দিতে তার অনাগত সন্তান এর আগমনের কথা ।

কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে কানের ব্লুটুথ ডিভাইস থেকে তীব্র বার্তা এসেছে—

"গোডাউনে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে টিম ব্ল্যাক রা। ইটস আর্জেন্ট। উই নিড ইউ!"

ইউভানের মুখমণ্ডল মুহূর্তে কঠিন আবরণের নিচে ঢেকে যায়।

মিহিরিমা তার রূপান্তরিত স্বভাব বুঝতে পারল না, উদ্বিগ্ন হয়ে বলল, “কি হলো আপনার?!”

ইউভান দ্রুত উত্তর দিল, “জান… ইটস আর্জেন্ট। আমাকে যেতে হবে। এখনই। Even if you hate me. I love you. Take care.

মিহিরিমা পূনরায় থমকাল। কান লালচে আভা ছড়িয়ে পড়ল। তবুও সন্ধিদান  গলায় সে বলে,

" কোথায় যাচ্ছেন আপনি এত রাতে! সেটা তো বলে যান। এত লুকোচুরি কিসের  ইউভান। আপনি কি কেবল বিজনেস ম্যান ?

ইউভান  সন্তর্পনে তার চোখের জল মুছে রুক্ষ গলায় বলল, shhh! I hate questions. Jaan just wait for me.

মিহিরিমা কিছু বুঝতে পারল না । তার চোখ ঘোলাটে হয়ে এলো অশ্রু তে। সে কেবল ইউভান চলে যাওয়া টা দেখল। ইউভান পুনরায় তাকে প্রশ্ন উ

ত্তরের মাঝে ঝুলিয়ে রেখে গেছে।

" তুমি বরাবরের মতো আমায় পুনরায় মাঝ পথে ফেলে  চলে গেলে ইউভান! আই জাস্ট হেট ইউ!

Write a comment ...

Write a comment ...