লন্ডনের আকাশটা আজ অদ্ভুত ধূসর। বৃষ্টি নামেনি, কিন্তু বাতাসে ভারী অস্বস্তি। সাড়ে সাত ঘণ্টা ফ্লাইট জার্নি করে অবশেষে দেশে ফিরল ইউভান। ডেভিড এর সাথে বডি গার্ড রা উপস্থিত তার জন্য, তবে তার মুখে কোনো অভিব্যক্তি নেই আজ — অদ্ভুত নিস্তব্ধ, কিন্তু চোখে এমন এক আগুন, যা শব্দে প্রকাশ করা যায় না।
ইউভান গাড়িতে উঠে বসল।
ডেভিড ড্রাইভ করছিল । খানিক নিস্তব্দতার পর সে ইতস্তত হয়ে বলল,
“স্যার… আমি যতটুকু জানি, মিহিরিমা ম্যাম পালিয়ে হাসপাতালে থেকে অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিলেন, দুদিন হলো কোথাও তার খোঁজ নেই ।
ইউভান কেবল সংক্ষিপ্তভাবে উত্তর দিল,
“আমি জানি।”
ডেভিড শুকনো ঢোক গিলল। ইউভান এর সাথে এত বছর যাবত আছে সে তবুও এই প্রথম ইউভান এর নিস্তব্দতা দেখে ধৈর্য হারাচ্ছে। যে মিহিরিমা ম্যাম কে এক পলক নজরের আড়ালে যেতে দেন না। কোনো আঁচ লাগতে দেন নি কোনোদিন। তবে আজ কি হলো? ম্যাম হটাৎ হাসপাতাল থেকে কেনো উধাও হলেন আর স্যার নিজেও কেনো এত চুপচাপ যেটা ডেভিড এর মাথায় ঠেকছে না।
গাড়িটা ভিলার সামনে এসে পৌঁছাতেই ইউভান নিস্তব্দ ভঙ্গিতে নেমে যায় যদিও ডেভিড একটু হোঁচট খেল। ইউভান মিহিরিমার নিরুদ্দেশ হওয়ার খবর পেয়ে এত শান্ত এত রিলেক্স কি করে! ডেভিড শূন্য দৃষ্টি তে চেয়ে রইল কেবল।
ইউভান সরাসরি এসে নিজের লাইব্রেরী রুমে ঢুকে শরীর এলিয়ে দেয়। চোখ লালচে হয়ে উঠেছে সারা রাত না ঘুমানোর ফলে। পুরো রুম অন্ধকার। ক্রমাগত সিগারেটের ধোঁয়ায় ঘর টি ঢেকে এলো। ইউভান ঠায় ওভাবে বসে রইল। নিজের ফোন টুকুও ছুঁয়ে দেখে নি সে।
ডেভিড ক্রমাগত লাইব্রেরির বাইরে পায়চারি করছে। তার বুক কাপছে ইউভান এর সাথে কথা বলতে গিয়ে। দরজা ওপর পাশ থেকে বন্ধ। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পর ও দরজা খোলার কোনো উপায় দেখতে না পেয়ে তার চিন্তা আরো গ্রাস করল। ইউভান না বললেও ডেভিড মিহিরিমা কে খুঁজতে লেগে পড়েছে। কোথায় গেল একদিনের মধ্যে!
ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যায়—
ডেভিড বুঝতে পারে না, ইউভানের এই নীরবতা রাগ, না শোক।
ডেভিড এখনো সাহসে কুলায় নি দরজা নক করার।
ঠিক তখনই সদর দরজার সামনে হঠাৎ দু’জন গার্ড এসে থামল।
তাদের পোশাকে ধুলো, আর কাদার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
একজন জোরে বলে উঠল, “স্যার— আমরা ম্যাম পেয়েছি।”
ডেভিড বিস্ময়ে ঘুরে দাঁড়াল, “কি!?”
দু’জন গার্ড টেনে ভেতরে আনল এক ছায়ামূর্তি কে—
চুল এলোমেলো, গায়ে কাদা লেগে আছে, মুখ শুকিয়ে গিয়েছে মিহিরিমা! ডেভিড এক পলকে চিন্তে পারল তাকে। হাজারো প্রশ্নের মাঝে কোথাও একটা চিন্তে ভাব টা সামান্য কমল।
দুজন বডি গার্ড মিহিরিমা কে প্রায় জাপটে ধরে এনেছে। ডেভিড কিছু বলার আগেই লাইব্রেরির দরজার নক খোলার আওয়াজ কানে এলো সকলের।
ইউভান ডিউক! শার্ট এর দুটো বোতাম খোলা। চুল এলোমেলো। লালচে চোখ । যে কেউ প্রথম দেখাতেই থমকাবেই!
ঘর নিস্তব্ধ হয়ে গেল। ইউভান ধীরে মাথা তুলল, দৃষ্টি কেবল একজনের দিকে স্থির হয়ে রয়েছে ।
হিম শীতল গলায় সে বলল
“তুমি… ফিরে এসেছ?”
মিহিরিমা স্থির চোখে তাকিয়ে রইল, ঠোঁট টা দিয়ে দাঁত পিষে থেমে থেমে বলল। তার শরীর ভেঙে পড়েছে। সে কোথায় ছিল কোথায় গিয়েছিল জানা নেই। সে নিজে ফিরেও এসেছে। অদ্ভুত!
“আমি পালাইনি, ইউভান। আমি ... আমি"
ডেভিড কিছু বলার আগেই, ইউভান এবার এক ধ্যানে প্রত্যক্ষ করছিল মিহিরিমা কে।
চুল এলোমেলো, চোখ রক্তিম, শার্টের বোতাম খোলা।
" Don't you dare to touch her. Leave her"
নির্দেশ টি করা মাত্রই বডি গার্ড দুটি মিহিরিমা কে ছেড়ে দেয়। মিহিরিমা লম্বা লম্বা শ্বাস নিতে থাকে ঠিক সেই সময়,
এক সেকেন্ডে বন্দুকের ঠাণ্ডা ধাতু মিহিরিমার কপালে ঠেকে গেল।
ডেভিডের বুক কেঁপে উঠল দৃশ্য টি দেখে। মিহিরিমা দুই কদম পিছিয়ে গেল
ইউভান বাঁকা হাসল। বন্দুক টি মিহিরিমার চেস্ট
এর কাছাকাছি তাক করে হিসহিসিয়ে বলল
“কার হয়ে কাজ করছো এত দিন ?”
Write a comment ...