52

আপনি কে?

দুবাইয়ের রাত্রি।

মহামূল্যবান স্কাই হোটেলের ৩৭ তলায়, শহরের আলোয় জ্বলজ্বল করছে  চারপাশ । টেবিলের ওপরে গ্লাসে রাখা অর্ধেক শ্যাম্পেইন, কিন্তু সেদিকে ইউভান এর ধ্যান নেই ।

ইউভান জানালার ধারে দাঁড়িয়ে কথা বলছে ডেভিডের সঙ্গে।

তার কণ্ঠ গম্ভীর, ক্লান্ত।

“দুবাইয়ের মিটিংটা শেষ করলেই আমি ফিরব, ডেভিড। এখন কোনো ঝামেলা চাই না।”

ডেভিড জবাব দিল, “স্যার, মিডিয়া আপনাকে নিয়ে ইতিমধ্যে গসিপ করছে। আপনার রুমের সিসিটিভি  এক্সেস তো এত সহজে পাওয়া যাবে না। লন্ডন হেডকোয়ার্টার এ লিংক রয়েছে”

ইউভান তাচ্ছিল্যের হাসি দিল, “its not about lara. এর মাষ্টার মাইন্ড অন্য কেউ।

তার রুমের এক পাশে থাকা CCTV ক্যামেরার ফিড তখন থেকেই হ্যাকড হয়েছে। কেউ একজন স্কাই হোটেলের সার্ভার থেকে তার রুমের ফুটেজ রেকর্ড করছে মুহূর্তের মধ্যে ইউভান আর লারার কিছু দৃশ্য লিক হয়েছে

আর সেই ভিডিও, সম্পাদিত রূপে, তিন ঘণ্টার মধ্যে ছড়িয়ে গেল ইন্টারনেট জুড়ে —

একই শিরোনামে প্রতিটি নিউজ পোর্টালে—

> “Billionaire Yuvaan Duke Caught with Supermodel Lara Gomez in Dubai Hotel!”

Exclusive footage leaked from the top floor of Sky Tower!

ভোর হতেই সারা দুনিয়ার মিডিয়া একযোগে ভিডিওটা চালাচ্ছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রেন্ড করছে — #YuvaanDukeAffair #LaraExposed।

ইউভান খবরটা প্রথম জানতে পারে নিজের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডেভিড এর ফোনে।

স্ক্রিনে ভেসে উঠল তারই মুখ — পাশে লারা।

ভিডিওটা দেখে ইউভানের চোখ দুটো রাগে লালচে হয়ে উঠল।

“এই ফুটেজটা এডিট করা!” সে চেঁচিয়ে উঠল।

“আমার ড্রিঙ্কস এ কিছু একটা মেশানো হয়েছিল ডেভিড! হুট করে সব অন্ধকার হয়ে যায় চোখের সামনে!"

ডেভিড তখনই  বলল,

“স্যার, ভিডিওটা আপলোড হয়েছে এমন একটা IP থেকে যেটা আমাদের লন্ডন হেডকোয়ার্টারের ভেতর থেকে। এটা বাইরে কেউ করতে পারার কথা নয়।”

ইউভান রাগে গলায় চাপা আগুন নিয়ে বলল,

“Inside job? That means someone from our own system sold it!”

তারপর ধীরে ধীরে সে নিঃশ্বাস ছাড়ল,

চোখে তীব্র দৃঢ়তা নিয়ে বলল,

“Find who accessed that camera feed last night. আমি রেহানকে খবর দিচ্ছি। কেউ আমার নাম মাটিতে নামাতে চাইছে।”

কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে, রেহানের ফোন unreachable।

আর ইউভানের ইনবক্সে ঢোকে এক অচেনা ইমেইল :- "Prepare yourself — for the shadow your wife has wrapped you in day after day. She has been working against you all this time.”

ডেভিড সেই মেসেজটা দেখে প্রথমবারের মতো কেঁপে উঠল। অদ্ভুত রাগ হলো!

সার্ভারে দেখা গেল অদ্ভুত কিছু —

একটা অজানা ইউজার আইডি, নাম R.AN_7,

যে তিনদিন আগে থেকেই কোম্পানির মিডিয়া ডিপার্টমেন্টে রিমোট লগইন করেছিল।

আর সে-ই প্রথম ফুটেজ ডাউনলোড করেছে এবং বিদেশি নিউজ পোর্টালে পাঠিয়েছে।

ইউভান ধীরে তাকিয়ে বলল, “ডেভিড— একটা বড় দায়িত্ব দিচ্ছি তোমায় কোনো ভুলের সুযোগ নেই। তুমি লন্ডনে যাও — আজকের মধ্যে। সবকিছু তোমার কাঁধে। মিহিরিমা কে চোখের আড়ালে হতে দেবে না তোমার। তুমি যাওয়ার এক দিনের মাথায় আমি সেখানে পৌঁছে যাবো Understand?”

ডেভিড এক শব্দে “Yes, sir.” বলল, কিন্তু তার কণ্ঠে গম্ভীর ভাব ছিল না; বরং সেখানে ছিল চিন্তার রেশ। ইউভান ওর দিকে একটি সূক্ষ্ম  দৃষ্টি রেখে বলল—“I’m sending you alone. No publicity. No leaks. Find who uploaded the footage, identify the source, secure the servers, and bring me the names. And—” সেখানে এক দীর্ঘ বিরতি রেখে যোগ করল—“Bring Lara here. Alive. I want answers.”

ডেভিড মাথা নেড়ে বলল, “Understood. I’ll handle it.”

ইউভান ফোনে দ্রুত টাইপ করে এক লাইন মেসেজ পাঠাল—"Flight 00:45. Booked. Team ready. No mistakes."

ডেভিড পকেটে নিজের ফোন বের করে কিছু কাজ করল—একটি তালিকা: নাম ফোন নাম্বার, অ্যাক্সেস কোডগুলো এক পলক দেখে; তারপর গভীর স্বরে বলল, “I’ll be on the 00:45 flight. I’ll call you the moment I have anything concrete. We’ll find who did this.”

ইউভান দাঁড়িয়ে দু’দফা নিঃশ্বাস নিয়ে বলল, “And David—if they try to hurt my wife, I want you to remember: no matter who it is, make them regret existing.”

ডেভিড ঠেসে বলল, “Yes, sir.”

আর কয়েক মিনিট পরই সে বেরিয়ে পড়ল— লন্ডন এর উদ্দেশ্যে!

___________________________________

হাসপাতাল এর সরু রাস্তা ছেড়ে  রাতের  ধুলো মাখা মেইন রোডে এক নিঃশ্বাসে ছুটে যাচ্ছিল মিহিরিমা। পরণে তখনও হাসপাতাল জামা লেপ্টে। মুখ পুরোটা বাঁধা রয়েছে রোজির দেওয়া স্কার্ফ দিয়ে।তখনই একটি গাড়ি হঠাৎ তার পাশ দিয়ে থামল। গাড়ির কাচ সোজা নেমে গেলো — ভেতর থেকে এক তীক্ষ্ণ কণ্ঠ বলল, “মিস মিহিরিমা, দ্রুত উঠে যাও।

মিহিরিমা থমকাল। কন্ঠ টা তার চেনা! না ইউভান ডিউক এর না বরং সেই ফোনের ওপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তিটির কন্ঠ এটা। মিহিরিমা ভয়ে কাঁপছে। কোথায় যাবে কি করবে তার কাছে কোনো রাস্তা নেই।  কোনো উপন্তর না পেয়ে গাড়িতে উঠে বসল সে।  গাড়ির চালক এর ঠোঁটে বাঁকা হাসি টা সে খেয়াল করল না।

গাড়ি শহরের আলো পার হয়ে পুরনো গলিপথে ঢুকল। জানালা বাইরে অচেনা দিক, ভিতরে অচেনা মানুষ—মিহিরিমার মনে ভয় আর আশ্চর্যের একসাথে মিশ্রণ দেখা যায়। কেন তাকে লুকিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে? কে এই মানুষগুলো?

গাড়ি যখন থামল, তারা পৌঁছালো একটি পুরোনো ভবনের দরজায়—কোনো নামফলক নেই, বাইরে আলো কম, ভিতরে আলোকিত এক লাউঞ্জ। ভেতরে ঢুকতেই কয়েকজন চেহারা কৌতুকভরে তাকালো; মনিটরগুলো চালু, দেয়ালে নানা স্ক্রিন—সবকিছু পরিকল্পিত, প্রযোজিত। একজন ধীর, ব্যক্তিত্বশালী কণ্ঠে বলল, “অবশেষে।” মিহিরিমা দাঁড়িয়ে রইল—কণ্ঠে কেবল এক প্রশ্ন, “ কে আপনি? "

মিহিরিমা খেয়াল করল ভবন টির হল রুমে এখন কেবল দুজন রয়েছে সে আর এই অচেনা সানগ্লাস পরিহিত ব্যক্তি।

" আমি কে? হুম? তুমি আমায় খুব ভালো করে চেনো   সুইটহার্ট। আমার তোমার সাথে প্রথম দিন থেকে  ছিলাম। তোমার প্রতিটা পদক্ষেপে ।"

মিহিরিমা ভয় ও কৌতূহলের মিশ্রণে জিজ্ঞেস করল,

“আপনি কে? কেন আমাকে এখানে নিয়ে এলেন?”

পুরুষটি সানগ্লাস খুলে সরলভাবে বলল, “ আমি ইউভান ডিউকের শত্রু। নাম জানার দরকার নেই— তুমি আজকে এখানে এসেছো কারণ তুমি তার দুর্বলতা।”

পুনরায় হিংস্র হেসে ব্যক্তি হিসহিসিয়ে বলল,

তুমি জানো ইউভান ডিউককে? Executor, আন্ডারওয়ার্ল্ডের সবচেয়ে ভয়ংকর নাম? হ্যাঁ, সে সেই ইউভান—কিন্তু তুমি কি জানো, সে কত টা হিংস্র এবং খুনি!

Write a comment ...

Write a comment ...