50

She’s Gone

মনিটর এর বিপ বিপ শব্দে মিহিরিমার পাতলা শরীর টা নড়ে উঠলো। পেটের কাছ টা অসহ্য একটা চিন চিনে ব্যথা অনুভব করল সে। চোখ খুলতেই নিজেকে হাসপাতালের বেডে নিজেকে আবিষ্কার করল মিহিরিমা।

" "You have finally regained consciousness. You are still very weak."

একজন লেডি ডাক্তার এর স্পষ্ট গলায় মিহিরিমা নিজের দুর্বল শরীর নিয়ে উঠে বসার চেষ্টা করল। রোজী তৎক্ষণাৎ এগিয়ে গিয়ে তাকে ধরল। প্রায় একদিন পর মিহিরিমার জ্ঞান ফিরেছে। রোজী নিজে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছিল। সর্বক্ষণ তার পাশে থেকেছে।

" ধন্যবাদ  ডক্টর! আমি জানি না হঠাৎ সব কিছু অন্ধকার হয়ে এলো। "

লেডি ডাক্তার টি ওনার হাতের রিপোর্ট টা নিয়ে বেশ চিন্তিত গলায় বললেন, " আপনার হাসবেন্ড কোথায় মিসেস ডিউক?"

মিহিরিমা গলায় শক্ত চাপ অনুভব করল। ইশারায় রোজীর দিকে তাকাতে সে মাথা নাড়িয়ে বলল, ডক্টর স্যার বাইরে আছেন দেশের। তাই আপনি প্লিজ খোলাখুলি ভাবে বলুন কি হয়েছে মিহিরিমা দির।

ডাক্তার কিছুক্ষণ রিপোর্ট টি ধরে মিহিরিমার দিকে এক পলক তাকিয়ে ফাইল টা তার হাতে তুলে দেয়।

মিহিরিমা জ্ঞান শূন্য  ভঙ্গি তে ফাইল টা তুললেও, ফাইলটা খুলে তার চোখের দৃষ্টি স্থির হয়ে পড়ে। চোখ দিয়ে আপন গতিতে জল গড়িয়ে পড়ে ।

" ম্যাম কি হয়েছে আপনার? কি লেখা আছে রিপোর্ট এ। ডাক্তার আপনি কিছু...."

রোজির কথা শেষ করার আগেই কেবিনের কাচের দরজা ভেদ করে হিলের আওয়াজ তুলে প্রবেশ করে পরিচিত এক মুখ। ইসাবেলা!

মিহিরিমা পাথরের মতো দৃষ্টি এখনো রিপোর্ট টিতে স্থির ছিল। রোজী আড়ষ্ট হলো ইসাবেলার উপস্থিতিতে। কাল ইসাবেলার জন্যই আজ মিহিরিমার এই পরিস্থিতি রোজী ভালো করে জানে। ইসাবেলা বেরিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মিহিরিমা জ্ঞান হারায়।

ইসাবেলা নিজস্ব ভঙ্গি তে  ডক্টর কে বললেন, can I talk to her?

ডক্টর মাথা দুলিয়ে সম্মতি জানিয়ে কেবিন থেকে বিদায় নিলেও। রোজী ঠায় মিহিরিমার কাছ ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকে।

ইসাবেলা রোজির দিকে তীক্ষ্ম দৃষ্টি রেখে মিহিরিমা কে ভালো মতো পরখ করে বলল, সো মিস মিহিরিমা বর্মন সামান্য ছবি দেখাতেই অজ্ঞান হয়ে গেল স্ট্রেঞ্জ!

মিহিরিমা চোখ বন্ধ করে রিপোর্ট টা নিজের কাছে চেপে লম্বা শ্বাস নিল।

তারপর শান্ত অথচ দৃঢ় কন্ঠে বলল, মিসেস মিহিরিমা ডিউক! তুমি আমার নাম ভুল নিচ্ছ ইসাবেলা।

ইসাবেলার চোখ মুখ শক্ত করে গর্জে ওঠে, হাউ ডেয়ার ইউ  , আমার নাম মুখে নিচ্ছ কোন অডাসিটি তে? তোমার তেজ এখনো কমে নি এত কিছুর পর ও?

মিহিরিমা ভ্রু কুঁচকে ফেলল  ইসাবেলার বিশ্রী চিৎকারে।

" আস্তে! তোমাকে এখানে কেউ আসতে বলে নি। আর সম্পর্কে আমি তোমার বড় হই! সেই হিসেবে বড় রা ছোটদের ভুল গুলো শুধরে দেয় তাই না!!"

ইসাবেলা রাগে গজগজ করে উঠল। মিহিরিমার এত অডাসিটি তাকে এইভাবে কথা বলছে।

" তোমার এখনো বিশ্বাস হয়  তোমার সো কল্ড হাসবেন্ড তোমার কথা ভাবছে। তুমি ভাবতেই পারো ছবি গুলো নেহাত ফেক। তবে এটা কি? "

ইসাবেলা রীতিমতো হাঁপাতে হাঁপাতে নিজের ফোন বের করে একটি নিউজ পোর্টাল বের করল।

" দেখো মিসেস সো কল্ড মিহিরিমা ডিউক , কি লেখা আছে এতে। পড়!"

মিহিরিমা ইসাবেলার উগ্র মেজাজে খানিক টা কেঁপে উঠল। নিজেকে যতই শক্ত দেখানোর চেষ্টা করুক কিন্তু মনের মাঝে কেমন যেনো সন্দেহ দানা বাঁধতে শুরু করেছে। এত গুলো দিন কোনো ফোন ম্যসেজ নেই  ইউভান এর তরফ থেকে। মিহিরিমা ভেতর যেনো কেউ ভেঙে দিচ্ছে।

ইসাবেলার ফোনটা নিজের চোখের সামনে তুলে ধরল সে।

Big Breaking: Billionaire Yuvaan Duke’s Secret Affair with Model Lara Gomez Exposed!

In a shocking revelation, billionaire tycoon Yuvaan Duke has been spotted in Dubai with international model Lara Gomez, sparking rumors of a secret relationship.

According to exclusive sources, Duke—who is already married—was seen checking into a luxury hotel with Gomez late at night. Their close interactions have raised serious questions: Is the billionaire unhappy in his marriage? Or is there more to this alleged affair than meets the eye?

মিহিরিমা নিজের জায়গায় শক্ত হয়ে জমে যায় যেন! ইন্টারন্যাশনাল নিউজ পোর্টাল এ আজকের ছাপা একটি নিউজ। বুকের রক্ত  ছলকে ওঠে তার। কিন্তু চোখ ফেটে জল টুকুই বেরোলো না কেবল ।

ইসাবেলা তার ফোন নিয়ে বিশ্ব জয়ের হাসি দিয়ে হিসহিসিয়ে বলে, দেখলে! বিয়ের আগের থেকে লারার সাথে তার সম্পর্ক। তুমি ওদের মাঝে এসেছো! নয়তো তোমার মতো, সাধারণ মেয়ে কি ইউভান কে বিয়ে করতে পারে!

মিহিরিমা তিক্ত হেসে উঠল। এই বিয়ে রুমার সব কিছু নাটক ছিল সে জানত , ইউভান ডিউক তাকে জেদের বসে আটকে রাখতে চাইছে কিন্তু তারপর ও কি করে মিহিরিমা এত বড় ভুল করল। ইউভান কে নিজের মনে গেঁথে ফেলেছে এত গাঢ় করে। মনে হচ্ছে সব কিছু মিথ্যে। সব! কিন্তু ইউভান কি করে পারল এত টা নাটক করতে? পোসেসিভনেস, দিনের পর দিন ঘনিষ্ঠতা, পাগল করা স্পর্শ। সব সময় নিজের দাবি করা ! সব কি নাটক ছিল,?

ইসাবেলা বিদায় নিলেও মিহিরিমা একভাবেই বসে থাকে। সে কাদঁছে না ঠিকই কিন্তু বুকের রক্ত ক্ষরণ টা সে কেবল নিজস্ব। 

" দি তুমি যেই সিদ্ধান্ত নেবে । আমি তোমার সাথে আছি । আমি তোমাকে এই অবস্থায় একা কিছুতেই ছাড়তে পারবো না"

রোজী আবেগী অথচ দৃঢ় কন্ঠে মিহিরিমা নিজের পেটের ওপর হাত রাখল। ডুকরে কেঁদে উঠলো সে। পাগল পাগল লাগছে তার। কোথায় যাবে সে? কি করবে?

না! ভেঙে পড়লে চলবে না। মিহিরিমার আপাতত মুক্তি চায়। বাইরে কঠোর পাহারায় আবৃত অবস্থায় নিজেকে পরাধীন মনে করে সে।

" আমায় খালি এখান থেকে বের হতে সাহায্য করবে রোজী?"

রোজী আঁতকে ওঠে। এত কড়া পাহারা ভেদ করে কোথায় যাবে দি?

মিহিরিমা মুখে স্বল্প বাঁকা হাসি খেলে যায়, আমাকে এই পটভূমিতে প্রথম দিন থেকে দান হিসেবে চালানো হচ্ছে। আমি এসবের থেকে মুক্তি চাই।

রোজী আর কোনো প্রশ্ন করার প্রয়োজন মনে করল না। মাথা নত করে সম্মতি জানাল।

_________________________________________

ডেভিড দুবাই থেকে সোজা লন্ডনে এসেছে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে। রোজীর একটি বার্তা পাওয়া মাত্রই ডেভিড নিজের কাজে লেগে যায়। দেহ রক্ষীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। হাসপাতাল কে পুরো ভাবে ঘিরে ফেলা হয়েছে বডিগার্ড দের কড়া আওয়াতায়। ডেভিড এর গাড়ি হাসপাতালের সামনে দাঁড়াতেই , জায়গা মতো এলার্ট পৌঁছে যায়।

" স্যার রোজী আর ম্যাম এখানেই রয়েছে দুদিন থেকে। ম্যাম ঠিক আছে এখন। বেড রেস্ট দিয়েছেন ডাক্তার!"

টারজান নামক এক দেহরক্ষীর কথায় ডেভিড ভ্রু কুঁচকে বলল, কি হয়েছে ম্যাম এর এক্সাক্টলি।

" সেটার রিপোর্ট আমাদের জানা হয় নি। রোজী জানে"

ডেভিড মাথা নাড়াল। হিসেব মতো তাকে দ্রুত  মিহিরিমার কেবিন এর পথে পা বাড়ায় সে।

পাঁচ মিনিট হেঁটে  ডেভিড প্রায় মিহিরিমার কেবিনের কাছে উপস্থিত হয়। সে হঠাৎ টারজান কে নির্দেশ দেয়, ম্যাম এর ডাক্তার কে আমার কাছে নিয়ে এসো। ম্যাম রিপোর্ট এর সব খবর আমার চাই।

ঠিকই তখনই এক দেহরক্ষীর আওয়াজ আসে কেবিন থেকে।

" ডেভিড  ম্যাম তো ভেতরে নেই, সব ভেঙে পরে আছে। "

ডেভিড আর অপেক্ষা না করে দ্রুত কেবিনে ছুটে যায়। কেবিনের মনিটর, ভেঙে কাচ ছিটিয়ে আছে। ঘর টি তছনছ হয়ে রয়েছে। ডেভিড অস্থির ভঙ্গিতে রোজী কে কেবিনের এক কিনারে মাথা নত করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখল। তার চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল রাগে।  রোজীর থেকে ঠিক দুই কদম দূরে ডেভিড দাঁড়িয়ে, কাঠ কাঠ গলায় বলে ওঠে, ম্যাম কোথায়, রোজী?

রোজী নির্বিকার ভঙ্গিতে জবাব দেয়, আমি জানি না।

ডেভিড এর হাতের মুঠো শক্ত করে পুনরায় জিজ্ঞেস করে, আমি এক প্রশ্ন দুবার জিজ্ঞেস করি না তুমি নিশ্চয় জানো। পরিষ্কার কথায় বলো, ম্যাম কে পালিয়ে যেতে তুমি সাহায্য করেছো? কোথায় সে এখন?

রোজী চুপ করে থাকে। আবার ও ডেভিড জিজ্ঞেস করে প্রশ্ন টি কিন্তু রোজী নির্বিকার চিত্তে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে। ডেভিড এর শক্ত হাতের দাবা রোজীর গালে  পাঁচ আঙুল এর  ছাপ বসিয়ে দেয়। হাঁটু ভেঙে নীচে বসে পড়ে সে। ঠোঁট ফেটে রক্ত উগরে আসে। চোখের কোণে জল গড়িয়ে পড়ে।

" যতক্ষ

ণ না মুখ থেকে কিছু বের করে, আটকে রাখো!"

ডেভিড এর কড়া হুকুমে রোজী কে তুলে নিয়ে যায় দুই জন দেহ রক্ষী।

Write a comment ...

Write a comment ...