49

He is cheating with her??!

" I'm landed safely. Take care."

From Mr. Duke

মিহিরিমা বার কয়েক একই ম্যসেজ পড়ে ফেলেছে ম্যাসেজ টি তবুও প্রতিউত্তর হিসেবে কি লেখা যায় সেটাই ভেবে পাচ্ছে না। ভোর হতে না হতেই দুবাই এর উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল ইউভান। Royal Dutch কোম্পানির বাকি সদস্য রাও সেখানে উপস্থিত থাকবে। স্বাভাবিক ! ওখানে এত বড় প্রজেক্ট এর প্রেজেন্টেশন হবে। তবে মিহিরিমা যত টুকু জানে ইউভান এখান থেকে অন্য ফ্লাইটে গিয়েছে। বাকি সদস্যরা আলাদা ফ্লাইটে ।

ব্যাপার টা আসলেও তা নয়, তার কাছে অস্বাভাবিক লাগছে ডেভিড ইউভান এর সাথে যায় নি। সে যেনো তার সর্বক্ষণের রক্ষী হিসেবে ইউভান তাকে  দায়িত্ব দিয়ে গিয়েছে। ইউভান বেরিয়ে যাওয়ার পর ই  ডেভিড তাকে ভিলায় নিয়ে আসে।  অদ্ভুত ভাবে ইউভান বিদায় নেওয়ার এক দিন না হতেই , মিহিরিমার মাঝে শূন্যতা গ্রাস করতে থাকে। এত রাজকীয় একটি ভিলা অথচ হাতে গোনা মানুষ থাকে এখানে।

ডেভিড এর সাথে করে মিহিরিমা তার মা কে সন্ধ্যে নাগাদ একবার দেখে আসে। মিসেস লেরিন এর এত বড় অপরেশন থেকে রিকোভার হতে সময় লাগবে বলে ওনাকে হসপিটাল এর তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। মিহিরিমা বেশ অনেকবার মিস ফ্লোরা কে তার সাথে থাকার কথা বললেও মিস ফ্লোরা রাজি হলেন না মোটেই, হয়তো বা সংকোচ বা লজ্জায়।  মিহিরিমা পুরো সন্ধ্যে তে হসপিটাল এই কাটিয়ে দেয় দেয়, ডেভিড এসে তাকে বাড়ি ফেরার তলব করলে, মিহিরিমা মিস ফ্লোরা কে তার মায়ের ওষুধ গুলো বুঝিয়ে ফিরে আসে ভিলায়।

গাড়ি তে বসে নিজের ফোন চেক করতে গিয়েই ইউভান এর তরফ থেকে ম্যাসেজ টি পায় সে। সেটা লন্ডনের সময় হিসেবে বিকেল ৬ টা। এখন বাজছে ঘড়িতে রাত ১০ টা। মিহিরিমা খেয়াল করল ইউভান দুবাই এর উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পর একটি বার ফোন ও সে করে নি।  মিহিরিমা নিজে থেকে ফোন করবে? কল বাটনে ক্লিক করতে গিয়েও থেমে গেল সে। ডেভিড তখন আপন গতিতে ড্রাইভ করছিল। মিহিরিমা হটাৎ তাকে জিজ্ঞেস করে বসে,

" তোমার স্যার তাও ঠিক কবে ফিরছেন ?"

ডেভিড গাড়ির স্টিয়ারিং ধরেই অবাক হয়ে কিছুক্ষন তাকিয়ে মিহিরিমা জবাব দিল, জানি না ম্যাম!

তার ভাব সাব এমন যেনো মিহিরিমা তার কাছে কোনো অপরাধ মূলক কথা জিজ্ঞেস করছে। মিহিরিমা চুপ করে গেল। কোনো প্রতিউত্তর করল না।

ভিলায় পৌঁছে মিহিরিমা দেখল রোজী তার ডিনার এর ব্যবস্থা আগেই করে রেখেছিল।

" ম্যাম আমি কোয়ার্টার এই আছি। কোনো অসুবিধা হলে ফোন করবেন আমায়",

ডেভিড বাধ্য দেহরক্ষীর ন্যায় মিহিরিমা কে কথা গুলো বলতেই, মিহিরিমা বিনয়ী গলায় বলে, ডেভিড রোজী ডিনার বানিয়েছে প্লিজ কাম জয়েন উইথ আস।

ডেভিড ইতস্তত বোধ করল। বস এর ওয়াইফ এর সাথে একসাথে ডিনার করা বিষয় টি...।

" তুমি যেটা ভাবছো তোমার স্যার কিছু বলবে না। আজ সারাদিন তুমি আমার সাথে ছিলে ডেভিড। আমি দেখেছি ইউভান এর বিশ্বস্ত সঙ্গী তুমি। আর কাছের ও। তাই হয়তো ইউভান নিজের উপস্থিতিতে তোমায় আমার দেখ ভালের দায়িত্ব দিয়ে গিয়েছে। ডেভিড তুমি ভাব, আমি তোমার বোন। বোন এর সাথে বসে কি তুমি ডিনার করতে না?"

ডেভিড মিহিরিমার আবেগী কথায় বিগলিত হলো। মাথা নত করে সম্মতি দিল যে সে ডিনার করবে এক সাথে।

রোজী মিহিরিমার নির্দেশ অনুযায়ী টেবিলে  ডেভিড এর জন্য খাবার পরিবেশন করে।  মিহিরিমা অনেক্ষন ধরে লক্ষ্য করছিল রোজীর ইতস্তত ভাব।

রোজী কখনোই এক টেবিলে বসে খায় না । সে পরে খায়। আজ তাই মিহিরিমা বলল, রোজী তুমিও আজ আমাদের সাথে বসে ডিনার করো।

" কিন্তু ম্যাম আমি তো পরে ডিনার করি", রোজী মিনমিনে গলায় জবাব দেয়। সে বরাবর ই ডেভিড এর উপস্থিতিতে ইতস্তত বোধ করে। মিহিরিমা লক্ষ্য করেছে।

" রোজী! আমি বললাম না । তুমি ও এক টেবিলে বসে খাবে। "

মিহিরিমার কড়া ধমকে  রোজী বাধ্য মেয়ের মতো খেতে বসে। ডেভিড এর মুখমন্ডল একদম শান্ত যেনো কারোর কোনো কথায় তার মধ্যে প্রবেশ করছে না। মিহিরিমা এই টুকু বুঝল, দুজনের অকারণ ইতস্তত ভাব।  ডেভিড এক প্রকার কোনো মতো ডিনার শেষ করে বিদায় জানিয়ে বেড়িয়ে যেতেই মিহিরিমার সন্দেহ টা গাঢ় হলো ।

মিহিরিমা ডিমের কারি টা চামচ দিয়ে নাড়াচ্ছিল কেবল। খেতে ইচ্ছে করছে টা একদম ই। ফট করে ফোন টা দিয়ে সে  ইউভান কে ম্যসেজ করে বসে,

কবে আসবেন আপনি? ডিনার হয়েছে?

ব্যস এই টুকু লিখতেই মিহিরিমার গা টা কেমন গুলিয়ে উঠলো। ফোন টা রেখে বেসিনের সিঙ্কের কাছে ছুটে চলে যায় সে। হড়হড় করে বমি করে উগরে দেয় সবকিছু। পেছনে রোজী ছুটে এসে মিহিরিমা কে এই রূপ ভাবে দেখে, চিন্তিত গলায় বলে, দি কি হয়েছে তোমার? ডাক্তার ডাকছি দাঁড়াও।

রোজী কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার আগে মিহিরিমা তার হাত টেনে বলল, রোজী কিছু হয় নি ব্যস ডিমে কেমন আঁশটে গন্ধ লাগছিল বলে পেট গুলিয়ে উঠল। এর জন্য ডাক্তার কিসের দরকার। আমায় একটু বেডরুমে নিয়ে চলো প্লিজ।

শেষ কথা টুকু বলতে গিয়ে মিহিরিমার গলা বুজে এসেছে। রোজী তাকে বেডরুমে নিয়ে যায়। মাথায় তেল দিয়ে মিহিরিমা কে বিছানায় শুইয়ে দেয় রোজী।

লাইট বন্ধ করে ৩০ মিনিটের ওপর রোজী চলে গেলেও চোখে ঘুম আসে না মিহিরিমার। বার বার  ইউভান এর চ্যাট খুলে দেখতে থাকে সে। কোনো ম্যসেজ এসেছে কিনা। অজান্তেই চোখের জল গড়িয়ে পড়ল তার মিহিরিমা টের পেল না।

_________________________________________

ঠিক দুই দিন পর ,

ইন্টারন্যাশনাল আওয়ার্ড শো তে টপ ৩ বিজনেসম্যান দের মধ্যে নিজের নাম তালিকায় নাম লিখিয়েছে ইউভান ডিউক।  দুবাই এর এক এওয়ার্ড শো তে ইউভান কে পুরষ্কৃত করা হচ্ছে। সবটা লাইভে বসে দেখছিল মিহিরিমা। সোফায় এলিয়ে রাখা শরীরে মিহিরিমা তার দৃষ্টি স্থির করে রেখেছে টিভির স্ক্রিনে নির্দিষ্ট একটি মানুষের ওপর।

" দি দুইদিন ধরে দেখছি কিচ্ছু মুখে তুলছো না তুমি। এভাবে হলে তো দুর্বল হয়ে পড়লে তো স্যার এসে আমায় বকবে!"

রোজীর বিরক্ত কন্ঠে মিহিরিমা দুর্বল চিত্তে তিতকুটে হাসল। ফোনটা হাতে নিয়ে দেখল, লাস্ট ম্যসেজ ঠিক দুইদিন আগে করেছিল সে। তারপর আর কোনো উত্তর আসে নি ওপর পাশ থেকে।

দুবাই এর প্রেজেন্টেশন টা সাকসেসফুল হয়েছে  খুব ভালোভাবে। Royal Dutch কোম্পানি বেশ বড় অপার্চুনাটি পেয়েছে। এমনকি দুবাই এওয়ার্ড শো এর ইভেন্ট এর কথা টা পুরোটাই ডেভিড খবর দিয়েছে। মিহিরিমা সোফায় গুটি মেরে চুপ করে শুয়ে থাকে। তার পুরো নজর টিভির পর্দায় একটি ব্যক্তির ওপর থমকে গিয়েছে। মন অস্থির হয়ে উঠেছে।

তিন দিন হলো তাদের মাঝে কোনো কথা নেই । ইউভান এর মতো এত বড়ো বিজনেসম্যান তার ম্যসেজ রিপ্লাইএর সময় পাবে কি করে!! তিনি নিশ্চয়ই খুব ব্যস্ত নিজের কাজে। তাই মিহিরিমা কে একবার ফোন বা ম্যসেজ করে উঠতে পারে নি।

নিজের মনের মাঝে অভিমানী অস্থিরতা ক্রমশ বাড়তে থাকে। টিভির স্ক্রিনে আবার একটি দৃশ্য দেখা যায় যেখানে ইউভান নিজে  মডেল দের পুরস্কৃত করছে। মডেল গুলো অনন্ত লাস্যময়ী কায়দায় ইউভান জড়িয়ে ধরছে।

মিহিরিমা ক্ষীপ্র ভাবে উঠে বসে। টিভি টা বন্ধ করে রিমোট টা ছুঁড়ে ফেলে দেয়। লম্বা লম্বা শ্বাস নিতে থাকে সে। রোজী ছুটে আসে কিচেন থেকে, এমনকি ডেভিড ও আওয়াজ শুনে  ছুটে এসেছে ভেতরে।

" দি কি হয়েছে? কিসের আওয়াজ!"

" ম্যাম কিসের আওয়াজ? আপনি টিভির রিমোট ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছেন কেনো!!"

মিহিরিমা কাউকে জবাব না দিয়ে রক্তিম চোখে ফোনটা হাতে নিয়ে ডাইয়েল করে মিস্টার ডিউক এর নাম্বারে!

" This person is currently not available. Please try again later"

একবার, দুইবার , তিনবার!

ব্যাস মিহিরিমা তার ফোন সোফাতে ছুঁড়ে ফেলে।

ডেভিড কিছু বলার আগে মিহিরিমা বলে ওঠে, তুমি আমার চোখের সামনে থেকে চলে যাও  ডেভিড। আমার দরকার নেই কারোর। মিহিরিমা জানে না তার সাথে কি হচ্ছে তবে তার ভেতর টা ফেটে যাচ্ছে অজানা কষ্টে। ইউভান কত সহজে মডেল গুলোর ঘনিষ্ঠ হলো। তার মতো সাধারণ মেয়েকে স্বাভাবিক ভাবেই কার পছন্দ হবে।  সে এদিকে একা কষ্ট পাচ্ছে অথচ উনি দিব্যি আছেন। অভিমানে চোখ বুজে আসল মিহিরিমার।

ডেভিড কিছু বলবে তার আগেই রোজী তাকে কন্ঠ নামিয়ে ইতস্তত গলায় বলল, দি কিছুদিন ধরেই বেশ চিরচিড়ে বিহেভ করছে। তাকে আর ঘাটাবেন না প্লীজ!

রোজীর আকুতি কন্ঠে ডেভিড মাথা নিচু করে সম্মতি জানিয়ে বলল, আচ্ছা। তবে আমায় দুবাই যেতে হবে আর্জেন্ট স্যার ডেকেছে। বডিগার্ড বাড়িয়ে দিচ্ছি। দুই একদিন এর মধ্যে চলে আসবো। ততদিন ম্যাম কে  সাবধানে রাখবে।

ডেভিড এই প্রথম এত টা কথা বলল রোজী কে। রোজী খেয়াল করল তার বলার কিছু নেই। তবুও সে যেচে বলল, বেশি দেরি করবেন না!"

ডেভিড মাথা দোলাল কেবল। রোজী লম্বা শ্বাস নিয়ে ডেভিড এর পুরুষালি গন্ধ টা টের পেল নাকে। রোজীখেয়াল করল সে বোকার মতো একজায়গায় বোকার মতো দাড়িয়ে লজ্জা পাচ্ছে।

__________________________________.

ঠিক এক সপ্তাহ কেটে গেছে।

মিহিরিমার ফোনটা প্রতিদিন শূন্য নোটিফিকেশনে পড়ে থাকে। না কোনো কল, না কোনো ম্যসেজ।

প্রথম দুইদিন অবিশ্বাস, তারপর অভিমান, আর এখন এক অদ্ভুত শূন্যতা মিহিরিমাকে গ্রাস করছে। ইউভান কে ফোন করলেও ফোন বন্ধ করে রেখেছে। যা মিহিরিমার অস্থিরতা আরো বাড়িয়ে তুলেছে। এমনকি ডেভিড দুই দিনের বেশি হলো দুবাই গিয়েছে।

মিহিরিমা জানালার ধারে দাঁড়িয়ে  লম্বা শ্বাস নিল সে। এই কয়েকদিনে বেশ শরীর ভেঙে গিয়েছে তার।

এক সপ্তাহ আগেও মিহিরিমা চাইত ইউভান কে দূরে ঠেলে দিতে কিন্তু আজ ! আজ তার মনে মস্তিষ্ক সব কিছু চাইছে, ইউভান এর উপস্থিতি, বা একটি ঝলক। যার জন্য সে অস্থির হয়ে উঠেছে । বহু কষ্টে নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করলেও মাথায় নানান চিন্তা গ্রাস করছে তার।

তখন  দুপুর তিনটে বাজছে, মিহিরিমা নিজের খেয়ালে ডুবে ছিল সেই সময় রোজী হন্তদন্ত হয়ে ছুটে আসে তার কাছে।

" দি , স্যার এর ভাই এর বউ ইসাবেলা এসেছে।"

মিহিরিমা ভ্রু কুচকাল।

" ইসাবেলা কে তার বিয়ের পর কখনোই এই বাড়িতে আসতে দেখে নি সে তবে আজ হঠাৎ?"

নানান প্রশ্ন নিয়ে মিহিরিমা উপস্থিত হয় হল রুমে । সেখানে গিয়ে ইসাবেলা কে পায়ের ওপর পা তুলে সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়তে দেখে সে অবাক হলো না।

" সো মিস মিহিরিমা বর্মন। আমি যার জন্য এখানে এসেছি সেটা নাহয় বলি,  ওতো কথা না বাড়িয়ে। সরাসরি একটি জিনিস দেখাতে আসলাম।

বলেই ইসাবেলা নিজের ফোন মিহিরিমা কে এগিয়ে দেয়।

মিহিরিমা সিগারেটের ধোঁয়ায় সামান্য কেশে উঠলেও, ইসাবেলার হাত থেকে ফোন টা হাতে নিল।

স্ক্রিনে ভেসে উঠেছে একটি পার্টির দৃশ্য।

দুবাইয়ের এক ঝলমলে পার্টিতে ইউভান আর লারা একসাথে। লারা অনায়াসে ইউভান এর একপাশ জড়িয়ে রেখেছে।

মিহিরিমা ফোনটা শক্ত করে নিজের হাতেই চেপে ধরল। পর পর কিছু ছবিতে তাদের একসাথে কিছু ছবি তবে শেষ যেই ফটো টা থেকে তার বুকের ভেতর হিম হয়ে উঠল সেটিতে ইউভান এর ঊর্ধ্বাঙ্গ এ কিছু নেই, লারা শরীরে পাতলা একটা চাদর। দুজনেই এক বিছানায়। ঘনিষ্ঠ হয়ে রয়েছে। যেটা মূলত স্বামী স্ত্রীর মধ্যে হয়ে থাকে।

ঠোঁট কাঁপতে কাঁপতে মিহিরিমা শুধু বলল,

“কেনো… কেনো আপনি আমায় এগুলো দেখাচ্ছেন?”

ইসাবেলার চোখে বিদ্রুপের হাসি ছিল।

“কারণ তুমি ইউভানের আসল চেহারা বুঝতে পারছো না। সে কখনোই তোমার ছিল না, মিহিরিমা। আর কোনোদিন হবেও না।  লারা আর তার সম্পর্ক বহু দিনের। তুমি তাদের মাঝে এসেছো। যেভাবে প্ল্যান করে ফারহান কে বিয়ে করতে চেয়েছিলে পারলে না অমনি তার আংকেল কে তাও আবার তোমার থেকে বয়সে দ্বিগুণ তাকে ফাঁসিয়ে বিয়ে করলে এরপর ও আশা রাখো। ইউভান কেনো তোমায় এখানে রেখে দুবাই চলে গেল?

মিহিরিমা  শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।  বুকের মাঝে চিন চিনে ব্যথা করছে প্রচণ্ড। দাঁড়ানোর  জোর পায় না সে—হাতটা ফোনটা আঁকড়ে ধরে কাঁপছিল। স্ক্রিনে ইউভান আর লারার হাসিটা বারবার ঘুরছে, অদ্ভুতভাবে ঘনিষ্ট—সবকিছু বিষাক্ত লাগছে তার। সে নিজেকে বলল, এটা ভুল, এটা তো ছবি—কোনো কৌশল, কোনো ভুল আঙ্গিকেই—কিন্তু চোখ আর মানসিকতা নিজের বিশ্বাস হারাচ্ছিল।

তার গলা ধীরে ধীরে শুকিয়ে এল। ঠোঁট কাঁপতে কাঁপতে সে ফিসফিস করে বলল, “ইউভান… তুমি তো…” কিন্তু বাক্য শেষ করতে পারল না। হঠাৎ করেই মাথা ঘুরে এল, ঠোঁট শুকিয়ে রীতিমতো রক্তিম হয়ে উঠল; সে একটু পিছনে হেলে সোফায় বসে পড়ল, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আঘাত অনুভব করল—ব্যথা, অপমান আর নিঃস্বতার এক স্রোত। রোজী  এগিয়ে এসে হাত বুলিয়ে বলল, “দি , শ্বাস নাও প্লিজ, একটু জল—” কিন্তু মিহিরিমা জল নেবারও শক্তি পেল না।

মিহিরিমা ফোনটা বুকের ওপর চেপে রেখে কাঁদতে থাকল, তার ভেতর থেকে বঞ্চনার আভাস—না, বিশ্বাস ভাঙার থেকে বড় যন্ত্রণা হলো যেটা ভেবে সে কখনও প্রস্তুতই ছিল না: ইউভান, যে ব্যক্তি তার জীবনে এক অদৃশ্য শক্তির মতো জায়গা নিত, এখন সম্ভবত কোনো অন্যকিছুর অংশ।

রোজী ভয় পেল মিহিরিমার এই অবস্থা দেখে। ইসাবেলার সব কথায় শুনেছে। কিন্তু নিজের কান কেও বিশ্বাস করতে পারছে না ইউভান স্যার মিহিরিমা দি কে এভাবে চিট করতে পারল!! মিহিরিমা কে জ্ঞান হারি

য়ে ফেলতে দেখে  রোজী অপেক্ষা না করে ডাক্তার কে ফোন করল দ্রুত ।

___________________________

অনেক দিন পর দিলাম ২০০০ শব্দের। প্লিজ যারা পড়ছেন কমেন্ট করবেন

Write a comment ...

Write a comment ...

story universe ( স্নেহার ডায়রি)

Pro
A proud pratilipi bengali writer