রাত তখন তিনটে,
শহরের নীয়ন লাইটের বাইরে, অন্ধকার গলিপথে একটা মালবাহী ট্রাক এসে থামে। ট্রাকের দরজা খোলা মাত্র ভেতর থেকে ম্লান আলোয় দেখা যায় – প্রায় দশজন অচেতন কিশোরী মেয়ে গাদাগাদি করে শুয়ে আছে। কারও বয়স আঠারোর বেশি নয়।
দু’জন বলিষ্ঠ লোক দ্রুত নামল।
“হাবিব! তাড়াতাড়ি কর, মালগুলো নতুন গাড়িতে তুলতে হবে।”
হাবিব গম্ভীর মুখে মাথা নাড়ে।
তার সঙ্গীরা আতঙ্কে মাথা নাড়ল। মেয়েগুলোকে টেনে-হিঁচড়ে ব্ল্যাক ভ্যানে তোলা হচ্ছে।
হঠাৎই গলির মাথায় শিসের মতো এক শব্দ ভেসে এলো।
সবাই চমকে তাকাল সেদিকে।
অন্ধকার থেকে ধীরে ধীরে এগিয়ে এলো এক লম্বা ছায়ামূর্তি। কালো কোট, মুখে কালো মাস্ক, চোখ দুটো জ্বলজ্বল করছে।
“তোমরা ভুল জায়গায় এসেছো।” – গভীর কণ্ঠে বলল সে।
হাবিব গর্জে উঠল কিন্তু তার অন্তরে অজানা ভয় গ্রাস করছে।
“কে তুই? সাহস আছে আমাদের ডেলিভারি থামানোর?”
কালো মাস্ক এর আড়ালে ব্যক্তিটির বাঁকা হাসি দেখতে পায় হাবিব। তার গা জ্বলে ওঠে হটাৎ। বস এর কথা মতো মাল গুলো ডেলিভারি না করলে রক্ষে থাকবে না এবার। তার মধ্যে এই জোকার এর উৎপাত তার বিরক্ত লাগছে।
হাবিব চোখের ইশারায় ইঙ্গিত দিয়ে দশ জনের মতো গুণ্ডা মাফিক লোক এক লাইনে জড়ো হয়ে যায়।
" তোর মতো জোকার কে দেখ কেমন ছিঁড়ে খায় আমাদের লোক! আমাদের কাজে বাঁধা দিতে আসিস হ্যা! সাহস থাকে তো মুখ দেখা নিজের। কাপুরুষের মতো মুখ ঢেকে থাকিস। আমাদের বস কে জানিস? আন্ডার ওয়াল্ড এর বাদশা । "
হাবিব পৈশাচিক হেসে শিস বাজিয়ে পুনরায় ইশারা করতেই দশ জনের মতো গুণ্ডা মাফিক লোক ঝাপিয়ে পড়ে , মাস্ক পড়া ব্যক্তিটির ওপর।
হটাৎ ই এক চিৎকার ভেসে আসতেই হাবিব এর হাসি আরো প্রশস্ত হলো। কিন্তু হঠাৎ ই সবকটা লোক হুড়মুড়িয়ে চারপাশে ছড়িয়ে পড়তেই হাবিব এর হাসি টি নিভে এলো। সে দুই কদম পিছিয়ে গেল। তার সারা শরীর ঘেমে উঠেছে। আলোর এক ঝলক মাস্ক পড়া ব্যক্তিটির মুখমন্ডল এ পড়তেই , হাবিব স্পষ্ট তার তীক্ষ্ম চোখ গুলো দেখতে পেল। দুই কদম পিছিয়ে আসল সে। চারপাশে দশ জন লোক রক্তাক্ত অবস্থায় ছিটিয়ে পড়েছে অদ্ভুত ভাবে।
হাবিব খুব ক্ষীণ স্বরে কাঁপতে কাঁপতে বলল, P ..
P anthar
ব্যক্তি টি মাথা ঝাঁকিয়ে শক্ত কন্ঠে বলল, হ্যা! এত জলদি চিনে ফেললি আমায়। কি ভেবেছিলি , আন্ডারওয়ার্ল্ড যার নখ দর্পণে তার নাকের নীচ দিয়ে এই সিন্ডিকেট চালিয়ে যাবি হুম?
হাবিব আরো দুই কদম পিছিয়ে গেল, তার লোকজনের কেউ বেঁচে নেই। আর কোনো উপায় না পেয়ে ঊর্ধ্ব শ্বাস এ ছুটে গাড়িতে উঠে পড়ল সে। কাপা হাতে গাড়ির চাবি স্টার্ট করার আগেই.
টিক , টক টিক টক
থ্রি দু ওয়ান অ্যান্ড
:
:
বুম!
শিকারির ন্যায় চোখের মণি তে নিমিষে সমস্ত ভস্মিভূত হতে দেখল মাস্কের আড়ালে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তি টি। হাতের মধ্যে প্যান্থার লেখা ব্রেসলেট টা চক চক করছে তার হাতে। মুখের বাঁকা হাসি টা চওড়া হলো আরো।
__" বস! বস মেয়ে গুলো কে ট্রাক থেকে উদ্ধার করছি আমরা, তাদের সকল ই এখন সুস্থ!"
ব্লুটুথ এ কন্ঠ টা শোনা মাত্রই প্যান্থার শক্ত কন্ঠে বলল, সকলে যেনো সুস্থ থাকে । আমাদের ডেরায় নিয়ে যাও তাদের।
___" বাট বস বোম ব্লাস্ট হওয়ার পর ও হাবিব পালিয়েছে । কিন্তু তার প্রায় সব টা জ্বলে গিয়েছে।"
প্যান্থার এর শক্ত চোয়ালে ঘড়ঘড় এ কন্ঠে বলল, but he is still alive.
____" কিন্তু বস ..আপনি চাইলেই তাকে মেরে ফেলতে পারতেন .."
____" shhh. Panther loves games. খেলা শুরু হতে না হতেই যদি শেষ হয়ে যায়... It's not entertaining at all"
ফিসফিসিয়ে ঠাণ্ডা গলায় প্যান্থার এর বাক্য টি শোনা মাত্রই ফোনের ওপাশের ব্যক্তির শিরদাঁড়া দিয়ে ঠান্ডা স্রোত বয়ে যায়।
_______________________________________
সকালে ফোনের রিং তীব্র শব্দে ধপ করে উঠে বসে মিহিরিমা! মাথায় তীব্র ব্যথায় ছিঁড়ে যাওয়ার মত অবস্থা কিন্তু কারণ টা বুঝতে পারল না। সে চোখ বুজেই গলার স্বর উঁচিয়ে ডেকে উঠল, ইভান .. উম ইউভান.. আর ইউ হেয়ার? প্লিজ গিভ মি দ্যা ফোন।
কিন্তু কোনো সারা শব্দ না পাওয়ায় চোখ কোনো মতে খুলে দেখল ঘড়িতে তখন এগারো টা বাজে! এগারো! মিহিরিমা আতকে উঠল। সে এত দেরি করে উঠেছে আজ। ইউভান সে কোথায়? তাকে ডাকে নি কেনো । ওহ গড অফিস ! এক মিনিট আজ তো উইকেন্ড! মিহিরিমা লম্বা শ্বাস নিয়ে নিজেকে শান্ত করল।
" মে আই কাম ইন ওয়াইফি?"
মিহিরিমা গলার আওয়াজ এর সূত্র ধরে সামনে তাকিয়ে তব্দা খেল। ওহ গড! লন্ডনের বিত্তশালী ব্যক্তি ইউভান ডিউক কিনা ব্রেকফাস্ট হাতে নিয়ে হাজির হয়েছে। তবে সেই ব্রেকফাস্ট নিজে হাতে বানিয়েছে এটাও সম্ভব!
মিহিরিমা ঠোঁট কামড়ে অবাক হয়ে বলল, মিঃ ডিউক আপনি ব্রেকফাস্ট বানিয়েছেন ! সত্যি।
ইউভান হাতের ট্রে নিয়ে রুমে ঢুকেই মাথা ঝুঁকিয়ে বলল, জি! আমার বেবি ওয়াইফ এর জন্য এটা আমার কাছে কিছুই না।
মিহিরিমা মুখ ফুলিয়ে বলল, আমি মোটেও বেবী নই।
ইউভান ফিচেল হাসে। তার এপ্রন এ এখনো ব্রেড এর গুড়ো লেগে আছে। জিম থেকে সরাসরি কিচেনে ঢুকেছিল আজ সে। উদ্দেশ্য ছিল তার স্ত্রী কে সারপ্রাইজ দেওয়া। মিহিরিমা ঘুম থেকে মাত্র উঠেছে, চুল এলোমেলো, শরীরের পোশাক ঠিক জায়গায় নেই। ইউভান গলা খাঁকারি দিয়ে উঠল। তার স্ত্রীর কথা টা কিছুটা হলেও ঠিক। মিহিরিমার মাঝে নিশ্চয় স্পেশালঃ পাওয়ার আছে নয়তো তার মতো বিস্ট কে টাকল কিভাবে করে ।
" জো হুকুম মাই কুইন!"
ইউভান এর প্রতিটা ফ্লার্টিং মিহিরিমার লজ্জার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যেই মানুষ টা বাইরের লোকের সাথে এত কঠোর অথচ তার কাছে ভিন্ন এক সত্ত্বায় থাকে যেনো ইউভান। তবে মিহিরিমার সেটা সবচেয়ে ভালো লাগে ।
ফোন টা পুনরায় বেজে ওঠে মিহিরিমার। এবার ইউভান নিজেই ফোন টা হাতে তুলে নেয় তার। মিস ফ্লোরা ফোন করেছে। ইউভান লাইড স্পিকারে রেখেই মিহিরিমা যে ফোন টা দিল। মিহিরিমা বেশ হড়বড় করছিল হঠাৎ!
" ফ্লোরা আন্টি মন কেমন আছে মা? সব ঠিক আছে না?"
" না মাই চাইল্ড। ডাক্তার বলেছে ওনার মাথায় ক্লড জমে আছে। দ্রুত অপরেশন না করলে হয়তো... "
" কি ! নো নো প্লিজ ডোন্ট সে লাইক দ্যাট।"
মিহিরিমা চোজ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ল। ইউভান তাকে সাঈদ থেকে ধরে ফোনের মধ্যেই বলল, আমি লোক পাঠিয়ে দিচ্ছি মম কে আডমিট করতে হবে ।"
" কিন্তু বাবা, বিশাল টাকার প্রয়োজন নয়তো ভর্তি নিচ্ছে না"
ইউভান লম্বা শ্বাস নিয়ে কিছু বলতে যাচ্ছিল কিন্তু তার আগে মিহিরিমা হটাৎ বলে ওঠে, আন্টি টাকার টেনশন করো না। আমি যতটা পারবো আমি মম এর চিকিৎসার দেবো!
মিহিরিমার প্রচণ্ড ভেঙে পড়ে ফোন কল টার পর ।
ইউভান মিহিরিমা যে জাপটে নিজের কাছে টেনে ধরে
" Shh! Don't cry. আমরা এখনই যাচ্ছি হাসপাতাল এ। ফ্রেশ হয়ে এসো তারপর আমরা যাবো।
" সত্যি ! মিঃ ডিউক। মিহিরিমা এক ভাবে তাকিয়ে থাকে ইউভান এর দিকে। ।
" ইয়েস! " আর.. কিছু বলার আগে মিহিরিমা মাথা ঝুঁকিয়ে টুপ করে চুমু খেল ইউভান এর ঠোঁটে। ইউভান তাকে ধরতে গিয়েও ছিট
কে বেরিয়ে যায় মিহিরিমা।
" Oh my wife need a punishment! You are so naughy. Umm wait for me at night!"
Write a comment ...