42

আত্মসমর্পণ!

চার দেওয়ালের ঘরটি টিম টিম আলোতে আলোকিত হচ্ছে। নীরবতা হলেও

তাদের মাঝখানে কোনো লোক এর কেঁপে ওঠা নিঃশ্বাস শোনা যাচ্ছে। যার

হাত-পা শক্ত করে বাঁধা,  দড়ির রগড়ে লাল হয়ে গেছে হাতের এক অংশ। চোখ দুটো কোনো মতে খুলে রেখেছে।

হটাৎ মুখোশ পরা এক ছায়ামূর্তি ধীরে ধীরে তার কাছে এগিয়ে আসে।

তার হাতে একটা লোহার রড— যা লালচে আভা ধারণ করেছে আগুনের আঁচে।

লোকটা কোনো মতে চোখ খুলে দৃশ্য টা দেখতেই অন্তর আত্মা কেঁপে উঠল। ড্রাগসের কারণে শরীরের বল না বলেও মস্তিষ্ক তাকে জানান দিচ্ছে তার মৃত্যু নিশ্চিত! গলায় কোনো মতে জোড় এনে কাকুতি গলায় বলে,

“Please... please... আমি  যা জানতাম সবটা বলেছি... আমাকে ছেড়ে দাও...”

ছায়ামূর্তি বিকট ভাবে হেসে উঠল। লোকটা রুহ কেঁপে উঠল যেনো। মাক্সের আড়ালে ছায়ামূর্তি টির হাসি এত ভয়ংকর । না জানি তাকে দেখতে কত টা ভয়ংকর হবে। লোকটার চোখের কোণা ভিজে উঠল। একবার এই ডেরায় এলে তার মৃত্যু নিশ্চিত। তবে কি...

ছায়ামূর্তি টি ধীরে ধীরে রডটা লোকটার উরুতে ঠেকিয়ে দেয়। মাস্কের আড়ালে ক্ষুধার্ত চোখ টাই লোকটার শরীরে কাঁপন ধরাতে ব্যস্ত ছিল।

গরম রডের তাপে চামড়ার পোড়া গন্ধে ঘরটা ভরে যায়।

লোকটা গলা ফাটিয়ে চেঁচায়—

" আহ আহ... Please! Please! আমি আর পারছি না!”

মুখোশের নিচ থেকে একটুখানি ফিসফিসে অথচ রুক্ষ গলায় ছায়া মূর্তি টি বলে,

“ আমায় ডেরায় নজর দারি রাখতে এসেছিলি লুকিয়ে। How fool you are!! বিশ্বাসঘাতকতা আমি পছন্দ করি না !! "

সে এবার লোকটার আঙুলগুলো এক এক করে শক্ত প্রহার করতেই তা ভাঙার উপক্রম হয় ।

রক্ত, ঘাম, আর কান্নায় লোকটার শরীরটা নরম মাটির মত ঢলে পড়ে।

লোকটা কাঁদতে কাঁদতে  বলে—

“I beg you... Please... আমাকে মেরেই ফেলো... কিন্তু প্লিজ, এইভাবে না!”

মুখোশের পেছন থেকে ছায়া মূর্তি টা সেই বরফ ঠান্ডা গলাটা বলে—

“আমার ডেরায় এসে আমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতার শাস্তি এত সহজ নয়। মৃত্যু কামনা করলেও মৃত্যুর জন্য ভিক্ষে চাইতে হবে"

সে  এখন একটা Rusty Knife দিয়ে লোকটার পায়ের  চামড়া চিরে দেয়।

লোকটা এতটাই বেহুঁশের মতন হয়ে যায় যে, এবার তার কণ্ঠেও আর শব্দ নেই—

শুধু ফোঁস ফোঁস করে নিঃশ্বাস বের হতে থাকে

“তুই মরবি না, যতক্ষণ না আমি চাই।”

মুখোশ পরা ছায়ামূর্তির গলাটা ফিসফিস করে ওঠে। তার মুখে প্রশান্তির হাসি। তার সারা শরীরের রক্তের বন্যা বয়েছে।

একটা ছোট্ট শার্প ব্লেড দিয়ে এবার সে লোকটার কানের লতির নিচ দিয়ে কাটতে শুরু করে।

লোকটা জ্ঞান হারানোর আগের মুহূর্তে ফিসফিসিয়ে বলে—

“ Panther "

কিন্তু তখনই মুখোশ পরা মানুষটা তার মুখটা চেপে ধরে, বলে—

“Shh… Too late.”

ধারালো ছুরির আঘাতে লোকটি সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

ধরফর করে বিছানায় উঠে বসে মিহিরিমা। সারা শরীর ঘেমে এক সা। সে এখনো জোড়ে জোড়ে নিশ্বাস নিচ্ছে। নৃশংস খুনের ঘটনা টা সে স্বপ্ন দেখেছে। ওহ  গড। নয়তো কে এমন পিশাচের মতো কাউকে খুন করতে পারে। ঘড়িতে তখন রাত ৩ টা বাজে।  তার মনে পড়ে গাড়িতে আসার সময় ই তার চোখ লেগে যায় ঘুমে। তারপর ইউভান তাকে কোলে করে বিছানায় শুইয়ে দেয়। একমিনিট! মিহিরিমা তার বিছানার পাশে ইউভান শোবার জায়গায় ফাঁকা দেখতে পেল। এত রাতে কোথায় যেতে পারে ইউভান।

মিহিরিমা উঠে একবার বাথরুমে দেখল। সেখানেও ইউভান কে দেখতে না পেয়ে মিহিরিমা মনে ভয় হতে থাকে। কোথায় চলে গেল মানুষটা এত রাতে!!

এত রাতে রোজী বা অন্য গার্ড দের ডাকতেও মিহিরিমা ইতস্তত বোধ করল। বেশ খানিক টা সাহস সঞ্চয় করে বেড রুম থেকে বের হতেই মিহিরিমা ইউভান কে খুঁজতে খুঁজতে  ফোন স্টোর রুমের কাছে এসে হাজির হয়।   স্টোর রুমে ঢুকতেই ধুলোর প্রলেপ নাসিকা গ্রন্থি তে স্পর্শ করতেই মিহিরিমা অনর্গল হাঁচি শুরু হয়।

---

তবুও আলমারির বেশ কিছু স্তরে ফাইল গুলো অদ্ভুত ভাবেই লক করা রয়েছে।  চাবি দিয়ে ।স্ট্রেঞ্জ! মিহিরিমা বেশ খোলার চেষ্টা  করেও ব্যর্থ হয়। মিহিরিমা প্রচণ্ড বিরক্ত হলেও তার নজর যায় তার মাথার ওপরে উচ্চতায় তাকে থাকা একটি ফাইল। দেখতে  ধুলো জমে রয়েছে। তবে মিহিরিমা মনে হলো সেখানে কিছু লেখা রয়েছে। যার গায়ে হয়তো কারোর নাম লেখা রয়েছে।

কিন্তু তার আগেই মিহিরিমা থেমে যায় পেছনে কারোর উপস্থিতিতে।

“এত রাতে স্টোর রুমে একা? তুমি জানো তো, এখানে  অনুমতি ছাড়া কারও প্রবেশ নিষেধ?”— ইউভানের গলায় হালকা পরিহাসের ছোঁয়া ছিল, কিন্তু চোখে বিরক্তি নিয়েই সে বলল।

মিহিরিমা ভয় পায় ইউভান এর হটাৎ উপস্থিতি তে

।কিন্তু কিছু বলার আগেই মিহিরিমা দেখল ইউভান এর শার্ট টা পুরো টা ভিজে রয়েছে রক্তে। যেমন টা সে স্বপ্নে দেখেছিল। তার মাথায় সেসব দৃশ্য ভেসে আসল পুনরায়। কাঁপতে কাঁপতে শরীর টা এলিয়ে দেওয়ার আগেই শক্ত পেশীবহুল শরীর তাকে আঁকড়ে ধরে।

" বাটারফ্লাই ওয়াট হ্যাপেন। তাকাও আমার দিকে। Calm down baccha. Hey look et me!!"

ইউভান এর মুখে নিমিষেই দুশ্চিন্তা গ্রাস করল

" রক্ত! রক্ত এত রক্ত কেনো! "

মিহিরিমা চোখ মুখ খিচে বন্ধ করে ইউভান কে দূরে সরিয়ে দিতে চায়।

" ওহ God. Look at my bandage.  যার জন্য রক্ত বের হচ্ছে পুনরায়। Look see !!"

মিহিরিমা চোখ পিট পিট করে দেখল আসলেই  ইউভান এর হাত এর ব্যান্ডেজ টা পুরো বাজে অবস্থা।  সে বড্ড চিন্তিত হয়ে ইউভান এর শার্ট এর বোতাম গুলো খুলে ফেলে। রক্তে ভিজে যাওয়া সার্ট টা কে ছুঁড়ে ফেলে ইউভান কে জড়িয়ে ধরে শক্ত করে।

তারপর নিস্তব্ধতা। দুজনেই চুপ। প্রশস্ত বক্ষে মিহিরিমা খুব সহজেই ইউভান এর হৃদয় এর ধুকপুকানি অনুভব করতে পারছে। নিজের মুখমন্ডল লুকিয়ে মিহিরিমা ঠোঁট ফুলিয়ে বলল, আমি খুব ভয়ংকর একটা স্বপ্ন দেখেছি। একজন কে পৈশাচিক ভাবে খুন হতে দেখেছি । এত রাতে পাশে আপনি ছিলেন না । আমি এখানে আপনাকে খুঁজতেই এসেছি।

ইউভান এর শরীর কিছুটা নরম হলো। মিহিরিমার মাথায় চুমু এঁকে দিয়ে সে বলল, সরি বাটারফ্লাই আমি অযথাই রেগে গিয়েছিলাম। কিন্তু আর কোনোদিন অনুমতি ছাড়া কোনো ঘরের কিছু ছোঁবে না।

মিহিরিমা চুপ করে মাথা দোলাল কিন্তু তার বড্ড ইচ্ছা করছে ফাইল টা দেখার।

সে মিন মিন করে বলল, তোমার শার্ট এ রক্ত দেখে ভেবেছি...

ইউভান ফিচেল হেসে উঠলো, যে আমি খুন করে এসেছি

.

তোমার স্বপ্নের ভিত্তিতে।

মিহিরিমা আসলেই তাই ভাবছিল কিন্তু আর যাই হোক স্বপ্নের ভিত্তিতে এমন কিছু দোষী সাব্যস্ত করা যায় না কাউকে তাই মিহিরিমা নিজের দাঁত কামড়ে অপ্রস্তুত ভাব টা কাটানোর চেষ্টা করলো।

ইউভান নিজের বক্ষে নিজের স্ত্রী কে পেয়ে রোমাঞ্চিত অনুভব করল। সে অনুভব করল, মিহিরিমা তার প্রতি নরম হয়ে আসছে। তার স্ত্রী যে ধীরে ধীরে তার প্রতি টান অনুভব করছে, এটা তার পুরুষ সত্তার কাছে এক বিজয়ের মতো।

স্টোর রুম থেকে বেরিয়ে আসার সময় ইউভান হঠাৎই মিহিরিমার কোমরে হাত রেখে কাছে টেনে নিল। মিহিরিমা চমকে উঠলো, ধাক্কা দিয়ে সরানোর চেষ্টা করল, কিন্তু ইউভানের মজবুত বাহু তার কোমর আঁকড়ে ধরল আরও শক্ত করে।

“তুমি আবারও পালাতে চাইলে?”— ইউভানের গলা ফিসফিসে, কিন্তু ঠোঁটের কোণে সেই বিপজ্জনক ভরাট কন্ঠস্বর।

“আমি পালাচ্ছি না…”— মিহিরিমা ধীরে ধীরে বলল, কিন্তু চোখে মুখে তার দ্বিধা স্পষ্ট।

ইউভান তার কপালের ঠিক মাঝখানে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিল। তারপরে গলার কাছে ঠোঁট নামিয়ে আনতেই মিহিরিমার শ্বাস প্রশ্বাস ভারী হয়ে এলো। ইউভান এর চোখে সিডাকটিভ চাহনি না চাইতেও মিহিরিমার সারা শরীরে শিহরন বইয়ে দেয়।

“তুমি বুঝতে পারবে না, butterfly... তোমার এই ভয় পাওয়া আমায় আরও পাগল করে তোলে।”

ইউভান তখন মিহিরিমার গলার কাছে মুখ ডুবিয়ে দেয়।

মিহিরিমা শ্বাস আটকে ফেলল। ইউভান তার কানের কাছে মুখ এনে বলল—

“তুমি জানো, ভয় আর আকর্ষণের মধ্যে এক সূক্ষ্ম পার্থক্য আছে। Tonight, I will blur that line for you…”

ইউভান ধীরে ধীরে তার আঙুল দিয়ে মিহিরিমার চিবুকটা উপরে তুলল। মিহিরিমা তার চোখ সরিয়ে নিতে চাইল, কিন্তু ইউভান তার দৃষ্টি আটকে রাখল গভীর চোখে চেয়ে।

“তুমি আমাকে বিশ্বাস করতে শেখো, মিহিরিমা।"

ইউভানের ঠোঁট ধীরে ধীরে মিহিরিমার ঠোঁটে এসে থামে, কিন্তু ছোঁয় না। সেই শূন্য স্পেসটা যেন এক অসমাপ্ত আকাঙ্ক্ষার আগুন জ্বালায়। মিহিরিমা চোখ বন্ধ করে ফেলে, কিন্তু পরমুহূর্তেই ইউভান তার কানে নিঃশ্বাস ফেলে বলে—

“Not yet. তুমি যখন নিজে থেকে চাইবে, তখনই পাবে আমায়।”

মিহিরিমা অজান্তেই ইউভানের শার্টের কলার ধরে ফেলে, যেন নিজের অস্থিরতাকে সামলাতে চাইছে। মিহিরিমা অজান্তেই  নিজের ঠোঁট চেপে ধরে তার ঠোঁটে —  যেখানে ভয় আর আকাঙ্ক্ষা মিলেমিশে যায়।

তারপরে ইউভান মিহিরিমার কানে ফিসফিস করে বলে— “Tonight, আমাদের মাঝে আর কোনো

বাঁধা থাকবে না। তুমি নিজে এসে ধরা দিয়েছো আজ। চাইলেই কিন্তু ইউভান ডিউক এর থেকে তোমার নিস্তার নেই!

ইউভান মিহিরিমা কে কোলে করে তাদের বেডরুমে নিয়ে যায়। মিহিরিমার শরীর টা বিছানায় এলিয়ে দিতেই ইউভান তার শরীরের ওপরেই নিজের শরীর ছেড়ে দেয়। যদিও সেই চাপে মিহিরিমা ব্যথায় গুঙিয়ে ওঠে। ইউভান আজ  থামে না।

ইউভান এর ঠোঁটটা মিহিরিমার গলার কাছে থেমে যায়। তার গলার ত্বকে ইউভানের গরম নিঃশ্বাস কাঁপন ধরিয়ে দেয় মিহিরিমার সারা শরীরে। সে নিজেকে সরিয়ে নিতে চাইলেও ইউভান এর হাতের বাঁধন যেনো আরও

শক্ত হয়।

Too be continued. নেক্সট পর্ব টেলিগ্রাম এ পোস্ট করা হবে। প্রাপ্ত বয়স্ক দের জন্যে।

____________________________

Write a comment ...

Write a comment ...