36

Yuvaan past

রৌদ্রের তাপ মুখে পড়তেই মিহিরিমা চোখ গুলো পিট পিট করে খুলতেই বিছানায় নিজেকে একা আবিষ্কার করল। কাল রাতের প্রভাব এ এখনো শরীরে চিন চিনে ব্যথা অনুভব করল সে। ঘড়িতে সকাল দশটা বাজে। ইউভান কে কোথাও দেখতে না পেয়ে অজান্তেই বুকের ভেতর টা শূন্যতা বিরাজ করছে তার। কিন্তু কেনো? কাল রাতের পর থেকে হয়তো  মিহিরিমা   স্বীকার না করলেও নিজের জীবনে ইউভান কে অগ্রাধিকার দিয়ে ফেলেছে নিজের অজান্তে।

বাইরে থেকে রোজির গলার আওয়াজ পেয়ে চোখের জল মুছে তাকে ভেতরে আসতে বলে মিহিরিমা।

রোজী ট্রে তে করে সকলের ব্রেকফাস্ট এনে হাজির যা তার রোজকার ডিউটি। তবে আজ রোজী মিহিরিমা কে একটা চিরকুট দিল।

মিহিরিমা ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করে, এটা কি?

রোজী জবাব দেয়, ম্যাম স্যার আপনাকে দিতে বলেছেন।

রোজী বেরিয়ে যেতেই চিরকুট টা খুলল মিহিরিমা।

" ডিয়ার ওয়াইফি,

   আর্জেন্টলি বের হতে হচ্ছে । টেক কেয়ার!"

মিহিরিমা ঘন ঘন শ্বাস নিল। সে নিজেও সকাল বেলা ইউভান কে আশা করছিল অন্তত কাল রাতের পর। সে কি একটু বেশি ইউভান এর কথা ভাবছে! মিহিরিমা হাউ ফুল ইউ আর। মিঃ ডিউক  এর আসল সত্য ভিন্ন। সবাই ছল এগুলো। ভালো মানুষী মুখোশের আড়ালে এক ভয়ংকর চেহারা লুকিয়ে। মিহিরিমা কি করে সেই মানুষ টার সান্নিধ্য কে সেফ মনে করছে!!

প্রচণ্ড বিরক্তি নিয়ে কাগজ টা ছুঁড়ে ফেলে দিল ঘরের এক কোণে।

∆∆∆∆

ফ্রেশ হয়ে হল রুমে মিহিরিমা  গ্র্যানি আলেখেন্দ্রি কে রোজির সাথে আলোচনায় মশগুল হতে দেখে , মিহিরিমা উৎসুক বদনে তাদের কাছে এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করে, কি ব্যাপার  গ্র্যাণী কোনো স্পেশাল কিছু রয়েছে কি?

তার সাথে চোখ গেল টেবিলের ওপর ছড়িয়ে রাখা  পুরোনো কিছু ছবির ওপর।

মিসেস আলেকজেন্দ্রি চোখের ইশারায় রোজী কে যেতে বলে সোফায় এক পাশে মিহিরিমা কে বসতে বললেন। তার কিছুদিন ধরে শরীর অসুস্থ। লন্ডনের পরিবেশে বহুকাল না থাকার অভ্যাসে আজ এই হাল। তিনি একপ্রকার কাশতে কাশতে জবাব দিলেন, আমার ইউভির ছোট বেলার কিছু ছবি দেখছিলাম।  তাছাড়া আজই ফিরতে হবে ডিয়ার আমায়।

মিহিরিমা গ্র‍্যানি কে জড়িয়ে ধরে বলে, এসব কি বলছো কোথায় যাবে তুমি! আর তুমি না থাকলে আমি এখানে একা হয়ে যাবো।

" পাগলী মেয়ে ম্যানচেস্টার এ যেতেই হবে আমাকে। ইউভি এত বছর পর বিয়ে করেছে বলে থাকতে এসেছিলাম। এবার ফিরে যাওয়ার সময় হয়েছে। আশা করি দুজনের মধ্যে সমস্ত দূরত্ব মুছে গিয়েছে!!"

গ্র্যানীর কথায় মিহিরিমার হটাৎ কান গরম হয়ে ওঠে লজ্জায়। গ্র্যানী তার ঘাড়ের লাভ বাইট গুলো দেখে মুচকি হাসছিলেন। যার জন্যই এত দূর থেকে এখানে এসে রয়েছেন তিনি। এবার ফিরে যাওয়ার সময় হয়েছে।

মিসেস আলেকজেন্দ্রি একটি ফটো মিহিরিমা কে দেখিয়ে বলল, দেখো আমার ইউভি।

মিহিরিমা এবার ফটো টা হাতে নিয়ে ধ্যান দিয়ে দেখল গুণে ১৩/১৪ বছরের বাচ্চা হেসে ফটো তুলেছে। মিহিরিমা হটাৎ হাসি টা দেখে থমকে গেল। মিঃ ডিউক কে কখনো হাসতে দেখে নি সে। ওনার যে গজ টা হাসলে এত সুন্দর লাগে বাচ্চা বয়সের ছবি তেই ধরা পড়ছে।

  

" প্রেমে পড়ে যাস নি তো আমার নাতির!"

মিহিরিমা লজ্জায় মুখ লুকিয়ে বলল, ওহ হো গ্র্যনি কিসব , উনি যা গম্ভীর। দেখে কে বলবে আজকের মানুষ টাই হলো এই বাচ্চা টা।

মুহূর্তেই মিসেস আলেকজেন্দ্রি  মুখে আঁধার নেমে এলো।

" আমার ইউভি এমন ছিল না মিহিরিমা। ছেলেটা নিজেকে এমন ভাবে শক্ত দেখায় পুরো দুনিয়ার কাছে কিন্তু দিন শেষে ও একা!!"

মিহিরিমা গ্র্যাণীর কথায় প্রচণ্ড অবাক হয়ে নড়ে চড়ে বসল। তার ভেতর উৎসুকতা জড়ো হলো। নির্দিষ্ট মানুষটা কে জানার প্রতি। কি এমন হয়েছিল তার জন্য মিঃ ডিউক এরকম?

" আচ্ছা ইউভান এর মম  ড্যাড এর ব্যাপারে আমি কিছু শুনি নি! "

মিসেস আলেকজেন্দ্রি তিক্ত হেসে বললেন , ইউভান এর সামনে কখনোই তার মা এর উল্লেখ করবে না। সে তার মা কে প্রচণ্ড ঘৃণা করে।

মিহিরিমা বিস্ফারিত চোখে গ্র্যানীর দিকে তাকাল।

" এমন কোন সন্তান আছে যে তার মা কে ঘৃণা করবে!"

" ইউভান করে ! এমনকি রেহান তার সৎ ভাই নিজের নয়!!"

" এসব কি বলছো গ্র্যানী!!"

মিহিরিমা মাথায় যেনো আকাশ ভেঙে পড়ল। ফারহান এর বাবা আর  ইউভান সৎ ভাই কি করে হয়!!

" আসলে সম্পর্ক গুলো একটু জটিল। তবে আমার ছেলে যে এই পৃথিবীতে নেই সে নিঃস্বার্থ হয়ে ইউভান আর রেহান এর মা কে বিয়ে করেছিল। কারণ তাদের মা ডেইজি আগের পক্ষের ছেলে ছিল রেহান। ডেইজির স্বামী প্রচণ্ড অত্যাচার করত তার ওপর। বহু কষ্টে সেখান থেকে বেরিয়ে এসে আমার ছেলে রায়ান ডেইজি কে রেহান সহ স্বীকার করে  তাকে বিয়ে করেছিল। বিয়ের পর রেহান আমার ছেলের বড়ো ছেলের নাম পেলেও বিষয় টা আমার স্বামীর অর্থাৎ  আর্চার ডিউক লন্ডনের সবচাইতে প্রভাব শালী ব্যক্তি তিনি ছেলের এই সিদ্ধান্তে মোটেও খুশি ছিলেন না। ডেইজি কে আমরা কেউ ই পছন্দ করতাম না।

তাদের বিয়ের ১ বছরের মাথায় জানতে পারি আমার ছেলে আর ডেইজির সন্তান পৃথিবীতে আসবে। খুব খুশি হয়েছিলাম। রেহান আমাদের নাতি ছিল ঠিকই তবে ইউভান এর জন্মের পরেই আমার স্বামী  সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইউভান রায়ান এর বংশধর হিসেবে আমাদের উত্তরাধিকারী হিসেবে ঠিক করেছিল।

ইউভান যখন ছয় বছর তার মা অন্য এক বিজনেস পার্টনার এর সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। যে রায়নের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল একসময়। ইউভি কে অত ছোট বয়সে রেখে ডেইজি একদিন চিঠী লিখে চলে যায়। আমার ছেলে একদম ভেঙে পড়েছিল। রায়ান খুব ভালোবাসতো তাকে। ডেইজি চলে যাওয়ার পর এক বছরের মাথায় আমর ছেলে কেও হারিয়ে ফেলি। ইউভি তার মা বাবার অনুপস্থিতিতে কেমন পাথর হয়ে গিয়েছিল । হাসত না কাদতো না। রেহান বরাবর আমাদের থেকে দূরে থেকেছে । ইউভি কে আমার কাছে রেখে মানুষ করেছি । আমার ছেলের একমাত্র অংশ।

আমার ইউভি কে কখনো কোনো মেয়ের প্রতি এত টা obsessed দেখি নি মিহিরিমা। সে ভাবতো সবাই তার মায়ের মতো নিষ্ঠুর ধোঁকা বাজ। কখনও অন্য মেয়ের সাথে তার নাম জড়ায় নি। ও নিশ্চই তোমায় প্রচণ্ড ভাবে চায় তাই তোমায় নিজের সাথে জুড়েছে। ও ছোট থেকে অনেক কষ্ট পেয়েছে। মিহিরিমা তুমি প্রমিজ করো আমার ইউভি কে সবসময় ভালো রাখবে ! "

মিসেস আলেকজেন্দ্রি প্রত্যেক টা কথা এত তা

ই গভীর ছিল যে মিহিরিমা বুঝতে পারে নি তার চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে।

Write a comment ...

Write a comment ...