Louis club
" ওয়াট! মিঃ ডিউক ব্ল্যাকমেইল করে বিয়ে করেছে তোকে ওহ গড!! ব্লাডি ক্রিপ হি ইজ!!"
মিহিরিমা লামিয়া কে আস্তে কথা বলতে ইশারা করল। লুইস ক্লাব এর টেরেসে মিহিরিমা তার ছোট বেলার একমাত্র কাছের বান্ধবীর সাথে দেখা করতে এসেছে। তবে তার পেছনে রয়েছে মিঃ ডিউক এর ঠিক করে দেওয়া বডি গার্ড গুলো। যারা মিহীরিমা কে সর্বক্ষণ চোখে চোখে রাখে। নজর এড়িয়ে মিহিরিমা বাঁচতে পারে না। এত দিন পর তাই বান্ধবীর সাথে কথা বলে লম্বা স্বাধীন ভাবে শ্বাস নিল সে। নয়তো নিজেকে বন্দী কারাগরের আসামী ছাড়া তার কিছু মনে হয় না।
লামিয়া তার ফিয়ন্সের সাথে প্যারিসে সেটেল হয়েছে। লন্ডনে এত দিন পর ফিরেই প্রিয় বান্ধবীর সাথে দেখা করবে না এমন তো হবার কথা নয়। বিলিয়নিয়ার ইউভান ডিউক লন্ডন ছাড়াও পুরো ব্রিটিশ ইকোনমি তে যার এত নাম , তার বিয়ের খবর হট লাইন হিসেবে ১ মাসের বেশি প্রচারিত হয়েছে মিডিয়ায়। লামিয়া তার পেছনের সত্য টা শুনে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলেও মেজাজ হারিয়ে ফেলে।
" শান্ত হবো। লাইক সিরিয়াসলি, লোকটা তোকে মাথায় বন্দুক রেখে বিয়ে করতে বাধ্য করাল। সে আর যায় হোক ভালো না। বেরিয়ে আয় মিহি। এত বডিগার্ড এত সিকিউরিটি কেমন বন্দী দের মত জীবন কাটাচ্ছিস উফ! আই কান্ট ইয়ার।"
লামিয়ার প্রত্যেক টা কথা মিহিরিমা অন্তর মনে কাটার মতো বিধল। এই জীবন তো তার চাই না । কত দিন মা কে দেখতে পায় নি সে । কোথাও যাওয়ার আগে বডিগার্ড । পারমিশন ছাড়া মিহিরিমা এখন বের হতে পারে না। এগুলো তো মিহিরিমা ডিজার্ভ করে না।
এসব ভাবতে ভাবতে রেড ওয়াইনের পুরো গ্লাস টা গলায় ঢেলে চোখ বুজে ফেলল মিহিরিমা।
লামিয়ার নেশার ভাব টা হতেই হুট করে বলে ওঠে,
লেটস ড্যান্স বেবী চল।
" ইয়ার নো, আমার মুড নেই।"
" ধুর ওই মিঃ ডিউক বাদে বহু ছেলে আছে তোর পেছনে ইয়াং এন্ড হট। লেটস্ গো!!"
মিহিরিমা টলতে টলতে লামিয়ার সাথেই ফ্লোরের কাছে গিয়ে উপস্থিত হয়। ক্লাবে মেয়ে ছেলে রা নানান ভঙ্গি তে লাস্যময়ী রূপে মনোরঞ্জন করছে সকল কে।
মিহিরিমা এমনি তেই অতিরিক্ত ড্রিঙ্ক করায় নেশা টা ভালোই চড়েছে। লামিয়ার কথা আসলেই মিহিরিমা কে বেশ প্রভাবিত করেছে। মিঃ ডিউক এর ভয়ে নিজেকে না গুটিয়ে স্বাধীন ভাবে চলবে সে। এটা তার জীবন। ইউভান কিছুতেই তার স্বাধীনতা ছিনিয়ে নিতে পারবে না।
" হেই বিউটিফুল, ক্যান ইউ জয়েন উইথ মি?"
মিহিরিমা দেখল তার সামনে এক অল্পবয়সী পুরুষ যার উপরের পোশাক না থাকায় তার পেশীবহুল শরীর কে আরো সেক্সী ভাবে রিপ্রেজেন্ট করেছে। চোখে মুখে একটা আলাদা চার্ম। মিহিরিমা কোনো ভাবনা ছাড়ায়, পুরুষ টির হাত ধরে স্টেজে চলে যায়।
লামিয়ার চেয়ার আপ করার ফেস টা দেখে মিহিরিমা দাঁত কামড়ে হাসি আটকে পুরুষ টি তাকে ঘনিষ্ঠ হয়ে নাচ করতে সঙ্গ দিতে থাকে। মিহিরিমা নিজের কোমড় এ শক্ত পুরুষালি হাত অনুভব করতেই নিজের হাত টা পুরুষটির উন্মুক্ত পেশীবহুল বক্ষে রেখে নাচের প্রতি টা স্টেপ ফলো করতে থাকে।
" সো স্কিলড ইউ আর, । ওয়াটস ইউর নেম?"
মিহিরিমা লাজুক হাসি নিয়ে জিজ্ঞেস করল।
" আম রবিন মিস.."
" মিহিরিমা"
রবিন মিহিরিমা কে আরো কাছে আঁকড়ে ধরে কানে ফিসফিসিয়ে বলে,
" উম আমাকে কেমন লাগছে ম্যাডাম এর?"
মিহিরিমা ঘোলাটে চোখে মুচকি হেসে বলে, ইউ লুক সো ইয়াং , এন্ড হ্যান্ডসাম।
আর কিছু বুঝে ওঠার আগে রবিন ছিটকে ফ্লোরে পরে যায় ,মিহিরিমা টলতে টলতে পেছনে শক্ত দেওয়ালের মতো অনুভব হতেই একটা প্রশস্ত হাত তাকে নিজের বুকের কাছে টেনে ধরে। সে আর কেউ না স্বয়ং ইউভান ডিউক!
মিহিরিমা পিটপিট করে একবার তাকাতেই নিজের নেশা কেটে যায় এবং আটকে আটকে বলে ওঠে, মিঃ মিঃ ডিউক!! আপনি। এখানে.. কি করে । তার পুরো পৃথিবী যেনো থমকে গিয়েছে।
ইউভান এর মুখে বাঁকা হাসি বিদ্যমান, চোখের ইশারায় ডেভিড কে কিছু বলতেই ডেভিড রবিন নামক ছেলেটা কে টেনে হিঁচড়ে ইউভান এর সামনে দাঁড় করায়। যা মুহূর্তেই ইউভান এর মুখের ভাব শক্ত করে তোলে।
মিহিরিমা ইউভান এর উপস্থিতি তে সারা শরীর কাপতে শুরু করেছে। ওয়াইন এর নেশা কেটে গিয়ে ইউভান এর হিংস্র রূপ তার ভেতর কে নাড়িয়ে দিচ্ছে। সে অনুভব করে ইউভান এর হাতের চাপ তার কোমরে প্রবল ভাবে বেড়ে গেছে। একসময় ব্যথায় চোখ বেয়ে জল বেরিয়ে আসে।
" Look at her kiddo.. she belongs to me.. how you dare to touch her ...Devid take some special care of him.... "
ইউভান এর হিংস্র ধমকি তে রবিন নামক ছেলে টা আকুতি মিনতি করলেও ডেভিড তাকে টেনে নিয়ে যেতে থাকে।
মিহিরিমা ভয়ে মুখ চুপসে যায় , ইউভান এর শক্ত হাতের চাপ এ ব্যথায় অবশ হয়ে আসতে শুরু করেছে।
" তোমার বেস্ট ফ্রেন্ড সে কোথায় কোথাও দেখছি না তো!!"
মিহিরিমা তাড়াহুড়োয় বলে ওঠে, ইউভান প্লিজ লামিয়ার কোনো দোষ নেই, ওকে কিছু করবেন না। ওকে এর মধ্যে টানবেন না।
ইউভান আঙুল ছুঁইয়ে মিহিরিমার চোখের জল মুছিয়ে দিয়ে, গলার মধ্যিখানে মুখ খুঁজে লম্বালম্বি শ্বাস নিতে থাকে সে। মিহিরিমার শরীর থেকে বেয়ে আসা সুগন্ধি টা ইউভান কে আরো আচ্ছন্ন করে দেয়। এমন কর্ম কান্ডে কেঁপে ওঠে মিহিরিমা। ইউভান কে নিজের শরীর থেকে দূরে সরিয়ে নিতে চাইলেও তা ব্যর্থ হয়।
" আজকের ভুলের শাস্তির জন্য প্রস্তুত থাকো ওয়াইফি । আমার জায়গায় অন্য ছেলের কথা ভাবার কথা স্বপ্নেও আনবে না"
ইউভান যেনো প্রচণ্ড হিংস্র এই সময়। চোখ লাল, চুল এলোমেলো, । ক্লাব ইতিমধ্যেই ফাঁকা হয়ে গিয়েছে। মিহিরিমা হাতের কব্জি শক্ত করে চেপে হিঁচড়ে ইউভান গাড়িতে উঠে বসায়। মিহিরিমা কেঁদে ওঠে, চিল্লিয়ে ওঠে, লিভ মি। ইউ আর আ মনস্টার। আমি কোথাও যাবো না আপনার সাথে। আমি আমার বাড়ি ফিরে যেতে চাই। ক্রীপ ওল্ড ম্যান!!
মিহিরিমার প্রত্যেক টি কথা অনুসারে ইউভান দাঁতে দাঁত চেপে তার গাড়ির গতি বাড়িয়ে দেয়। মিহিরিমার ক্রমাগত কান্না কে পাত্তা না দিয়ে ৫ মিনিটের মাথায় বাড়ির সামনে গাড়ি থামাতেই ইউভান এর মুখে
বাঁকা হাসি ফুটে ওঠে।
" লেট ইউ সি, এই ওল্ড ম্যান আর কি কি করতে পারে!!
Write a comment ...