32

Villain 💔

" ফারহান ডিউক কোন কেবিনে ভর্তি রয়েছে ?"

মিহিরিমা চিন্তিত গলায় রিশেপশনের মেয়ে টি কে জিজ্ঞেস করল। মূলত সে একাই এসেছে  তার সাথে দেখা করতে।

__" ম্যাম সেকেন্ড ফ্লোর এ ২৪ নম্বর কেবিনে। "

__ থ্যাঙ্ক ইউ সো মাচ

মিহিরিমা মেয়েটিকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বড্ড তাড়াহুড়োয়  সেকেন্ড ফ্লোর এ ২৪ নম্বর কেবিনে  এসে পৌঁছায়। নার্স তাকে সাবধান করে দেয়, পেশেন্ট এর সাথে কথা বলা যাবে না। পেশেন্ট এর জ্ঞান ফিরলেও কথা বলার পর্যায়ে নেই। মিহিরিমা  বড্ড সতর্ক হয়ে কেবিনে নল মেশিনে জর্জরিত ফারহান এর  ক্ষত বিক্ষত শরীর  দেখে চোখ কুঁচকে যায় তার। কম্পিত পায়ে ফারহান এর কাছে যাওয়ার আগেই মিহিরিমা টের পেল পেছন থেকে কে যেন তার হাত টেনে ধরেছে।

ইসাবেলা!

" ইউ ব্লাডি লেডি! তোমার জন্য আজ আমার ছেলের এই অবস্থা।  তুমি এখানে কি করতে এসেছো .. এবার কি আমার ছেলে কে একদম মেরে ফেলতে চাও!"

ইসাবেলা নিজের সর্বস্ব দিয়ে চেঁচিয়ে ওঠে। কত বড় সাহস মিহিরিমা মেয়েটা ওনার একমাত্র  ছেলের অবস্থায় জন্য যে দায়ী সেই কিনা অনায়াসে ঢুকে পড়ছে  ।

" আন্টি আন্টি বিশ্বাস করুন.  আমি ফারহান কে দেখতে এসেছি। আমার আর কোনো উদ্দেশ্য নেই!"

মিহিরীমার গলা কাপছে । ইসাবেলা কে তার বড্ড ভয় লাগছে।

" তুমি আমার ছেলে কে ফাঁসাতে পারো নি তাই বলে ইউভি কে নিজের থেকে দ্বিগুণ বয়সী লোক কে বিয়ে করে ফেললে... তাও আবার সে তোমার এক্স এর আংকেল। লজ্জা নেই তোমার? জানো আজকের এই পরিস্থিতির জন্য কে দায়ী । তোমার সো কল্ড হাসবেন্ড । সে আমার ছেলের এমন পরিস্থিতি করেছে। দুটো হাত ভেঙে দিয়েছে। "

মিহিরিমা যেনো আকাশ। থেকে পড়ল। ইউভান ফারহান এর সাথে এমন করেছে!! নো নো এমন কখনোই হতে পারে না। মিঃ ডিউক ফারহান কে অনেক ভালোবাসেন।  ফারহান এর সাথে ওয়াশরুমে একসাথে  দেখার পর থেকেই মিঃ ডিউক তাকে এবয়েড করছেন ।  সকালে ফারহান এর খবর টি পেয়েও তার কোনো হেল দোল ছিল না। মিঃ ডিউক যখন লারা নামক মেয়েটির সাথে বেরিয়ে যেতেই,  পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েই  গ্র্যনি কে বলে মিহিরিমা  উপস্থিত হয়েছিল  ফারহান কে দেখতে। তাই বলে ফারহান তাকে রীতিমতো হ্যারাস করতে চেয়েছে এটা কখনোই ভুলবে না সে।

ইসাবেলা তখন রাগে ফুঁসছে। এই মেয়েটার জন্যে তার ছেলে আজ বিছানা শয্যা। এমনকি মেয়েটা ইউভি কেও হাত করে নিয়েছে ভালো মতো।

" তোমার লজ্জা নেই? টাকার জন্যে তোমরা সব করতে পারো। ফারহান এর আংকেল এর বিছানা গরম করেই তো নিজের কাছে ধরে রেখেছো। ইউভি কখনোই এমন ছিল না। ফারহান কে তার নিজের ছেলে ভেবে এসেছে। চুড়েল একটা। সম্পত্তির লোভে ওকে বিয়ে করেছো। নিজের কচি শরীর দেখিয়ে। প্রথমে আমার ছেলে যখন দেখলে তোমার হাত ছাড়া হচ্ছে তখন তার ব্যাচেলর আংকেল কে ধরলে। বিচ একটা!  বিয়ের পরেও আমার ছেলের প্রতি এত টান লুকিয়ে দেখা করতে এসেছো। ছিঃ ছিঃ!!!"

মিহিরিমা স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তার চোখ দিয়ে অনবরত জল গড়িয়ে পড়ছে।  ইসাবেলার প্রত্যেক টি কথা তার শরীরে ছুরির মতো আঘাত করেছে। এত লাঞ্ছনা অপমান কি তার আদেও প্রাপ্য ছিল।

মিহিরিমার মনে হলো তার সারা শরীর কাপছে। তার চিৎকার করে প্রতিবাদ করতে ইচ্ছে করল যে সে এমন নয়। কেনো তার চরিত্রে এত দাগ লাগানো হচ্ছে!! কিন্তু ইসাবেলা তো থামার পর্যায়েই ছিল না। মিহিরিমার হাত ঝাঁকিয়ে সুর চড়িয়ে বলে, আগেই তোর আসল রূপ জেনে গিয়েছিলাম। ইউভি  আর আমার লারার বিয়ে হলে আজ আমরা একসাথে থাকতাম। লারা ছোট থেকে ইউভি কে ভালোবাসে। একমাত্র তোমার জন্য লারা আজ কষ্ট পাচ্ছে। You are the Main villain in our life.. bitch.

" ইসাবেলা!! "

পুরুষালি উঁচু আওয়াজ টি খুব ই চেনা মিহিরিমার। তার শরীর কেমন দুর্বল হয়ে আসছে। তার চোখের সামনে মিঃ ডিউক কে দেখতে পেয়ে দাঁত চেপে কান্না রোধ করতে চাইলেও পাশে দাঁড়িয়ে থাকা লাস্যময়ী পোশাকে লারা কে দেখে তার বুকের মাঝ খানে চিন চিন করে উঠল। কিন্তু কেন!! মিঃ ডিউক  তার বাবার মৃত্যুর পেছনে ছিলেন। এমনকি কালো ব্যবসাতেও যার নাম জড়িত । মিহিরিমা কিনা তার প্রতি দূর্বল হয়ে যাচ্ছে। How could she!!  তার মন মস্তিষ্ক আশা করছে মিঃ ডিউক এর বিশ্বস্ত হাত।  অজান্তেই চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে তার।

নিজের পেছনে কারোর উপস্থিতি টের পেল সে। চোখ বন্ধ করেই ম্যানলি স্মেল টা পেতেই মন টা চঞ্চল হয়ে উঠল মিহিরিমার।

" Shhhhhh don't cry.."

ইউভান বড্ড আদুরে গলায় মিহিরিমার কানের কাছে ঘেঁষে মৃদু স্বরে বলতেই চোখ খুলে টাকায় সে।

" ইউভি তুমি এখনো এই মেয়েটা কে ডিফেন্ড করছো.. যে তোমায় লুকিয়ে এখানে তার এক্স কে দেখতে এসেছে। এমনকি  এঙ্গেজমেন্ট এর দিনেও দুজন কে একসাথে দেখা গিয়েছে। এরপর ও তুমি ফারহান কে  শাস্তি দিলে এই চূড়েল টার জন্যে!"

ইসাবেলা নিজের লাল মুখ নিয়ে চিৎকার করে বলল। লারা এগিয়ে তার বোন কে সামলাতে পারছিল না। ইসাবেলা আজ যেনো সব   ধ্বংস করে দেবে।

মিহিরিমা হঠাৎ ই নিজের দুর্বল শরীর টা ইউভান এর ওপর ছেড়ে দেয়। ইউভান এক মুহূর্ত অপেক্ষা না করে তাকে নিজের কোলে উঠিয়ে নেয়। মুহূর্তেই তার মধ্যে রাগ আর চিন্তার প্রকাশ হতে থাকে।

" ইসাবেলা! লাস্ট বার ওয়ার্নিং দিচ্ছি তুমি যার সমন্ধে কথা বলছ সে কিন্তু আমার ওয়াইফ। আর আমার ওয়াইফ আমাকে বলেই ফারহান কে দেখতে এসেছে। সেদিনের ঘটনায় কার দোষ ছিল সেটা বলার প্রয়োজন আমি বোধ করছি না। আমি আমার ওয়াইফ কে বিশ্বাস করি। সে কখনোই আমার বিশ্বাস ভাঙবে না। নিজের  ছেলে কে দেখে রাখো। সে কোন সাহসে আংকেল এর স্ত্রীর দিকে অন্য নজরে তাকাবে। আমার ওয়াইফ এর দিকে কারো বাজে নজর ইউভান ডিউক সহ্য করবে না। হোপ ইউ গেট  দ্যাট!!

আবছা আবছা ভাবে সমস্ত কথায় শুনেছে মিহিরিমা। মিঃ ডিউক এর কথার অর্থ যেনো সব কিছুর ঊর্ধ্বে।

ইউভান সকল কে উপেক্ষা করেই মিহিরিমা কে কোলে করে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য  ইসাবেলা সাথে লারার মনে ও আগুন ধরিয়ে দেয়। ইসাবেলা লারার চোখে জলের অস্তিত্ব দেখে চিন্তিত গলায় বলল, ইউভি আর এই মেয়ে কে যে করেই হোক সরাতে হবে। লারা মাই ডার্লিং। ডোন্ট ক্রাই ।

" ইউভি কি দেখেছে ওই মেয়ের প্রতি!! দুই দিন আমি তার কাছে থেকেও ওর মনের হদিশ পাই নি। রাফ এন্ড টাফ ব্যক্তিত্ব।  কেবল ওই দুদিনের মেয়েটাকে ওয়াইফ ওয়াইফ করে প্যানিক করছে। "

" লারা ডার্লিং ইউভি কে পেতে হলে প্ল্যান মাফিক সব কিছু করতে হবে। ওতো তাড়াহুড়োয় না। "

" আমার প্রমিশ হলো কখনোই ইউভান  আর ওই মেয়েকে একসাথে থাকতে দেবো না আমি কখনোই না" , বিড়বিড় করতে করতে লারার ঠোঁটের কোণে  ক্রুর হাসি খেলে গেল।

__________________________________

পার্কিং লটে গাড়িতে মিহিরিমা কে চোখে মুখে জল ছিটিয়ে দেয় ইউভান । তার চোখে মুখে চিন্তার আভাস। শক্ত ব্যক্তিত্ব বান লোক টির চোখে মুখে ভয় কিন্তু কেনো?

" আমি ঠিক আছি। "

মিহিরিমা দুর্বল কন্ঠে ইউভান কে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করল ।

ইউভান তখন ও চোখে চোখ মেলায় নি মিহিরিমার। মুখ রয়েছে গম্ভীর, চোয়াল শক্ত। মনে হচ্ছে রাগের পারদ চড়িয়ে রেখেছে। মিহিরিমা নিজের দুর্বল শরীর টা নিয়ে ভালো ভাবে বসল গাড়িতে। ইউভান আর কোনো কথা না বলে গাড়ি স্টার্ট করতেই। মিহিরিমা তাকে সার্টের কলার ধরে টেনে নিজের কাছে নিয়ে আসে। এত টা কাছে  দুজনেই দুজনের নিশ্বাস এর শব্দ শুনতে পারছে।

" খুব তো আমার ওয়াইফ আমার ওয়াইফ করলেন । এখন চুপ কেনো! সেদিনের ঘটনা তে আমার কোনো দোষ ছিল না এরপর ও আপনি আমায়  পুরোপুরি ইগনোর করছেন । আপনি যখন জানেন আমি দোষী না তবুও কেনো আপনার এমন বিহেভিয়ার পাচ্ছি আমি । এতই আমায় বিশ্বাস করেন তখন কেনো আমায় একা পাঠিয়ে ছিলেন সেদিন!!!

বলতে বলতে মিহিরিমা ফুঁফিয়ে কেঁদে উঠে। ইউভান আর এক মুহুর্ত অপেক্ষা না করে জড়িয়ে ধরে নিজের বুকে ।  মিহিরিমা ক্ষিপ্র হয়ে নিজেকে সেই বন্ধন থেকে ছাড়াতে ইউভান এর শক্ত পুরুষালি বুকে কিল বসিয়ে দিতে থাকলেও ইউভান এর কোনো হেল দোল নেই।

" ছাড়ুন  ছাড়ুন আমায়!"

" আমার বিশ্বাস করা না করা দিয়ে তো মিস মিহিরিমার তো কোনো ফরক পড়ার কথা না" ,, ইউভান আরো শক্ত করে মিহিরিমা কে নিজের সাথে জড়িয়ে ধরে। মিহিরিমা নিজের দাঁত দিয়ে নিচের ঠোঁট কামড়ে লম্বা লম্বা শ্বাস নেয়। নিজের গলায় বলল ইউভান এর ভেজা ঠোঁটের স্পর্শ পেতেই  সে অজান্তেই ইউভান কে নিজের সাথে চেপে ধরে। মিনিট কতক পর ইউভান অপ্রস্তুত হয়ে মুখ নামিয়ে বলল, সরি বেবিগার্ল.. আর কিছু বলার আগে মিহিরিমা নিজের গোলাপী ঠোঁট জোড়া ইউভান এর ঠোঁটের সাথে মিশিয়ে দেয়। দুজনে ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে। মিহিরিমার হাত গিয়ে পৌছায় ইউভান এর চুলে। পার্কিং এ গাড়ির স্বল্প আলোতে হটাৎ দুজনে হারিয়ে যেতে থাকে। ইউভান যেনো ক্ষুধার্তের মতো

মিহিরিমা কে চুষতে শুরু করে একসময়। জিভের নোনতা স্বাদ ও শ্বাস ফুলতে শুরু করে দুজনেরই।

Write a comment ...

Write a comment ...