" ইউভান কে বিয়ে করতে বাধ্য করবে তুমি মিহিরিমা!"
ফোনের ওপাশ থেকে গম্ভীর স্বর টাকে আজকাল বেশ ভয় পায় মিহিরিমা।
" বিয়ে ! এসব কি বলছেন । হ্যা আমি কথা দিয়েছি মিঃ ডিউক এর বিরুদ্ধে সমস্ত প্রমাণ জোগাড় বের করতে হেল্প করবো তার বদলে আমায় এখান থেকে মুক্তি চাই। মিঃ ডিউক কে বিয়ে কখনোই না। আমার বাবার মৃত্যুর পেছনে যার হাত তাকে বিয়ে তো দূর আমি তার মৃত্যু কামনা করি প্রতি ক্ষণে।" - মিহিরিমা প্রচণ্ড ক্ষোভ নিয়ে কথা বলল। তার শরীর রাগে কাঁপছে।
" মিহিরিমা ইউ আর আ সিলি লেডি ইউ নো? এখনো পর্যন্ত ইউভান এর বিরুদ্ধে কথা তথ্য তুমি তুলে দিয়েছ বলতে পারবে?"
" মিঃ ডিউক আমায় একটা হোম স্টে তে আটকে রেখেছে। চারপাশে জঙ্গল । রোজী বলে মেয়েটা কে দিয়ে খাবার পাঠানো হয় আমার । আমায় একটা ঘরের মধ্যে আটকে রাখা হয়েছে। মিঃ ডিউক আমার ধরা ছোঁয়ার বাইরে। সপ্তাহ খানেক উনি আসেন নি এখানে রোজী খবর দিয়েছে। আমায় বন্দী দশায় কাটাতে হচ্ছে । চাইলেও আমি কোনো তথ্যই পাচ্ছি না। রোজী কে অনেক প্রশ্ন করার পর ও মুখ খোলে নি",, মিহিরিমা নিরুপায় হয়ে নিজের পরিস্থিতির কথা বলল । কেঁদে কেঁদে চোখ মুখ লাল হয়ে গিয়েছে। মা কে কত দিন দেখে নি সামনে থেকে।
" আমি কি এখান থেকে মুক্তি পাবো না!"
" সিলি গার্ল ! মুক্তি তুমি তখন ই পাবে যখন তোমার কাজ টা সঠিক ভাবে করবে। তোমার বাবার খুনি কে এত সহজে ছেড়ে দেবে মিহিরিমা?"
কথা টা কোনো ভাবে মিহিরিমার মধ্যে প্রভাব ফেললো। এভাবে হেরে গেলে তো হবে না। আসল দোষী কে যে শাস্তি দিতে হবে।
ওপর পাশ থেকে আবার ও হিস হিসিয়ে একজন বলল, তোমার কাজ সহজ করে দিয়েছি এক ধাপ। এবার তোমার পালা। একটা ভিডিও পাঠিয়েছি সেটা দেখলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে সব।
ফোন টা কেটে যায়। মিহিরিমা রুম টির এক কোন্ ঘেঁষে দাঁড়ায়। এখন রাত কি দিন তার জানা নেই । কত দিন বাইরের সকাল সে দেখে নি। বন্দী দশায় থেকে মিহিরিমা কেমন দুর্বল হয়ে গিয়েছে। মিঃ ডিউক কেনো তাকে আটকে রেখেছে এটা তার জানা নেই। হয়তো অসৎ কোনো উদ্দেশ্যে! মাঝে মাঝে ভাবে এত সুন্দর সুদর্শন পুরুষ এর মনোভাব এত কুৎসিত কি করে হতে পারে।
তখন ই ফোনে একটা ম্যসেজ আসতেই ভ্রু কুচকে মিহিরিমা সেটি ওপেন করে। তৎক্ষণাৎ তার মুখ কুচি ইঞ্চি ফাঁক হয়ে যায় । নিউজ এর হেডলাইন দেখে তার চোখ দিয়ে এক ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ে।
আর কিছু ভাবার আগেই ফোন আসে চেনা নাম্বার থেকে। মিহিরিমা সাহস জুগিয়ে ফোন কানে ধরতেই আবার ও গম্ভীর একটা সর্পিল আওয়াজ বলে ওঠে, তুমি এত টাও বোকা নও যে বোঝাতে হবে সবটা। খালি মনে রাখবে একটা নাটক এর অংশীদার হবে তুমি। সমস্ত প্রমাণ হেন্ড ওভার করলেই তোমার মুক্তি। বাকি পদক্ষেপ ডিটেইল এ জানিয়ে দেওয়া হবে। মনে রাখবে তুমি কেবল নাটক এর অংশীদার হবে। ইমোশন এর কোনো ওয়ার্ড যেনো না থাকে। নয়তো তোমার ও প্রাণ হারাতে হতে পারে!
কল টা আবার ও কেটে যায়। মিহিরিমা ধপ করে মেঝে তে বসে পড়ে। তার দৃষ্টি তে শূন্যতা গ্রাস করেছে।
______________________________________
Manchester, Royal palace,
" ইউভি অবশেষে তোমার দেখা পেলাম ",,, আশির কাঠগোড়ায় এক বৃদ্ধা এত দিন পর নিজের নাতি কে দেখে বেশ অভিমানী গলায় বলে ওঠে।
ইউভান পরনের কোর্ট টা খুলে কোনো মতে মিসেস আর্চার ডিউক আলেকজেন্দ্রীর কোল ঘেঁষে শুয়ে পড়ে। অন্য দিন হলে মিসেস আলেকজেন্দ্রী নাতির আগমনে খুশি হতেন কিন্তু আজ পরিস্থিতি একদম ভিন্ন।
" গ্র্যান্ড মা ওয়াট হ্যাপেন্ড,! কি এমন জরুরী তলব আমায় ফ্রান্স থেকে ডেকে পাঠালে"
মিসেস আলেকজেন্দ্রী নাতির মাথার চুল গুলোয় হাত বুলিয়ে গম্ভীর ভাবে বললেন, ইউভি তুমি কি সব জানা সত্ত্বেও না জানার ভান করছো। নিউজ টা কি তোমার চোখে আসে নি?
ইউভান ভ্রু কুঁচকে জানতে চায় ,কিসের নিউজ গ্র্যান্ড মা! আমি দেশে ছিলাম না এত দিন । ফ্রান্সে মিটিং এ আটকে গিয়েছিলাম।
" তুমি কি আমায় আপন ভাব আর ! কত বছর পর এলে আমার কাছে বল তো? আমাকে ত্যাজ্য করে দিয়েছ বুঝি ? এই জন্যে নিজের নাতির খোঁজ খবর আমায় আজকাল নিউজ পেপার মিডিয়া থেকে নিতে হচ্ছে।
ইউভান বিরক্ত হয়ে বলে, গ্র্যান্ড মা প্লিজ স্টপ ইট। তোমায় বলেছিলাম London এ আমার সাথে নিয়ে যাবো কিন্তু তুমি তোমার বুড়োর স্মৃতি আকড়ে Manchester এ পড়ে আসো এই হাভেলি তে একা একা। আর মিডিয়ার কথা বাদ দাও, ইংল্যান্ড এর নিউজ চ্যানেল ইউভান ডিউক এর নামে রুমার ছড়িয়েই ভালো ইনকাম করে!
মিসেস আলেকজেন্দ্রী নাতির কথায় সন্তুষ্ট হলেন না, অফিসের এক লেডি কর্মচারীর সাথে লন্ডন এর রাস্তায় মাঝ রাতে দেখা গিয়েছে ইংল্যান্ড এর সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ইউভান ডিউক কে।
ইউভান কথা টা শোনা মাত্র নিউজ পেপার টা হাতে নিয়ে হেডলাইন টা পড়তেই শরীর শক্ত হয়ে গেল তার।
পেপারে স্পষ্ট বড়ো আকারে একটা ছবি। যেখানে অন্ধকারে স্ট্রিট এর আলোয় ইউভান আর মিহিরিমার ঘনিষ্ট একটা ছবি।
" Billionaire Yuvan Duke has been spotted getting intimate with a woman in the middle of the night in London. Is the woman his new chike? Which woman came into the life of Balecher Yuvan Duke? Who is this woman? Yuvan Duke's female fans are eager to know the real truth."
ইউভান চোয়াল শক্ত করে পেপার টা দু টুকরো করে ছিঁড়ে ফেলে।
" ইউভি এর আগেও তোমার অনেক রুমার ছড়িয়েছে নানা বিষয়ে, তবে মেয়ে জাতীয় বিষয়ে তোর কেরিয়ার ছিল নিট এন্ড ক্লিন পঁয়ত্রিশ বছর এর জীবনে। " , মিসেস আলেকজেন্দ্রী অত্যন্ত রুষ্ট গলায় বললেন তার নাতি কে।
" ইউভি গ্র্যান্ড পা আর্চার ডিউক এর বংশজ হিসেবে এটা আমি আশা করি নি মাই সন! ইংল্যান্ড এর মিডিয়ায় তোলপাড় হয়ে গিয়েছে পঁয়ত্রিশ বছর বয়সে এসে ইউভান ডিউক এর মতো ব্যক্তিত্ব বান পুরুষ কে এই প্রথম কোনো নারীর সাথে জড়াতে দেখে। কে সেই মেয়েটা? তোমরা কি একে ওপর কে ভালোবাসো!
ইউভান খুব ই রুক্ষ গলায় বলল,
" প্লিজ স্টপ ইট গ্র্যান্ড মা। ভালোবাসা মাই ফুট! আমি এসব মেয়েদের বিশ্বাস করি না। মেয়েটা কে জাস্ট আটকে রেখে অপদস্ত করতে চাই আমাকে অপমান করার ফল হিসেবে"
" ইউভি তুমি কি ভুলে গিয়েছ রেহান তোমার বিয়ে লারার সাথে ঠিক করেছে। শুধু মাত্র নিজের ইগো স্যাটিসফাই করার জন্য মেয়েটা কে আটকে রেখেছো তুমি, আজকের এই পরিস্থিতির জন্যে তুমিই দায়ী! এই নিউজ টা আমাদের পরিবারে কত টা নেগেটিভ প্রভাব ফেলবে তুমি জান? রেহান ফোন করেছিল আমায়, লারা বিষয় টা দেখে প্রচণ্ড কান্না কাটি করছে...
মিসেস আলেকজেন্দ্রী আর কিছু বলার আগেই ডেভিড প্রবেশ করে সেখানে বেশ ব্যস্ত হয়ে,
" কি হয়েছে ডেভিড? এত উত্তেজিত কেনো?"
" স্যার কটেজে মেয়েটা নিজের রুমে হাত কেটে সুইসাইড এটেম্পট করেছে। রোজী খবর পাঠালো। অনেক ক্ষন কেনো খবর না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত দরজা ভাঙতে হয়েছে"
ইউভান পুরোটা শুনে স্থির হয়ে বসল। গ্রান্ড মার হাতে চুমু খেয়ে বলল, আমি আসি গ্র্যানি । আমায় এখন ই বের হতে হবে। আর নিউজ এর ব্যাপার টা আমার ওপর ছেড়ে দাও। তোমার ইউভির ওপর ভরসা আছে তো ?
মিসেস আলেকজেন্দ্রী মাথা নাড়লেন ইউভান হন্ত দন্তো হয়ে বেরিয়ে যেতেই মিসেস আলেকজেন্দ্রী ডেভিড এর নাম্বার এ কল করলেন, ডেভি কে এই মেয়েটা যার কথা শুনে ইউভি এত উত্তেজিত হয়ে পড়ল? পুরো ডিটেইলস আমার চাই!
Write a comment ...