20

I hate you!

" আমার খুব কাছের বন্ধু সে! এটা ভাবার ভুল করো না তার সাহায্য নিয়ে তুমি এখান থেকে পালাতে পারবে!",,

মিহিরিমার রীতিমতো ইউভান এর কাছে ধরা খেয়েছে যার দরুন তার মুখ টা চুপসে যায় ভয়ে । ইউভান ততক্ষনে  রুম টার দরজা টা লক করে  মিহিরিমার সামনে এসে বসল। মিহিরিমা এতে খানিক টা ইতস্তত বোধ করল। দুর্বল শরীর নিয়ে সরে  যেতে চেষ্টা করলেও মিহিরিমার কোমরে ইউভান তার ডান হাতের শক্ত পাঞ্জা টা  গলিয়ে নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে নিল।

মিহিরিমা কিছু বলার আগেই ইউভান " শশশ!" বলে চুপ করতে ইশারা করল। মিহিরিমা ঘন ঘন ঢোক গিলে ইউভান এর দিকে ভয়ে ভয়ে চোখে চোখ রাখল। ইউভান তার অনেক টাই কাছে। তার জিম করা শক্ত হাত গুলো মিহিরিমার নরম পেলব শরীরে গেঁথে গিয়েছে।

" আমি অসুস্থ! প্লিজ!",, ততক্ষনে মিহিরিমার চোখ দিয়ে গড়িয়ে জল পড়ছে।

ইউভান তখন নিজের মধ্যে ছিল না। মিহিরিমার একের পর এক কৃতকর্মের জন্যে শাস্তি প্রাপ্য  । যাকে আজ মিহিরিমার চেক আপ করিয়েছিল সে ইউভান এর খুব ছোট বেলার বন্ধু হয় । ডঃ হেনরি ! চেক আপ শেষে হেনরি অপ্রস্তুত গলায় যাওয়ার সময় বলে গিয়েছে, মিহিরিমা তার কাছে সাহায্য চাইছিল এই খান থেকে বের হওয়ার জন্যে। এমনকি এটাও বলেছে ইউভান তাকে অকথ্য অত্যাচার করছে এখানে। কিডন্যাপ করা হয়েছে তাকে!  আরও হয়তো অনেক কিছু, ইউভান এর ধৈর্যে টেকে নি সব টা শোনার। হেনরি জানে ইউভান কত টা জেদি! তার বিষয়ে নাক গলানো মানে নিজের জীবন সংকটে এক প্রকার। জিগরা বন্ধু ই হোক না কেনো!

রুমে আসার আগে কত কি ভেবে এসেছিল মেয়েটা কে কঠোর তম শাস্তি দেবে! ইউভান ডিউক এর সঙ্গে উসকানোর শাস্তি! তবে তবে সব টা কেমন গুলিয়ে যাচ্ছে তার কাছে। ইউভান চোখের বলয় তখন মিহিরিমার কাপতে থাকা গোলাপী রঞ্জিত ঠোঁট এ আটকে যায়।

বুড়ো আঙুল টা যখন মিহিরিমার নরম ঠোট স্পর্শ করতেই ইউভান এর শরীরের সংযমী হরমোন গুলো বাঁধন ছাড়া হয়ে যায়। ভেতরে উত্তাপ অনুভব করে সে।  মিহিরিমার চোখের জল কে উপেক্ষা করে ডুব দেয় তার ঠোঁটের গভীরতায়। মিহিরিমা প্রস্তুত ছিল না কোনো ভাবেই!

" I just hate you ! Hate you!" অস্ফুটে মিহিরিমার মুখ দিয়ে বের হলো ঠিক ই। ইউভন এর কানে অবশ্য যায় নি।

বিষয় টা পুরো টাই একতরফা ভাবে ঘটে। মিহিরিমা ঠিক যেনো পাথরের মূর্তির মতো বসে ছিল। কোনো রকম প্রতিবাদ সে করছে না। চোখ দিয়ে কেবল জল গড়িয়ে পড়ছে। ইউভান হাত খানা তখন মিহিরিমার নগ্ন ত্বকে বিচরণ করছে। ঠিক পাঁচ মিনিটের মাথায় হটাৎ ই রুমের বাইরে নক করে কেউ।

ইউভান বিরক্ত হয়ে মিহিরিমার থেকে সরে আসে। মিহিরিমা স্থির হয়ে বসে ছিল । চোখের জল ও তার শুকিয়ে গিয়েছে। কাঁধ থেকে ড্রেসের হাতা টা নেমে এসেছে। সে কেবল জোড়ে জোড়ে শ্বাস নিচ্ছে।

ইউভান বিছানা থেকে উঠে রুমের লক খুলতে গিয়ে ও খুলল না । রিটার্ন বিছানার কাছে এসে মিহিরিমার কাঁধে নেমে যাওয়া ড্রেসের হাতা টা ঠিক করে ঠিক ঠাক ঢেকে দিল তাকে । তারপর রুমের লক খুলতেই দেখল ডেভিড কে দেখতে পেল  ইউভান!

" কি ব্যাপার হটাৎ!"

ডেভিড কিছু একটা বলল ঠিক ই তবে মিহিরিমা দূরে থাকায় শুনতে পারছে না । একটা ফাইল ইউভান  এর হাতে দিতেই মিহিরিমা নড়ে চড়ে বসল। ইউভান এর মুখে  চিন্তার ছাপ দেখে মিহিরিমার খটকা লাগলো! তবে কি? হ্যা ইউভান হটাৎ ই রুম থেকে বেরিয়ে যেতেই ঘরে আসল কম বয়সী কেয়ার টেকার টি । হাতে খাবার এর প্লেট ।

" তোমার নাম কি ?"

" রোজি!  ম্যাম আপনার জন্যে খাবার এসেছি"

" তোমাদের স্যার কোথায় গেল হুট করে। আমি খাবো না!"

" ম্যাম প্লিজ কিছু খেয়ে নিন প্লিজ স্যার জানলে কেলেংকারী হয়ে যাবে!"

মিহিরিমা মেয়েটার দিকে তাকিয়ে আপসোস করল। " ইউভান ডিউক ! এত টা বাজে মেয়েদের আটকে রেখে ছি! এরপরও তুমি ওই লোক টার সাপোর্ট করছো! চাইলেই প্রথম দিন থেকে তুমি আমায় এখান থেকে বের করতে পারতে!"

মিহিরিমা  নিজের চোখের গড়িয়ে পড়া জল গুলো মুছতে মুছতে বলল। সারা মুখ লাল হয়ে আছে তার।

রোজি হকচকিয়ে বলল, এসব কি বলছেন ম্যাম! স্যার কে আপনি...   ব্যাস এত টুকু বলেই সে থেমে গেল। কানের কাছ টা সামান্য ধরে আর কোনো কথা না বলেই খাবার টা রেখে চোখ মুখ শক্ত করে দরজা লক করে বেরিয়ে যেতেই মিহিরিমা  আবার ও কান্নায় ভেঙে পড়ল।

বন্ধ ঘর টায় টিম টিম করে একটা আলো জ্বলছে। একটা জানালা তাও আলোর অভাবে ভয়ানক দেখায় পরিবেশ টা। মিহিরিমা টলতে টলতে জানালার কাছ টায় ঘেঁষে দাঁড়ায়। কিন্তু হঠাৎ তার চোখে মুখে কোনো রকম ভয় লক্ষ্য করা গেল না।

:

:

:

ঘড়ির কাটা তখন রাত ১২ টার কাটায়!  অন্ধকার করিডোর এ বুটের আওয়াজ তুলতে তুলতে ইউভানএগিয়ে আসছে তার পাশেই দুজন বডিগার্ড। বস এর চোখের ইশারায় বডিগার্ড মাথা হেলিয়ে রুমের লক খুলতেই ইউভান এর হাত ইশারায় তাদের ভেতরে ঢুকতে বারন করল। বডিগার্ড রা বস এর কথার খেলাফ করল না।

°°°°°

" Get ready, I'll go shopping with you"

ঘুম ঘুম চোখে মিহিরিমা দেখল ঘড়ি

তে রাত ১২ টা বাজে!

" আপনি কি আমার সাথে মজা করছেন?"

Write a comment ...

Write a comment ...