15

একটি ফোন ... তারপর?

Previous night incident

নিঝুম রাত .. নিস্তব্ধতায় মিহিরিমা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। শরীরে চোট পেয়ে ঘুম টা আরো গাঢ় হয়েছে তার। ঘড়িতে তখন রাত ১ টা। ভ ভ শব্দে হটাৎ ই ফোনটা ভাইব্রেট হতে থাকে প্রথম বার ... বাজতে বাজতে কেটে গেল আরো দুবার একভাবে বাজতে থাকলে মিহিরিমা ঘুমু ঘুম চোখে ফোন টা কানে ধরে বিরক্ত সহ বলল, who are you!!  Hey ?

ওপর পাশ থেকে কেমন খসখসে শব্দ একটু নিস্তব্দতা তারপর একটা গাঢ় আওয়াজ কানে আসল মিহিরিমার।

" আমি তোমার ওয়েলউইশার ডিয়ার। ডোন্ট আস্ক মাই নেম।  তোমার সাহায্য করতে চাই!"

মিহিরিমার ঘুম ছুটে গেল চোখ থেকে। ফোনের নাম্বার টা অন্য দেশের লাগছে। আবার তার ওয়েল উইশার বলছে!!

" Wt... দেখুন রাত বিরেতে ফাজলামি করবেন না সাফ সাফ বলুন কে বলছেন।"

ওপর পাশ থেকে ফিসফিস স্বর, " তুমি জানতে চাও না তোমার বাবার আত্মহত্যার জন্য কে দায়ী?"

মিহিরিমার বুক টা ধক করে উঠল

" আমরা ব্যাংক কারাপ্ট হওয়ার জন্য  পাপা আত্মহত্যা করেছিল ... আপনি কি আমার সাথে মজা করছেন এত রাতে? আপনি কে বলেন তো"

" ওই যে বললাম ওয়েল উইশর যদি তুমি ভাবো। তোমার বাবা একটা টেক্সটাইল কোম্পানি তে কাজ করতেন নাম "রয়েল সোসাইটি" ঠিক বললাম তো?"

" আ... আপনি এত কিছু কি করে জানলেন!"

" তোমার বাবা কে তার অফিস থেকে চোর সাব্যস্ত করে বের করে দেওয়া হয় ইচ্ছে ... সকলের ছিঃ ছিঃ ঋণের বোঝা না সামলাতে পেরে নিজের মৃত্যু কে বেছে নেন!"

মিহিরিমার মাথা যেনো ভারী হয়ে এলো। বাবার মৃত্যুর এত দিন পর সে জানতে পারল তার বাবার মৃত্যুর পেছনে অন্য এক রহস্য লুকিয়ে আছে।

" আমি বিশ্বাস করি না আমার পাপা চুরির মতো কিছু করেছে। উনি আমার কাছে সবচেয়ে সৎ একজন মানুষ ছিলেন। আপনি কোন সাহসে এসব কথা বলছেন ... আমি আপনার নামে কেস করবো পুলিশে"

" তার আগে পাঠানো ভিডিও টা দেখুন !"

মিহিরিমা কাঁপা হাতে ভিডিও টা ক্লিক করতেই দেখল এটা  তো তার পাপা ! মাঝখানে দাড়িয়ে সকলে চারপাশে চোর চোর বলে ছিঃ ছিঃ করছে.. একসময় মানুষ টা ডুকরে কেঁদে ওঠে চিৎকার করে বলে... সব মিথ্যা উনি কিছু চুরি করেন নি...।

মিহিরিমা বন্ধ করে ফেলল বিডিও টা। চোখ ফেটে তার জল পড়ছে... এটা যে জলজ্যান্ত প্রমাণ এতে কোনো সন্দেহ নেই। তার বাবা এত টা অপমানিত হয়ে প্রাণ ত্যাগ করেছেন... ভাবতেই মিহিরিমা অস্থির হয়ে পড়ল।

এখনো সেই দিন টা তার কাছে তাজা কলেজ থেকে সোজা বাড়িতে ঢুকে মিহিরিমা তার পাপা কে কফি দিতে ঢুকেছিল কিন্তু তার সামনে তখন সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে আত্মচিৎকার দিয়ে বলেছিল তার বাবা কখনো এমন টা করতে পারে না যে সারাজীবন কঠিন পরিস্থিতিতে টিকে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ... এত শক্ত একটা মানুষ কিনা এভাবে হেরে যাবে!

মিহিরিমা শক্ত কণ্ঠে ফোনের ওপর প্রান্ত কে জিজ্ঞেস করে, " কে আমার পাপার আত্মহত্যার জন্য দায়ী!.. স্পিক মি।"

ওপর পাশ থেকে হিসহিসিয়ে হাসির শব্দ আসল। মিহিরিমা বুঝতে পারল না কে ব্যক্তি টা মহিলা না পুরুষ!

" বলুন ...হাসছেন কেনো? এখানে কি মজার কথা হচ্ছে!"

" ওহ ডিয়ার শান্ত হও। যে এর জন্য দায়ী তুমি তাকে ভালো মতো চেন.. পারবে তার বিরুদ্ধে যেতে? পারবে তোমার বাবার মৃত্যুর জন্য যে দায়ী তাকে শাস্তি দিতে!"

মিহিরিমা থমকাল। কে সেই ব্যক্তি?

" আমি... চিনি.. কে সেই ব্যক্তি! বলুন তার নাম?"

" যার নাম বলবো তাকে তুমি খুব ভালো করে চেন অবশ্য। দ্য রিচ বিলিনিয়ির ম্যান ইউ..ভান ডিউক! "

মিহিরিমা যেনো হাজার ভোল্টের শখ খেল । ফোন টা হাত থেকে পড়ে গেল। মিঃ ডিউক!

ফোনের ওপর পাশ থেকে বিশ্রী এক হাসির শব্দ এলো। যেনো তাকে উপহাস করছে।

" জানি মানতে পারবে না। কেবল তোমার বাবা ই না অনেক এমন শিশু আছে মেয়ে আছে যার জীবন বিরবাদ করেছে ওই ইউভান ডিউক!"

" কি সব বলছেন! এগুলো উনি কেনো করবেন ?"

" এত বড়ো ব্যবসার আড়ালে মেয়ে পাচার... অবৈধ অস্ত্র কেনা বেচার সাথে জড়িত ... তুমি নাই বিশ্বাস করতে পারো তোমাদের দুজনের মাঝে মাখ মাখো বিষয় টা তো আর বস আর এমপ্লয়ির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই!"

মিহিরিমা চেঁচিয়ে উঠল।

" কি ফাজলামি করছেন ! উনি যদি দোষী হয় অবশ্যই টাকে শাস্তি পেতে হবে। ছিঃ আমি ভাবতে পারছি না লোক টা এত টা বাজে!".. কথা টা বলতে গিয়েও গলা কেঁপে উঠল তার।

ওপর পাশের ব্যক্তি টা হাসল বোধ হয়।বলল,

" যা করতে বলবো তাই করতে হবে তোমায়... তোমার বাবার দোষী কে শাস্তি দিতে চাইলে ।"

মিহিরিমা স্থির ভাবে বলল, " আমি রাজি কি করতে হবে আমায়"

" তবে শোনো... ইউভান ডিউক কে এক্সপোজ করতে হলে তোমায় তার খুব কাছের হতে হবে ডিয়ার "

" মা.??নে!".. হতবুদ্ধির মতো জিজ্ঞেস করল মিহিরিমা।

" এমন ভাব করছো যেনো কোনো ঘনিষ্ঠতআয় হয় নি তার সাথে! অভিনয় করবে তার সাথে ঘনিষ্ঠ হবে... পুরুষ মানুষ কে বশে রাখতে মেয়ে রা যা করে আরকি.."

" কিসব বলছেন আপনি!! আমাদের মাঝে যেটা হয়েছিল এক্সিডেন্টলি... আমি কখনোই এসব করতে পারবো না"

" ইউভান ডিউক কিন্তু এক্সিডেন্ট ভাবছে না বিষয় টা। তোমার অপমান টা ও ভুলতে পারে নি কারণ তার আগের গার্ল ফ্রেন্ড গুলো সহজেই নিজের সোজা ভাষায় রক্ষিতা বানিয়ে রেখেছিল কিন্তু তুমি যখন তাঁকে রিজেক্ট করলে ওর অংকারে আঘাত লাগল সে তোমায় অফিসে কাজ করতে বাধ্য করাল তাই নয় কি?"

মিহিরিমা হাত পা ঠাণ্ডা হয়ে এলো । আসলেই তো মিঃ ডিউক তাকে কনট্র্যাক্ট এর নামে  বিভ্রান্ত করে অফিসে কাজ করতে বাধ্য করেছে।

" ইউভান এর ঘনিষ্ঠ হও গভীরে সম্পর্ক গড়ে তোলো। তার বিজনেস ডিল সব কিছুর ইনফর্মেশন এক এক করে আমার হাতে তুলে দেবে যা আজ পর্যন্ত কেউ জানে না। তার বিশ্বাস যোগ্যতা অর্জন করো অভিনয় করো। তুমিই পারবে মিহিরিমা ইউভান কে ভেতর থেকে শেষ করতে।  বিজনেস ধ্বংস স্তুপ এ পরণতে করতে"..

ওপর পাশের হিসহিসানো কণ্ঠে কাটা দিল মিহিরিমার । চোখ দিয়ে এক ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ল।

" আমি পারবো না... এই কাজ টা আমার দ্বারা সম্ভব না"

" তুমি কি চাও ইউভান ডিউক এর মতো জঞ্জাল যে তোমার বাবার মৃত্যু.. সাথে কত মেয়ের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি করেছে  সে দাপটে ঘুরে বের হোক? সবটা তোমার হাতে যত ব্যবসায়ীক বিষয় তোমার কালেক্ট করতে হবে গোপনে আমার হাতে সারেন্ডার করবে। তোমার মন না চাইলেও তুমি করতে বাধ্য মিহিরিমা! আমার নজর তোমার ওপর সবসময় আছে।

কল টা কেটে যায় মিহিরিমার। পাথরের মতো নিথর হয়ে যাওয়া শরীর নিয়ে উঠে দাঁড়ায় সে। আয়নায় অন্ধকারে  নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে ডুকরে কেঁদে ওঠে মিহিরিমা।  গলার লকেট টা আঁকড়ে ধরে মাটি তে বসে পড়ল সে। কত টা অসহায় বোধ করছে নিজেকে।  তার পর মৃতদেহ টা এখনো তাজা ভাবে ফুটে আছে তার মস্তিষ্কে। সেই সাথে ভিডিও তে বাবার করুন আর্তনাদ! সে যখন জড়ি

য়েই পড়েছে এই পাকে। কখনও ছাড়বে না ইউভান ডিউক কে! ঘৃণায় তার মুখ বিকৃত হয়ে আসে।

Write a comment ...

Write a comment ...