__" চিয়ার্স!"
ইউভান তার ভায়ের সাথে ওয়াইন এর গ্লাস টা শেয়ার করল উৎসাহ নিয়ে। রেহান গো গ্রাসে সমস্ত টা গিলে ফেলল। ইউভান আজ তার ভাইয়ের বাড়ি তে এসেছে ডিনার করতে রাতে। রেহান ডিউক বহু দিন ব্যবসার কাজে আরব কান্ট্রি তে ছিল। আজ ই ফিরেছে দেশে!
__" দুই ভাই এর সাথে আমরা মা ছেলে কি জয়েন হতে পারি?"
__" ওহ ইসাবেলা মাই ডারলিং অফকোর্স । আমরা সবাই একসাথে ডিনার করবো এসো।"
রেহান ইসাবেলার হাতে উষ্ণ চুম্বন এঁকে দিয়ে বলল। ইসাবেলা বিগলিত হলো রেহান এর আদরে। রেহানের পাশের ফাঁকা জায়গা তে বসে পড়ল।
___" ফারহান বেটা প্লিজ টেক সিট। "
ফারহান মুচকি হেসে ইউভান আঙ্কল এর পাশে বসল। সামান্য কিছু খাওয়া দাওয়া মধ্যিখানেই ইসাবেলা বলল, রেহান .. ইউভান এর বিয়ে টা নিয়ে এবার ভাবা উচিৎ।
___" ইসাবেলা! আজ অনন্ত এসব টপিক বাদ দাও প্লীজ! এত দিন পর পুরো পরিবার একসাথে হয়েছি। ভাই এত দিন পর এসেছে!
ইউভান অত্যন্ত সাফ ভাবে বিষয় টা ইগনোর করে বলল মাঝ পথে ।
___" ইসা ঠিক ই বলেছে ইউভান! বিয়ের বিষয় টা আলোচনার জন্যই আজ ডিনার টা রাখলাম তোর সাথে।
রেহান এর সাবলীল কথায় ইউভান খাবার চিবোনো থামিয়ে দেয়। বুঝতে বাকি থাকে না ইসাবেলার কথা তেই ভাই এর ইনভাইটেশন পেয়েছে !
___" আমি এই বিষয়ে আপাতত ইন্টারেস্টেড নই। আশা করি তোকে বোঝাতে হবে না"
___" ইউভান আমরা চাইছি ইসাবেলার বোনের মেয়ের সাথে তোর এগেজমেন্ট টা হয়ে যাক। এটাই আমার শেষ কথা। ফারহান এর এগেজমেন্ট টাও আটকা পড়ে যাচ্ছে। "
___" আমার কথা ভেবো না। ফারহান এর এগেজমেন্ট টা সেরে ফেলো। আমি উঠছি!"..
ইউভান খাবার ছেড়ে উঠে দাড়াল। ভাই কে খুব ভালবাসে ইউভান তাই বলে বিয়ের মতো সর্ম্পকে জড়ানোর ইচ্ছে তার নেই । ইউভান খুব ভালো করে জানে রেহানের সব গুলো কথায় ইসাবেলার শেখানো!
রেহান রেগে যায়। ইউভান এর খাবার ছেড়ে উঠে যাওয়া কে ঔদ্ধত্য মনে করে
___" ইউভান লারার সাথে দেখা করবি... টাইম স্পেন্ড করবি... বিয়ে টা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব করতে হবে তোকে লারার সাথেই। "
ইউভান বড় ভাই এর কথা টা শুনে হন হন করে বেরিয়ে যায় সেখান থেকে। তার মাথা ফেটে যাচ্ছে রাগে। কেবল ভাই কে অসম্মান করবে না বলেই
পেছন থেকে ফারহান কয়েকবার ডাকল।
___" আংকেল ! প্লিজ খাবার তো খেয়ে যাও!"
ফারহান এক মুহুর্ত সেখানে দাঁড়ায় না। বাইরে থেকে চলে যাওয়ার জন্য গাড়ির আওয়াজ পেতেই ইসাবেলা মুখ খুলল, দেখলে তোমার ছোট ভাই কে! অন্য কোনো মেয়ের খবর কানে এসেছে আমার কিছুদিন ধরে । তবে কিন্তু সর্বনাশ হয়ে যাবে ... লারার সাথেই ইউভান কে বিয়ে দিতে হবে সেটা মনে রেখো। যেভাবে হোক তোমার ভাই কে কনভেন্স করো।
__________________________________
__" প্লিজ বেব কাঁদিস না। তুই কি চাচ্ছিস আবার ফারহান এর সাথে প্যাচ আপ করতে?"
লামিয়া বেশ বিরক্তির সাথে জিজ্ঞেস করল। লামিয়া আর মিহিরিমা দেখা করতে এসেছে একটা স্ট্রিট ফুড এর দোকানে। মিহিরিমা এরপর লামিয়ার সঙ্গ পেয়ে অনেক দিন পর সব কথা খুলে বলতে বলতে ইমোশনাল হয়ে পড়েছে রীতিমতো।
__" নো ওয়ে লামু! সে হুট করে অফিসে আমায় গার্ল ফ্রেন্ড বলে মিঃ ডিউক এর সামনে যেভাবে প্রিটেন্ড করেছে আই জাস্ট স্পিচ লেস! "
__" মিঃ ডিউক এর সামনে বলায় তোর অস্বস্তি হচ্ছে? হু!"
মিহিরিমা পরিস্থিতি সামলাতে বলল, মোটেও না তবে ফারহান কেনো দু নৌকায় পা দিয়ে চলছে! তার মা এত অপমানের পর ও আমি ওদের সাথে সম্পর্ক রাখবো ভাবলি কি করে!
___" ফারহান তোকে সর্বদা ডমিনেট করতে চেয়েছে ওর চোখে তোর প্রতি ভালোবাসা তো দেখি না আমি। এর থেকে ডেভিড নামের ছেলে টা যার সাথে তোর ইন্টেমেসী হয়েছে অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে সে বেশ কেয়ারিং উফ!"
লামিয়া কথা বলতে বলতে কেমন যেন ফ্যান্টাসির
সাথে কথা গুলো বলল। আর মিহিরিমা চুপ করে গেল তখন। আজ ও লামিয়া কে সত্যি টা জানায় নি মিহিরিমা যে ইন্টেমেসী ডেভিড নয় মিঃ ডিউক এর সাথেই হয়েছিল। আসল সত্যি টা মিহিরিমা কখনো বলতে পারবে না লামিয়া কে!
___" ওই টপিক টা বাদ দে প্লিজ! আমায় পিজি তে যেতে দেরি হয়ে যাবে চল...।"
লামিয়া আর মিহিরিমা বাকি রাস্তা কথা বলতে বলতে পিজীর সামনে চলে আসে। মিহিরিমা লামিয়ার কাছ থেকে বিদায় জানিয়ে ক্লান্ত দেহে নিজের রুমে প্রবেশ করে। ঘুমে চোখ টা প্রায় বন্ধ হয়ে এসেছে । হটাৎ করে ফোনের ঝন ঝন আওয়াজে ধড়ফড় করে উঠে বসল মেয়েটা। ফোন টা হাতে তুলে নিতেই গম্ভীর পুরুষালী আওয়াজ শুনে মিহিরিমার শ্বাস আটকে যাওয়ার উপক্রম।
__" মিহিরিমা আর ইউ হেয়ার!
এটা কার কণ্ঠ মিহিরিমা নাম্বার সেভ না করলেও বুঝতে পারছে কে হতে পারে।
__" আপনি এত রাতে..."
ওপর পাশ থেকে গাঢ় নিশ্বাস এর শব্দ ফোন এ বারি খাচ্ছে। এরপর আবার ও রুক্ষ ভাবে ইউভান বলল,
__" অফিস তোমার প্রেম করার জায়গা না মিস মিহিরিমা এরপরে এরকম কিছু করলে ভয়ানক শাস্তি পেতে হবে!"
টুট টুট করে কল টা কেটে গেল। মিহিরিমা হতভম্ভ হয়ে রইল ।
____________________________
কল কেটে ইউভান পুরো ওয়াইন এর গ্লাস টা গলায় ঢালল। ফোন টা হাতে নিয়ে আবার ও মিহিরিমার প্রোফাইল টা খুলে তার ছবি গুলো দেখতে লাগল ভিন্ন রকমের পোজ এ ছবি তুলেছে সে। উন্মুক্ত পিঠ .. বুকের খাঁজ খুব ই খোলা মেলা ছবি এক মিনিটের জন্য ইউভান নিজের শরীরে গরম অনুভুতি ফিল করল । পরক্ষনেই সেই ছবি তে হাজার ও ছেলেদের রসালো কমেন্ট দেখে তার মেজাজ খারাপ হলো। হাতের মুঠো শক্ত হয়ে আসল রাগে। ইউভান এর সম্পর্কিত বিষয়ে অন্য কারোর নজর সে কখনও বরদাস্ত করে না।
প্রচণ্ড রাগে হাতের ফোন টা ছুড়ে ফেলল । বার বার কেবল মিহিরিমার সাথে ঘনিষ্ঠ মুহুর্ত গুলো প্রগাঢ় অনুভূতির সৃষ্টি করেছে। ইচ্ছে করছে আকাশ পাতাল ফাঁক করে মেয়েটা কে নিজের কাছে নিয়ে আসুক। আদরে আদরে ভরিয়ে দিক।
বুকের মধ্যে লুকিয়ে রাখুক। ইউভান এর এই অনুভূতি টা খুব ই উগ্র । ইউভান ডিউক কে অপমান করার শাস্তি কত টা ভয়ানক হতে পারে বুঝিয়ে দিক। যা তার ব্যক্তিত্ব কে আঘাত করেছে। ওই মেয়ের সাহস কত বড় ইউভান ডিউক কে রিজেক্ট করার!
ঘরের সমস্ত জিনিস তীব্র রাগে ছুঁড়ে ছুঁড়ে ফেলে ইউভান। বাইরে থেকে কেয়ার টেকার রা ছুটে আসে। ভয়ে থর থর করে কাপছে সকলে। এটা প্রায় দিনের ই ঘটনা । ইউভান এর রাগ কত টা উগ্র সকলের জানা। একসময় সব ধ্বংস স্তুপ এ পরিনত হয় । ইউভান সিগারেট ধরাতে ধরাতে লন এ আরাম কেদারায় শরীর এলিয়ে দেয়। মাথায় অসহ্য ব্যথা করছে ! হটাৎ মনে হলো সে তার মা কে খুব মিস করছে। যে তাকে ছোটো বেলায় মাথায় হাত বুলিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিত। ইউভান যখন মাত্র ছয় বছরের তখন তাদের মা অন্য একটা পুরুষের সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে তাদের রেখে চলে যায়। ড্যাড তাদের মা কে খুব ভালোবাসত তাই এত বড় ধোঁকা মেনে নিতে পারে নি এক বছরের মাথায় ড্যাড ও তাদের ছেড়ে চিরতরে চলে যায়। ইউভান তার মা কে স্বার্থপর লোভী মনে করে এমনকি গোটা মেয়ে জাতি তার কাছে সম্মান পাওয়ার যোগ্য না! ইউভান কখনোই চায় না তার ড্যাড এর মতো একাকীত্বে ধীকে ধিকে মরণ! ড্যাড বোকা ছিল বলেই মা কে ভালোবেসে বিয়ে করেছিল। ইউভান কখনোই
বিয়ে ভালোবাসা নামক সম্পর্কে বিশ্বাসী নয়। সব মেয়েরা এক! ধোঁকাবাজ আর লোভী!
Write a comment ...