11

Part 11

জঙ্গলের সেফ সাইডে তৈরি পেন্ট হাউস এ ইডভান ড্রিংক করতে ব্যস্ত। পরনে কালো কোট টা তার muscular বডি কে আরো আকর্ষণীয় করে তুলেছে। আর এক হাতে ফোন এ ডেভিড এর সাথে কথা বলছে

_____ স্যার আপনার আরবের একটা ক্লায়েন্ট এর সাথে মিটিং ফিক্স করা ছিল দু মাস আগে।

_____ ক্যানসেল করে দাও ডেভিড ... আমি অফিসে যাচ্ছি।

_____ স্যার ওই অফিস এ রোজ যাওয়ার কিন্তু দরকার নেই .. এমনিও আপনার যাতায়াত নেই... সকলে ওদিক টা সামলে নেবে। আপনি বরং...

_____ তুমি আমায় জ্ঞান দেবে কোথায় আমাকে প্রয়োজন আর কোথায় না !

_____ সরি স্যার। তবে একটা নিউজ আছে মিহিরিমা মেয়েটার মা খুব অসুস্থ। যত দূর চিকিৎসা করাতে অনেক টাকা লাগবে।

ইউভান এর মুখের হাসি চওড়া হলো।হঠাৎ ফোন টা কেটে দিল সে। তার বডি গার্ড কে ডেকে বলল অফিসে যাওয়ার জন্য গাড়ি রেডি করতে।

ওদিক থেকে জেনোভা শহরে বসে ডেভিড ভাবছে স্যার হঠাৎ মেয়েটার পিছনে পড়ল কেন। এর আগেও তো কত মেয়ের সাথে ইউভান কাটিয়েছে । এই সামান্য মেয়েটা কে গুরুত্ব দেওয়ার কোনো মানে হয় না! বিষয় টা রেহান ডিউক কে জানানো দরকার...। যিনি তার ছোটো ভাই এর খবর পাই টু পাই ডেভিড এর থেকে আদায় করে নেয়।

মিহিরিমা আজ সময়ের পূর্বেই কাজে এসেছে। বরাদ্দ ফাইল গুলো চেক করছিল। অফিস করিডোর এ মেয়ে কর্ম চারি দের আলোচনা চলছিল তাও অফিসের বস কে নিয়ে। এমন একটা হট ব্যক্তিত্ব কে যে পাবে সে ধন্য। মিহিরিমা খুব ই বিরক্ত এসব শুনে এই অফিসে কারোর সাথে খুব একটা কথা হয় নি তবে একটা মেয়ের সাথে আজ পরিচয় হয়েছে যার নাম জিসমি। সে মিহিরিমা কে বিরক্ত হতে দেখে বলল।

_____ " সবে তো শুরু বস তো রোজ আসবে এখন থেকে দেখবে এরা কি করে ... পারলে ড্রেস খুলেই ফেলবে..."

_____ ইস! সত্যি। আগে কি স্যার আসতেন না?

_____ না! ওনার কত হোটেল অফিস রয়েছে ... উনি পার্টিকুলার ভাবে ফরেনার দের সাথে ডিল কন্ট্রাক্ট করতেই ব্যস্ত। ছ মাস পর পর সব দেখে যেতেন কিন্তু এই প্রথম বস রোজ অফিসে আসবে বিষয় টা সত্যি অবাক করা। সাথে এই মেয়ে গুলো আরো ন্যাকো

দুজনের কথার মাঝেই ইউভান বেশ হট ভাবে এন্ট্রি নিল করিডোর এ যা অন্য মেয়েগুলোর হৃদয়ে ঝড় তুলল। সকলেই নিজের ড্রেস ঠিক করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। বেশির ভাগ এর ই ড্রেস বলতে শরীরের বেশির ভাগ ই বেরিয়ে আছে। ইউভান সকল কে এড়িয়ে কেবিনে ঢোকার আগে বলল, মিস মিহিরিমা কাম টু মাই কেবিন ফাস্ট!

মেয়ে গুলো অবাক হওয়ার থেকে বেশি মিহিরিমা তব্ধা খেল। আর সকলেই কেমন অদ্ভুত দৃষ্টি তে তার দিকে তাকিয়ে আছে। মেয়েগুলোর মধ্যে লিডার মেয়েটি যার নাম নাতাশা সে মিহিরিমা কে সন্দেহের চোখে দেখে বলল, তুমি একদিন এসেছো অফিসে তোমায় কেন ডাকছে স্যার! আমরা এতক্ষন ধরে ওয়েট করলাম স্যার তো কিছু বলল না।

মিহিরিমা এবার কথা গুলিয়ে ফেলল। পাশে বসে থাকা জিসমী পরিস্থিতি সামলাতে বলল, ডেভিড নেই তাই মিহিরিমা ই স্যার এর অফিসিয়াল কাজ গুলোর দায়িত্বে আছে।

নাতাশা খুব ই বিরক্ত হলো। নাক সিটকে মিহিরিমার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে দেখে চলে গেল। এদিকে মিহিরিমার ভয়ে একশা অবস্থা। কালকের ওমন উগ্র

ব্যবহার মিঃ ডিউক কে দেখে ভয় পাচ্ছে মেয়েটা।

০০০০০০০০০০০০০০০০০০

_____ স্যার!

_____ ফাইভ মিনিট লেট! এগেইন।

মিহিরিমা দুরু দুরু বুকে কেবিনে ঢুকল। ফাইল টা এগিয়ে দিয়ে বলল, কাজ হয়ে গিয়েছে।

ইউভান ফাইল টা নিয়ে মিহিরিমা কে এক পলক দেখল। নিজের জিভ টা ভিজিয়ে বলল, এক্সপ্লেন!

মিহিরিমা এগিয়ে এসে ইউভান এর কাছাকাছি ফাইল টা নিয়ে আপন মনে বলে যাচ্ছিল। ইউভান সে সবে না ধ্যান দিয়ে তার হাত টা খপ করে ধরল।

_____ অনেক টা কেটেছে। ওষুধ কেন লাগাও নি!

_____ এখন এসব ছোটো খাটো ব্যথা সহ্য হয়ে গিয়েছে।

তেতো করে হাসল মিহিরিমা। কাল কে কাঁচ গুলো

পরিষ্কার করতে গিয়ে ক্ষত হয়েছিল। রক্ত ও বেরিয়েছে। ওতো টা ধ্যান দেয় নি। ইউভান পাশের ড্রয়ার থেকে মেডিসিন নিয়ে মিহিরিমার হাতে লাগাতে উদ্যত হতেই মিহিরিমা বাঁধা দেয়, ইটস ওকে স্যার... সামান্য এইটুকু ব্যথায় কিছু হবে না।

ইউভান ক্ষিপ্র গতি তে মিহিরিমার হাত শক্ত করে ধরল।

_____ ব্যথা টা আমার কারণে লেগেছে তাই লাগিয়ে দিচ্ছি নয়তো তোমার মতো মেয়ে আশেপাশে ঘুরলেও তাকায় না ইউভান ডিউক!

মিহিরিমা মাথায় নোট করল একটা পয়েন্ট.. মানুষ টা বেশ এরোগেন্ট। ক্ষত টায় ওষুধ দিতেই চোখ বন্ধ করে ফেলল ব্যথায়।

_____ আঙ্কেল ওয়াট হ্যাপেন্ড! মিহি ওয়াট আর ইউ ডুইং হেয়ার!

ইউভান মিহিরিমা দুজনেই সরে দাঁড়াল। ইউভান স্বাভাবিক ভাবেই নিজের চেয়ারে বসে বলল, ফারহান কাম বেটা!

ফারহান মিহিরিমা কে দেখে তার কাছে এগিয়ে এসে

বলল, মিহি তুমি এখানে কি করছো? আর হাতে কি হয়েছে তোমার?

মিহিরিমা আস্তে করে নিজের হাত ছাড়িয়ে বলল, আমি এখানে জব করছি ফারহান! ভদ্রতা বজায় রাখ।

মিহিরিমার কেন জানি মনে হচ্ছে বিষয় টা ঠিক হচ্ছে না। মিঃ ডিউক এর সামনে দাঁড়িয়ে ইউভান এর সাথে কথা বলতে তার এত কেন অস্বস্তি হচ্ছে?

ফারহান অসন্তুষ্ট হয়ে বলল, আমি যখন ড্যাড এর অফিসে জব পাইয়ে দেওয়ার কথা বলেছিলাম তুমি রিজেক্ট করেছিলে এখন আমার ই আঙ্কেল এর অফিসে কাজ করছো!

_____ এখানে আমি নিজের যোগ্যতায় জব পেয়েছি ফারহান!,, মিহিরিমা নিজের রাগ টা কন্ট্রোল করে জবাব দিচ্ছিল। কারণ সে অফিসে সিন ক্রিয়েট করতে চায় না।

ইউভান ফাইল টা চোখ বোলাচ্ছিল। ফারহান তার খুব প্রিয় তার ভাইয়ের ছেলে। যা আবদার করেছে ইউভান তাকে দিয়েছে।

ফারহান তার আঙ্কেল এর সামনে মিহিরিমার ওয়েস্ট গ্র্যাব করে বলল, আঙ্কেল লেট মি ইন্ট্রোডিউস উইথ হার ... শি ইজ মাই গার্ল ফ্রেন্ড।

মিহিরিমা ফারহান এর কান্ডে আকাশ থেকে পড়ল! গার্ল ফ্রেন্ড মানে! ফারহান এসব কি করছে... তাদের মধ্যে তো এখন কোনো সম্পর্ক নেই!

ইউভান চোখের মুভমেন্ট করে এক পলক ফারহান এর হাত টা দেখল। শান্ত কণ্ঠে বলল, দু দিন পর রোজির সাথে তোমার এগেজমেন্ট। আই থিঙ্ক ইউ ফরগট ইট!

মিহিরিমা ফারহান এর হাত টা ছাড়িয়ে ইউভান এর কাছে বলল, স্যার আমার কাজ রয়েছে কিছু আসছি...।

মিহিরিমার পেছন নিয়ে ফারহান ও যেতে চাইছিল কিন্তু ইউভান গম গমে গলায় বলল, প্লিজ ডোন্ট সিন ক্রিয়েট হেয়ার ফারহান। ইটস মাই অফিস।

ফারহান সব সময় তার আঙ্কেল কে স্নেহ করে ঠিক ই তবে হিংসাও করে ... এত বয়সেও যেভাবে মেয়েরা চারিদিকে ঘুরে বের হয়। প্রবল প্রতিপত্তি। মাসকুলার বডি সব দিক দিয়ে পারফেক্ট। তার আগের গার্ল

ফ্রেন্ড গুলো আঙ্কেল কে দেখার পর ইউভান ডিউক এর পেছন পেছন ঘুরেছিল পটানোর জন্য। আগে জানলে মিহিরিমা কে এখানে কাজ ই করতে দিত না। রোজির সাথে এগেজমেন্ট সবটাই তো ডিল। মিহিরিমা সত্যি টা জানলে আবার ও সম্পর্কে ফিরে যাবে তারা

ফারহান কোনো মতো হেসে বলল, আঙ্কেল আমি এখানে অন্য কারণে এসেছিলাম। ড্যাড আরব থেকে চলে এসেছে। এসেই তোমার খোঁজ করছে। আজ রাতে ডিনার পার্টি রাখা হয়েছে। প্লিজ জয়েন উইথ আস!

Write a comment ...

Write a comment ...