মিহিরিমা এমন মাঝ রাস্তায় এসে পড়েছে যে কাজ টা করা ছাড়া কোনো উপায় নেই। ২০ লাখ ডলার ফাইন দেওয়ার মতো অর্থ তার কাছে নেই... ইউভান ডিউক তার অপমানের হিসেব তুলতেই নিশ্চই মিহিরিমা কে এমন পাকে ফেলল। ওভাবে অপমান করা নিয়ে মিহিরিমা নিজেও মনে মনে গিল্টি ফিল করছিল পড়ে... ইউভান কে অপমান করে নিজেই নিজের পথ আরো কঠিন করে ফেলেছে সে।
_____You will have to work as my PA for a few days... My assistant is currently out of country
____I was not informed about this...,, মিহিরিমা বোঝানোর চেষ্টা করল তার ইন্টারভিউ যে নিয়েছেন তিনি তেমন কিছু বলেন নি। ইউভান ডিউক এর এসিস্ট্যান্ট হতে হবে শেষ পর্যন্ত! একরাশ বিরক্তি আর রাগ হচ্ছে মনে। মন চাইছে ছুটে বেরিয়ে যেতে।
_____ অফিসের বস কে তুমি বলবে কি করতে হবে এখন? আমি যা বলছি তাই শুনবে।
____ ইয়েস স্যার!
____ যাও কফি নিয়ে আসো.. ক্যান্টিন থেকে। হ্যা অবশ্যই তুমি বানিয়ে আনবে সেটা।
মিহিরিমা তৎক্ষণাৎ বলল, স্যার কফি আনতে আমি যেনো যাবো? এটা তো আমার কাজের মধ্যে...
____ একমিনিট! আমার পি এ হিসেবে যতদিন থাকবে ততদিন আমার কফি তুমি বানিয়ে নিয়ে আসবে। আর মিটিং ... ভিজিটিং সব তুমি দেখবে। ইউভান গম্ভীর ভাবে কথা টি বলে আর রিলেক্স হয়ে চেয়ারে নিজের শরীর এলিয়ে দিল।
মিহিরিমা দাঁতে দাঁত চেপে এক বার তাকিয়ে গট গট করে বেরিয়ে গেল কেবিন থেকে।
ইউভান বাঁকা হেসে ফোনটা হাতে নিয়ে একজন কে ফোন করল।
___ ইয়েস ডেভিড ওতো তাড়াহুড়ো নেই দু তিন উইক ওদিক টা দেখে আসো... কালকের মধ্যে আসার দরকার নেই। এদিক টা আমি সামলে নেবো!
ফোন টা রেখেই ব্র্যান্ডেড সিগারেট টা মুখে ঠেকিয়ে জোড়ে টান দিল লম্বা ইউভান।
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
মিহিরিমা কখনো কিচেনে আসে নি রান্না করতে। একমাত্র ওই খারুস লোক টার জন্য কোনো ভাবে কফি টা বানাতে উদ্ধার হলো। কফি হাতে নিয়ে পেছন ঘুরতেই একজনের সাথে ধাক্কা লাগতেই নিয়েছিল কিন্তু ছেলে টা মিহিরিমা কে কোনো মতে সামলে নেয়।
____ মিহিরিমা আর ইউ হেয়ার?
____ পেড্রো ? ইউ?
মিহিরিমা অসস্তি তে কাচুমাচু হয়ে পড়ে পেড্রো কে দেখে। অবশ্য ইউভান এর আশেপাশে পেড্রো থাকবে না এটা ঠিক কম ই হয়েছে।
_____ আমি এখানে জব নিয়েছি।
_____ মানে তোমার ডাক্তারির কি হলো! আর কফি টা কার জন্য?
____ স্যার অর্থাৎ মিঃ ডিউক এর জন্য।
পেড্রো অবাক ই হলো ইউভান তো এসব কাজ কোনো এমপ্লয়ী দের দিয়ে করায় না ।
দুজনে একসাথে হেঁটে আসল অফিস কেবিন অবধি। পেড্রো সবসময় মিহিরিমার এটেনশন পেতে চায় ফারহান এর সাথে ব্রেকাপের পর এখন নিজে চাইছে মিহিরিমার সাথে সম্পর্কে যেতে। কথা বাড়ানোর জন্য পেড্রো হটাৎ বলল, ফারহান এর এগেজমেন্ট কাল ডু ইউ নো?
মিহিরিমার মুখের রং হটাৎ উড়ে গেল। হাতে থাকা কফির প্লেট টা নড়ে উঠলো। যতই হোক প্রথম প্রেম বলে কথা!
____ no I don't know about his life... And not interested also..
পেড্রো খুশি হলো মিহিরিমার মনে ফারহান এর আর কোনো জায়গা নেই। যাক! ইউভান এর সেদিনকার চালচলন ভালো লাগে নি.. কি করতে চাইছে কে জানে । মিহিরিমার মনে নিজের জায়গা দখল করতে প্রথম পদক্ষেপ নিয়ে হাত বাড়ায় পেড্রো।
_____ ফ্রেন্ডস? আসলে এই অফিসে আমি কাজের জন্য যাওয়া আসা করি বেশির ভাগ। ভালোই হলো। তোমার সাথে দেখা করে।
মিহিরিমা স্মিত হেসে পেড্রোর সাথে হ্যান্ড সেক করে বিদায় জানিয়ে ইউভান এর কেবিনে প্রবেশ করল।
°°°°°°°°°°°°°
মিহিরিমা টেবিলের ওপর কফি কাপ টা রাখল । আর ইউভান কে এক নাগাড়ে সিগারেট টানতে দেখে আসতে করে বলল, স্যার আপনার কফি।
হটাৎ ই ঝড়ের বেগে ইউভান তে টেবিলের ওপর এ রাখা কাপ টা ছুড়ে ফেলে জোড়ে জোড়ে শ্বাস নিতে থাকল। নিমিষে কাচের কাপ টা ঝন ঝনিয়ে ভেঙে গেল। মিহিরিমা ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে কান চেপে ধরলো নিজের।
____ ইউ আর টেন মিনিট লেট! আর ইউ কিডিং উইথ মি ? নাও ক্লিন ইট। ফাস্ট... আই সেইড গোওও!
মিহিরিমা ভয়ে শরীর অবশ হয়ে এসেছে। কাঁপতে কাপতে মেঝে তে পড়ে থাকা কাচ গুলো খালি হাতে পরিষ্কার করতে লাগলো। চোখ দিয়ে অঝোরে জল গড়িয়ে পড়ছে। সামান্য তম একটা কারণে কে এত টা রেগে যায়! ইউভান এর প্রকাণ্ড রাগ দেখে মিহিরিমার স্বত্বা কেঁপে উঠেছে পুরোপুরি।
" আঃ!",, অপ্রস্তুত ভাবে হাত এ কাঁচ ঢুকতেই ব্যথায় চোখ মুখ খিচে ধরল মিহিরিমার। তবে মুখ দিয়ে শব্দ করল না।
ইউভান সরাসরি একটা নোটের বান্ডিল মিহিরিমার সামনে ছুঁড়ে দিয়ে গম গমে গলায় বলে, অ্যাডভান্স নিয়ে দফা হও সামনে থেকে। জাস্ট গেট লস্ট।
মিহিরিমার অবাক হওয়া ছাড়া গতি ছিল না। কিছু বলতেও তার ভেতর টা কাপছে। টাকা টা নিয়ে দ্রুত পায়ে বেরিয়ে যায় অফিস থেকে । একবার ও ইউভান এর দিকে তাকায় নি।
সারা টা রাস্তা হাত গড়িয়ে রক্ত পড়ছিল কিন্তু মিহিরিমার কোনো ভ্রুক্ষেপ ছিল না। মিঃ ডিউক এর রাগী রূপ টা তার ভেতর টা অবশ করে দিয়েছে। হাত পা মৃদু কাপছে। কোনো মতে পিজির গেটের সম্মুখে আসতেই লম্বাটে স্বাস্থ্যবান ছেলেটা গেট আটকে দাড়িয়ে আছে।
_____ বায়রন তুমি! গেটের সামনে কেনো দাড়িয়েছ। প্লিজ লিভ হেয়ার। আমি আপাতত কথা বলার মুডে নেই।
____ আরে সুন্দরী... তুমি কি ভুলে গেলে আজকে বিকেলের মধ্যে তিনমাসের টাকা ফেরত দেওয়ার কথা। নয়তো কিভাবে উশুল করবো নিশ্চয় বলতে হবে না।
বায়রন ঝুঁকে মিহিরিমার সম্মুখে চলে আসল। নিজের শুকনো জিভ ভিজিয়ে মিহিরিমার সৌন্দর্যে মোহিত হয়ে লালসা পূর্ন হাসি দিল।
মিহিরিমার রাগে ঘিন ঘিন করে উঠল শরীর। বায়রনের মুখের ওপর টাকার বান্ডিল টা ছুড়ে বলল, আমার দিকে হাত বাড়ানোর আগে শত বার ভাববি নয়তো তোর হাত দুটো ভেঙে দেবো।
বায়রন এর মুখ রাগে লাল হয়ে গেল । টাকার বান্ডিল দেখে তেড়ে এসে বলল, একদিনে এত টাকা কোথা থেকে পেলি রে? শরীর ই যখন বেঁচিস। আমায় ও একটু টেস্ট করতে দে বরং। টাকা টা পেয়ে চুপ করে গেলাম নয়তো আজকেই দেখতিস...।
মিহিরিমা বায়রনের দিকে তাকিয়ে এক দলা থুতু ফেলে ঘৃণ্য দৃষ্টি তে তাকাল। ঘরে গিয়ে স্নান করতে হবে! পা ফেলে নিজের কামরার সামনে এসে দাঁড়াল মিহিরিমা। নিজের ভাগ্যই তার ওপর উপহাস করছে ! লম্বা লম্বা শ্বাস নিল। বায়রনের লালসা থেকে কবে মুক্তি পাবে সে! আজ টাকা টা না থাকলে হয়তো বায়রন এর কাছ থেকে রক্ষা পেত না আজ!
মিহিরিমা নিজের ঘরে ঢুকেই ক্লান্ত দেহ টা এলিয়ে দিল। মিঃ ডিউক কেনো তাকে এডভান্স টাকা দিল? অ্যাডভান্স দিয়েছে এই সামান্য কাজের জন্য। রাগ করতে চাইলেও পারল না মানুষ টার প্রতি । মনে মনে ধন্যবাদ দিল। টাকা টা না দিলে বায়রনের হাতে আজ তার কি পরিনতি হতো ভাবতেই গা শিউরে উঠলো। আগামী
দিনের কি পরিস্থিতির এসএল স্বীকার হতে হবে ভাবতে ভাবতে ঘুমের সাগরে তলিয়ে গেল মেয়েটা।
Write a comment ...