09

Part 9 [ contact! ]

মিহিরিমার আজকের দিনে শুরুটা খুবই হতাশাগ্রস্থ ভাবে হল। চেষ্টা করছে আরও কয়েক জায়গায় ইন্টারভিউ দেওয়ার। রাতের মধ্যে তিন মাসের ভাড়ার টাকা কিভাবে জোগাড় করবে সে?! ক্লান্ত দেহে মায়ের সাথে দেখা করতে এসেছে মিহিরিমা। নার্সের সাথে ওষুধের  কিছু কথা বলে ...তার মা লেরিনের সামনে বসলো সে ।

_____ মাম্মা .. একটু তো কথা বলো ... তোমায় এভাবে বসে থাকতে দেখে আমার আর ভালো লাগেনা।

লেরিন হঠাৎই মেয়ের দিকে পিটপিট করে তাকালো।  লেরিন এর দৃষ্টি ছিল স্থির।  আবারো এক ভাবে বসে রইল যেন কিছু ভাবছে। মিহিরিমা খুশি হল তার মায়ের সামান্য রেসপন্স করাতে। ভালোভাবে চিকিৎসা করালে নিশ্চয়ই আরো ইমপ্রুভ হবে কথা বলতে পারবে।

নার্স আন্টি তখন খাবারের ট্রে নিয়ে ঘরে ঢুকল। সাথে ছিল আরেকটি প্যাকেট। যেটা মেহেরিমার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল,

____ তোমার নামে একটা চিঠি এসেছে বুঝতে পারছিনা কিসের রেখে দিয়েছি।

____ কই দেখি!

মিহিরিমা অবাক হলো তার নামে চিঠি! চিঠিটা হাতে নিয়ে উপরের লেখা দেখে খুশিতে আত্মহারা হয়ে গেল! তার জন্য জয়েনিং লেটার এসেছে। এটা কিভাবে সম্ভব হলো মিহিরিমা জানে না...। তার কাছে সবকিছু স্বপ্নের মত লাগছে।

মিহিরিমা  নার্স আন্টির কাঁধ জড়িয়ে লাফাতে লাফাতে বলল, আন্টি আমি একটা জব পেয়েছি ইয়াহু! ফাইনালি আমি কাজ পেয়েছি এবার দেখো আমি মাকে সুস্থ করে তুলব। পাপা আমাদের ছেড়ে চলে গেছে.... কিন্তু মাম্মার কিছু হতে দেবো না দেখো আন্টি।

মিস ফ্লোরা অনেক কাল নার্স হিসেবে হসপিটালে কাজ করেছেন... মিহিরিমার পরিবারের সাথে বহু কাল  একসাথে ছিলেন । এমনকি মিহিরিমার জন্ম থেকে এত বড় হওয়া সবটাই নিজের চোখের সামনেই দেখা। হটাৎ ই পরিবার টা এভাবে তছনচ হয়ে গেল ভাবতেই দিবা স্বপ্ন মনে হয় ওনার।  মিস ফ্লোরা বিয়ে করেন নি। মিহিরিমা কেই নিজের মেয়ের মতো মনে করে এসেছে। লেরি তার দূর সম্পর্কের বোন ... পরিবার টা এভাবে ভেঙে গেল লেরিন তার জন্য অনেক কিছু করেছে । এই দুঃসময়ে   মিস ফ্লোরা মিহিরিমা কে আশ্বাস দিয়েছেন লেরিন যত দিন না সুস্থ হবে তত দিন তিনি ই দেখভাল করবেন।

মিস ফ্লোরা মিহিরিমার হাতে চুমু খেয়ে  বললেন, এরপর আমাদের সুখের সময় আসতে চলেছে মাই চাইন্ড। আমি খুব খুশি । তুমি আর দেরী করো না । তোমার লেট হয়ে যাবে।

মিহিরিমা মিস ফ্লোরা কে উষ্ণ আলিঙ্গন করে বিদায় জানায়।

°°°°°°°°°°°°

"Royal Dutch Shell" কোম্পানির এইচ আর রবার্ট ব্রুস যখন ই খবর পেয়েছেন কোম্পানির হেড তথা মালিক হটাৎ ই অফিসে আসছেন তখন থেকেই পুরো অফিসের কর্মচারী দের সতর্ক করে দিয়েছেন। Warm welcome এর জন্য অফিস টা কে সাজানো হয়েছে ভালো মতো। কারণ এই অফিসের হেড খুব ই কম আসেন । দীর্ঘ বহু দিন পর মানুষ টা ভিজিট করতে আসছে এতে সকলের মধ্যে উন্মাদনা কাজ করছে।

" অফিস এর ঔনার কে জানিস ! সেই হট ব্যাচেলার টা"

" হটাৎ এখানে কেনো আসছেন... উনি তো খুব একটা আসেন না। তবে ভালোই হলো আমাদের চোখ ওনাকে দেখে ধন্য হবে।"

তন্বী অল্প বয়সী মেয়ে কর্মচারীর দের মধ্যে বেশ রসালো আলোচনা শুরু হয়েছে ।

এদিকে দেখা যাক,

মিহিরিমা হন্ত দত্ন হয়ে ট্যাক্সি থেকে নেমে অফিসের গেট পেরল। গ্রাউন্ড ফ্লোরে লিফ্ট বন্ধ হতেই যাচ্ছিল তখন ই মিহিরিমা চেঁচিয়ে বলে, দাঁড়ান প্লিজ !

একটা কালো বুট লিফ্ট এর গেট টা বন্ধ হওয়া থেকে আটকে দিল। মিহিরিমা প্রায় ছুটে লিফটের ভেতর প্রবেশ করে হাঁপাতে লাগল। চোখ বন্ধ করে জোড়ে জোরে শ্বাস ফেলে বলল,

অনেক ধন্যবাদ! নয়তো লেট হয়ে যেত।

ওপর পাশ থেকে কোনো রকম রেসপন্স না পেয়ে মিহিরিমা অবাক হলো। নাকে একটা চেনা পরিচিত গন্ধ আসতেই বুক টা ধক করে উঠল তার। চোখ খুলে আড়চোখে দেখল একটা  ছেলে কালো সুট বুট মুখে কালো মাক্স চোখে কালো চশমায় আবৃত। মাকস আর চশমা পড়ার মানে কি এখানে...!! ছেলেটার মুখ স্পষ্ট না হলেও মিহিরিমা ভাবল সে ভুল ভাল কেনো ভাবছে।

দুজনের মাঝে এক হাত সমান দূরত্ব ছিল ঠিক ই কিন্তু মিহিরিমা দেওয়াল ঘেঁষে জড়ো সরো হয়ে দাড়িয়ে রইল।

লিফট থামার আগেই সে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য উদ্যত হয়েছিল । কিন্তু একটা ঝাঁকি সমেত লিফট টা থামতেই মিহিরিমা পা হড়কে পেছনের কালো রং এ আবৃত সুট বুট ওয়ালা লোক টার সাথে মৃদু ধাক্কা লেগে পড়েই যেতে নিয়েছিল কিন্তু একটি বলিষ্ঠ হাত তার কোমড় জড়িয়ে ধরতেই মিহিরিমা চোখ মুখ খিঁচে বন্ধ করে নিল।

_____Cool down darling what's the rush!

হাস্কি মেল ভয়েজ... কোমড় এ শক্ত হাতের ঘর্ষণ টায় মিহিরিমার শরীরের লোম কূপ গুলো শির শির করে উঠল। আর কিছু ভাবার আগেই লোক টা তার হাত সরিয়ে লিফট থেকে বেরিয়ে যায়। মিহিরিমা মিনিট এক হতভম্ভ হয়ে লিফ্ট থেকে বের হলো ঠিক ই কিন্তু তার সাথে কিছুক্ষন আগে হয়ে যাওয়া ঘটনায় বুকের ভেতর টা ড্রিম ড্রিম করছে।  সারা শরীর অবশ হয়ে এসেছে...। কে ছিল ব্যক্তি টা? তবে কি ... না না! মিহিরিমা কে হেল্প করেছে ছেলে টা ব্যাস.. হয়তো ফ্লার্টিং ও করেছে এটা নিয়ে মাথা ব্যাথা করছে কেনো মেয়েটা।

মিহিরিমা হাতে ঘড়ির দিকে তাকাল এগারোটা বেজে পার হয়ে গিয়েছে। নিশ্চয় সে লেট। এর জন্য তাকে কথা শুনতে হবে প্রথম দিন কাজে এসেই লেট! উফফ মিহিরিমা নিজের প্রতি বিরক্ত হলো।

অফিসে প্রবেশ করেই দেখল সারা মেঝে তে ফুল ছেটানো... কয়েক জোড়া ফুলের তোড়া। কাউকে হয়তো অভ্যর্থনা দেওয়া হয়েছে কিছুক্ষন আগে!  মিহিরিমা ধীর গতি তে রিসেপশন এ মেয়েটার কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করল।

_____ আমার জয়েনিং লেটার... আজ আমার প্রথম দিন!

মিহিরিমা রিসেপশনের মেয়েটার শার্ট এর উপর নেমপ্লেট টি দেখল। মেয়েটির নাম জেসমিন ডিসুজা!

মিহিরিমা ভাবল নাম টা সুন্দর তো!

_____ ম্যাম আজ অফিসে কোম্পানির বস এসেছে। আমি এইচ আর এর সাথে কথা বলে নিচ্ছি দাঁড়ান!

মিহিরিমা মাথা নাড়িয়ে পাশে দাঁড়াল। কোম্পানির বস এসেছে বলেই হয়তো এত ফুল ছিটিয়ে আছে চারিদিকে।

_____ ম্যাম ! হেড বস আপনাকে কেবিনে ডেকেছেন। এইচ আর রবার্ট আমায় তাই নির্দেশ দিলেন।

জেসমিন মেয়েটা মিহিরিমা কে সাথে নিয়ে একটা কেবিনের সামনে আনল।

____ ম্যাম হেড স্যার কেবিন এটাই... আপনাকে অনেক কিছু জিজ্ঞেস করতে পারেন...

মিহিরিমা কেবিন টা বাইরে থেকে দেখল বিশেষ ভাবে সাজানো... যার ই হোক তার হিউমার  নিশ্চই খুব ভালো...। এসব আজগুবি ভেবে কেবিনের দরজা টা হালকা ওপেন করে বলল, May I come in sir?

____ sure!

মিহিরিমা শুকনো ঢোক গিলে ভেতরে প্রবেশ করতেই যার সম্মুখীন হলো....  এতে তার চোখের কালো অংশ টা স্থির হয়ে গেল। সকল উত্তেজনা নিমিষে হওয়ার মতো উড়ে গেল।

কাঁপা গলায় একটাই শব্দ উচ্চারণ হলো তার।

___ আপ..নি!

চেয়ারে হেলান দিয়ে শিস বাজাতে বাজাতে মুখের ওপর থেকে কালো টুপি টা সরিয়ে মিহিরিমার দিকে গম্ভীর মুখাবয়ব   দিল ইউভান।

মিহিরিমা ঘন ঘন শ্বাস ফেলে বলল, আপনি এখানে ও আমার পেছন পেছন এসেছেন! আমি এই অফিসে জব পেয়েছি...

____ oh poor girl! This is my company for your kind information!

____ what! ... কিন্তু কীভাবে "Royal Dutch Shell" এর হেড তো ...

____ দু বছর আগে duke merchant's company ..."Royal Dutch Shell" কে টেকোভার করে কিনে নিয়েছে... So this is own my company...

_____ no no! I can't do this job...!!

বলেই মিহিরিমা বিদায় জানিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য উদ্যত হয় তখন পেছন থেকে কড়া পুরুষালী কণ্ঠ গমগমে গলায় বলে, স্টপ! তুমি কোথাও যেতে পারবে না। এই কনট্র্যাক্ট এ তুমি আমাদের কোম্পানি তে  তি

ন বছরের জন্য  কাজ করতে বাধ্য ! ছেড়ে দিতে চাইলে ক্ষতিপূরণ স্বরূপ ২০ লাখ  ডলার দিতে হবে...।

Write a comment ...

Write a comment ...