___ এত বড়ো মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি তে চান্স পাওয়া কি মুখের কথা?
___ হ্যা রে ইন্টারভিউ টা বেশ খারাপ হয়েছে... বেশ টাফ টাফ প্রশ্ন করেছে... আই থিঙ্ক নো চান্স...।
মিহিরিমা দু তিন জন ক্যান্ডিডেট এর কথা শুনে থমকে দাঁড়াল। কোনো রকম প্রিপারেশন ছাড়া ইন্টারভিউ দিতে এসে ভুল করল না তো! লামিয়া এই কোম্পানির ঠিকানায় বলেছিল তখন .. লন্ডনের নাম্বার ওয়ান মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির নিম্ন পদের ভ্যাকানসি তে চান্স পেতেও কত লোক ছুটে আসে... মিহিরিমা শুঁকনো ঢোক গিলে ভাবল... সে কি আদেও চান্স পাবে এখানে? গুটি গুটি পায়ে রিসেপশন এর দিকে এগিয়ে গেল সে। বুক টা দুরু দুরু কাঁপছে।
____ I am here to give an interview.
____Well ma'am you will be called.
রিসেপশন এ কথা বলে যতক্ষণ না ডাক পড়ছে সিটে বসে অপেক্ষা করতে থাকল মিহিরিমা..। কাজ টা যদি না পায় তবে পরিস্থিতি যে কত টা খারাপ হবে.. মিহিরিমার ভাবনা তেই আনতে কষ্ট হচ্ছে..। মায়ের চিকিৎসার জন্য টাকা প্রয়োজন... এক সময় ছিল মিহিরিমা নিজেকে একজন প্রতিষ্ঠিত ডাক্তার হিসেবে দেখতে চায়ত... আর আজ পরিস্থিতি একদম আলাদা... ডাক্তারির জন্য বাকি পড়াশোনার সামর্থ্য তার কাছে নেই ... চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ে মেয়েটার। পরিস্থিতি আজ তাকে কোথায় নিয়ে দাড় করিয়েছে।
রিসেপশন থেকে তার নাম ডাকা হলে... মিহিরিমা চোখ মুছে নিজেকে স্বাভাবিক করল । কেবিনের দরজা টা হালকা খুলে বলল,
____" May I come in sir?"
কোনো সাড়া শব্দ না পাওয়ায় গুটি গুটি পায়ে ভেতরে প্রবেশ করল মিহিরিমা।
___ who?
কালো জ্যাকেট পরিহিত মাঝ বয়সী পুরুষ টি কোনো ফাইলে ডুবে ছিল । যিনি কোম্পানির এইচ. আর। রবার্ট ব্রুস তার নাম।
___ sir I'm Mihirima Berman.
রবার্ট ইশারায় মিহিরিমা কে সামনের চেয়ারে বসতে বলল। মিহিরিমা কিছুটা নার্ভাস হয়ে পড়ল।
____ এই কাজ টা কিসের জন্য করতে চাইছেন?
____ স্যার ফ্যামিলি তে আমি কেবল আর্নিং করি...। আর আমার জবের খুব প্রয়োজন।
____ কাজ টা নিম্ন পদের... কোয়ালিফিকেশন এর ব্যাপার নেই... তবে আমরা মেইল ক্যান্ডিডেট প্রেফার করছি...।
মিহিরিমা কাঁপা গলায় তৎক্ষণাৎ বলল,. কাজের কোনো জেন্ডার হয় না.. ছেলে বা মেয়ের... কাজের প্রয়োজন এ ইন্টারভিউ টা দিতে এসেছি... নিম্নপদ হলেও কোনো ব্যাপার... একবার শিখে গেলে নিশ্চই পারবো সেটা।
রবার্ট মিহিরিমা কনফিডেন্স দেখে মুচকি হাসল। তারপর একটা ফাইল আগিয়ে দিয়ে বলল, এই পেপার টাই সাইন করে দিন আপাতত... পড়ে জানিয়ে দেওয়া হবে... আপনাকে রেজাল্ট!
মিহিরিমা ফাইল টা দেখে অবাক হয়ে বলল, এটা কিসের! আমি জানি এই জব টা আমি পাচ্ছি না ... আমি আমার সময় বেকার বেকার নষ্ট করলাম আর কিছুনা।
____ আপনার সিভি সংক্রান্ত কিছু সাইন করে দিন ... দরকার হলে পড়তে পারেন।
মিহিরিমা দীর্ঘশ্বাস ফেলে না দেখেই ফাইল টা সাইন করে বেরিয়ে আসল কেবিন থেকে। চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে তার। মেইল ক্যান্ডিডেট নেবে যখন আগেই উল্লেখ করে দিতে পারতো... বেকার বেকার সময় নষ্ট হলো তার। মিহিরিমা এই বার ও জব টা পাবে না ভাবতেই এক রাশ হতাশা গ্রাস করল মনে।
অফিসের গ্রাউন্ড ফ্লোরে নেমে মিহিরিমা কতদিন পর ফারহান কে সামনা সামনি দেখে এক দফা অবাক হলো। মিহিরিমা এড়িয়ে চলে যেতে চাইলে পেছন থেকে ফারহান প্রায় ছুটে আসে..।
___ মিহিরিমা প্লিজ দাঁড়াও... আমার কথা শোন.. তুমি এখানে কি করছো?
মিহিরিমা না চাইতেও চলে যেতে পারল না। ফারহান এর মুখো মুখী হয়ে জিজ্ঞেস করল,, কি শুনবো মিঃ ফারহান ডিউক! কোন রাইট এ তুমি আমায় প্রশ্ন করছো এসব। মাঝ রাস্তায় কেনো পথ আটকে এসব করছো।
___ মিহিরিমা... ডার্লিং কুল ডাউন... প্লিজ আমি জানি তুমি আমার ওপর রেগে আছো... কিন্তু আমি ইচ্ছে করে তোমায় ঠকাতে চাই নি। আমি জানি তুমি আমায় বুঝবে..।
____ stay away from me Farhan... দুদিন পর তোমার বিয়ে ... কেনো এসব করছো... আমি একা থাকতে শিখে গিয়েছি... কি ভেবেছিলে তোমায় ছাড়া আমি অকেজো হয়ে পরবো... খুব বড়ো ভুল ভাবনা তোমার।
____ মিহিরিমা আমি জানি সত্যই টা জানো না বলেই তুমি অভিমান করে আছো...। এত বছরের সম্পর্ক মিথ্যে হতেই পারে না। ,, ফারহান এর কথা গুলো এক মুহুর্তে দুর্বল করে দিলেও তার মায়ের অপমান টা ভুলবার মতো না। ফারহান একসময় মিহিরিমার হাত টা টেনে মুখের সামনে এসে হিসহিসিয়ে বলল , I love you Mihirima... তুমি এভাবে আমাকে ইগনোর করতে পারো না।
মিহিরিমা ব্যথায় মুখ কুঁচকে ফেলল। হাত ছাড়িয়ে ফারহান এর দিকে বিরক্তি কর একটা দৃষ্টি দিয়ে ছুটে বেড়িয়ে গেল অফিস থেকে।
°°°°°°
মিহিরিমা চোখের জল মুছে নিজেকে সামলানোর যতই চেষ্টা করছে ব্যর্থ হচ্ছে...। ফারহান কেনো আবার তার শান্তি পূর্ন জীবনে ব্যাঘাত ঘটাতে চাইছে । সে এখন আগের মতো দুর্বল না । নিজের পিজির রুম টায় ক্লান্ত দেহে প্রবেশ করে সে। নিজের জন্য রাত টা পার করার জন্য হালকা কিছু রান্না করল সে। নার্স কে ফোন করে মা এর খবর নিয়েছে... নার্স জানাল লেরিন ইশারায় কিছু বলতে চায়ছে দু দিন ধরে... মিহিরিমা মুখে হাসি ফুটল। মা এর কিছু ইমপ্রুভমেন্ট হচ্ছে কি ? কাল ই না হয় আবার দেখা করে আসবে...
এমন সময় কলিং বেল বেজে উঠলে মিহিরিমার মন বিচলিত হয়... এত রাতে কে এসেছে? তার বন্ধু সংখ্যা হাতে গোনা... লামিয়া ছাড়া এখানে কেউ আসে না... তবে কি...
ধীর পায়ে দরজার লক খুলতেই বিভৎস এক দুর্গন্ধ তার নাকে আসল। টল মল পায়ে একটা ছেলে একেবারে ঝুঁকে দাড়িয়ে আছে। সেটা আর কেউ না এই পিজির মালিকের ছেলে...। বায়রন হুড তার নাম। মিহিরিমা বায়রন এর উদ্ধত ব্যবহার দেখে চেঁচিয়ে উঠল, এগুলো কি অসভ্যতা বায়রন... এত রাতে একটা মেয়ের রুমে এসে লক করছো...
___ ওহ জানেমন... মাসের কত তারিখ হলো? তিন মাসের বকেয়া টাকা তো দিলে না... আমার প্রপার্টি তে থেকে আমার ওপর ই চিৎকার।
বায়রন যেনো আরো ঝুঁকে এলো মিহিরিমার সম্মুখে। মেয়েটার পেট গুলিয়ে উঠল মদের গন্ধ তে।
____ কাল রাতের মধ্যে দিয়ে দেবো... আন্টির সাথে কথা হয়েছে... আসতে পারো এখন।
____ কি এমন কাজ করো বলতো জানেমণ... কাল রাতের মধ্যে টাকা পেয়ে যাবে... হু?
___ that's non of your business... Get lost!
___ একেবারে তিখি মিরচি... ছেলে টা কে ছিল... সারারাত দুজনে কি করছিলে? জানেমন ভালো মুরগি ধরেছো... এটাই যদি তোমার বিজনেস হয় আমিও না হয় ... এত দিন থেকে লাইন দিচ্ছি... আমিও একটু সুযোগ পাই একবার টেস্ট করার ... বকেয়া টাকা মাফ...
মিহিরিমা আর কিছু না ভাবার আগেই ঠাটিয়ে চড় কষিয়ে দেয় বায়রন কে। রাগে তার সারা শরীর কাঁপছে... বায়রন তেড়ে এসে বলল, খুব পাখনা গজিয়েছে না ... আমার গায়ে হাত তুলিস... কত দিন থেকে পেছন পড়ে আছি... অথচ আমার প্রপার্টির মধ্যেই অন্য ছেলে এনে ফুর্তি করবে... আর আমার ময়না কে উড়ে যেতে দেখবো... কাল রাতের মধ্যে টাকা চাই ... নয়তো আমিও জানি টাকা কিভাবে উশুল করতে হয়।
মিহিরিমা ঘৃণায় মুখ কুঁচকে ফেলল। বায়রন এর মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে ঘন ঘন শ্বাস নিল। কালকের মধ্যে তিন মাসের টাকা জোগাড় করবে কিভাবে? এই পিজি তে আসার কিছুদিন এর মধ্যেই বায়রন। এর কু নজর লেগেছিল তার ওপর। মিঃ ডিউক এর জন্য বিপাক এ পড়তে হলো তাকে। বায়রনের সম্মুখে নত কিছুতেই হবে না... এতে তাকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হলেও সম্মানের!
Write a comment ...