07

Part 7 [ his rage]

মিহিরিমার মা লেরিন ডিসুজা রেন্ট এর বাড়িতে থাকে... শরীরের অবস্থা খুব খারাপ...। দেওলিয়া হয়ে যাওয়ার ঘটনা....  স্বামীর  মৃত্যুর  সব কিছু লেরীন কে শোক স্তব্ধ করে দেয়...  চুপ চাপ থাকে সারাক্ষণ ..কথা খুব একটা বলে না..। হাতে গোনা দু একটা শব্দ বলে...। ডাক্তার বলেছিল মানসিক অবসাদের কারণে এই পরিণতি...। সাথে হাই প্রেশার ও হৃদরোগ সব কিছুই মিহিরিমার মা এর জীবন কে থমকে দিয়েছে..। আজ সর্ব হারা হয়ে মা মেয়ে কে রাস্তায় নেমে পড়তে হয়েছে... মিহিরিমা চাইলেও মায়ের চিকিৎসা করাতে পারছে না। টাকার অভাবে..। এখনো অনেক টাকার লোন শোধ হয় নি তাদের।

মিহিরিমা ইন্টার্ন করার জন্য পিজি তে থাকলেও মা কে দেখভালের জন্য একটি নার্স রাখা আছে। প্রায় এক সপ্তাহ বাদে মা কে দেখতে এসেছে সে।  কেনা ওষুধ গুলো টেবিলে রেখে বিছানায় অচেতন শরীরে শুয়ে থাকা মায়ের সম্মুখে বসল।

___ মা কিছু  কথা বলেছে আন্টি? আমি আসতে পারি নি এই ক দিন...আমার কথা কি জিজ্ঞেস করেছে?

মিহিরিমা নার্স টি কে আসতে করে জিজ্ঞেস করল। কারণ তার মা এখন ঘুমে।

___ নো মাই গার্ল.. জাস্ট এক ভাবে তাকিয়ে থাকত। স্টোরি বুক গুলো পড়ে শুনিয়েছি রোজ। কিন্তু নো রেসপন্স!

মিহিরিমা দীর্ঘ শ্বাস ফেলল। লেরিণ এর চোখের পাতা হালকা নড়ে উঠতেই বুঝল তার মা ঘুম থেকে উঠেছে..। কিন্তু চোখ খুললেও মিহিরিমা কে দেখলে কোনো রূপ রেসপন্স করবে না সে। যা মিহিরিমার ভেতরের কষ্ট টা কে আরো উগড়ে দেয়। এই জন্য সে মা কে দেখতে সপ্তাহে দু এক দিন আসে। নিজের মেয়ে কে দেখেও লেরিন রেসপন্স করে না। তাকায় না।  এটা মিহিরিমার কাছে আরো কষ্টের। ডাক্তারি পদ্ধতি তে এই চিকিৎসায় অনেক খরচ। এত টাকা কোথায় পাবে মিহিরিমা?  চোখের জল টা লুকাল সে।  আর বসে থাকতে পারল না। নার্স কে ওষুধ গুলো বুঝিয়ে বেরিয়ে এলো সে।  তার কাজের খুব দরকার..। লামিয়া কে জানিয়েছিল একটা কাজ খুজেঁ দিতে.. ওর অনেক সোর্স আছে। লামিয়া প্রথমে ডেভিড এর.. বার এর কাজ টার প্রসঙ্গ তুললে মিহিরিমা এড়িয়ে যায়। পিজির পথে যেতে যেতে মিহিরিমার ফোনে ম্যাসেজ আসল, একটা মাল্টন্যাশনাল কোম্পানি তে ভ্যাকান্সি রয়েছে নাম টা উল্লেখ করা নেই...

তবে পদ টা খুব ই নীচু। তখন ই লামিয়ার ফোন আসে।

___ ইন্টারভিউ কি দিতে চাচ্ছিস?  ওনাদের কিন্তু অনেক টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশন আছে। তার সাথে কোম্পানি টা কিন্তু...  গ্রুপ অ্যান্ড...

____ হ্যালো... আই ক্যান্ট হেয়ার ইউ বেইব... হ্যালো? .. আমি ইন্টারভিউ টা দেবো... কাজের খুব প্রয়োজন বুঝলি... কি বলছিস? শুনতে পারছি না।

টুট টুট করে ফোন কেটে গেল মিহিরিমার।

আজ বেলা বারোটা থেকে ইন্টারভিউ শুরু। মিহিরিমা লামিয়া কে মনে মনে অসংখ্য ধন্যবাদ দিয়ে ট্যাক্সি চালক কে বলল অ্যাড্রেস টা অনুযায়ী নিয়ে যেতে।

_________________________________

সুইমিং পুল থেকে পুরুষালী পিটা মেদ হীন শরীর টি জল ঝড়িয়ে উঠে আসতেই কর্মচারী গুলো টাওয়াল দিয়ে ঢেকে দিল ইউভান কে।  ধীর পায়ে তার প্রিয় আরাম কেদারায় গিয়ে শরীর এলিয়ে দিল ঠিক ই কিন্তু মন টা শান্ত করতে পারছে না। অন্য মনস্ক হয়ে বিয়ারের গ্লাসে চুমুক দিল কয়েক বার সে। ইউভান এর একান্ত থাকার জায়গা এই কটেজ টা। যখন ই মন বিষণ্ণ থাকে ছুটে চলে আসে।  চারপাশ নিরিবিলি জঙ্গলের সেফ সাইডে তৈরি কটেজ টাই ইউভান এর একান্ত জায়গা খুব ছোটো বেলা থেকে বাবা মা ছাড়াই কেটেছে। ব্যবসায়ীক সূত্রে বিজনেস এর দায়ভার পুরোটাই ইউভান এর ওপর এ। তার বড়ো ভাই আরাব কান্ট্রি তে বিজনেস সূত্রে  ওখানেই থাকে।

___ স্যার  ইসাবেলা ম্যাম এসেছে পাঠিয়ে দেবো?

চোখ খোলে ইউভান..। ইসাবেলা ( অর্থাৎ বড়ো ভাই এর বৌ) এই সময় তার কটেজে কি করছে? ডেভিড কে পাঠিয়ে দিতে বলল কেবল। পুল এরিয়ায় হন্ত দন্ত্ হয়ে ইসাবেলা এসে চিল্লিয়ে ওঠে,,

____ ইউভান তুমি বাড়ি কেনো ফিরছ না.. তোমার ভাই ফোন করেছিল রাগারাগি করেছে... জানোই তো বাইরে থাকে .. তোমায় নিয়ে চিন্তা করে... বিয়ের কথা উঠলেই এই কটেজে চলে আসো পালিয়ে... আর কত ওয়েট করবে... তোমার বড়ো ভাই রেহান আর আমি কত ছোটো বয়সে বিয়ে করেছিলাম জানো !! ফারহান এর আংটি বদল এর অনুষ্ঠান ও রাখতে পারছি না। সকলে কি বলবে... ফারহান এর আঙ্কেল থাকতে কি করে ওর বিয়ে দেবো... বিজনেস মহলে আপনাদের সম্মান কোথায় যাবে বলতো? ফারহান এর বিয়ে টা কত টা  ইম্পর্টেন্ট আমাদের বিজনেস এর ক্ষেত্রে ডু ইউ এভার থিঙ্ক। রোজির ফ্যামিলি আমাদের অনেক বেনিফিট দেবে..।

_____ ফারহান এর বিয়ে টা বিজনেস ডিল যখন লেট করার মানেই হয় না। আমার বিয়ে নিয়ে ভাবতে হবে না তোমাদের।

____ ইউ ভান! তুমি ভুলে যেও না তোমার এনগেজমেন্ট কিন্তু ঠিক করা আছে... লারার সাথে। ও লন্ডন এ ফিরলেই আমি চাই তোমাদের বাগদান টা হয়ে যাক।

___ লারা হু? তোমার বোনের মেয়ে টা না...

___ হ্যা  ইউভান তোমার ভাই ও চাপ দিচ্ছে.. লারার ফ্যামিলি কে কথা দেওয়া হয়েছে..  বেশ বিত্তশালী ওরা। তুমি আর পালানোর সুযোগ পাবে না। বয়স দেখছো তোমার... !!

___ ইসাবেলা! ভাই কে যে তুমি চালনা করো আমায় সে সব বোঝাতে এসো না.. ওর নিজের কোনো বক্তব্য নেই... আমি ম্যারেজ নিয়ে এখনও কিছু ভাবি নি... ডেভিড .. প্লিজ ইসাবেলা কে বাড়িতে ড্রপ করে দিয়ে এসো..। আমি একটু একা থাকতে চাইছি।

ইসাবেলা ফর্সা মুখ টা লাল হয়ে যায় রাগে। ইউভান তাকে সরাসরি বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে বলেছে।

___ আমি তোমার ভাই এর স্ত্রী হই ইউভান.. আমাকে একটু সম্মান সহকারে কথা বলো।

ইউভান ইশারায় ডেভিড কে বলল , ইসাবেলা কে নিয়ে যেতে। ইসাবেলা খুব ই রাগত চোখে একবার তাকে দেখে হন হন করে বেরিয়ে গেল সেখান থেকে।

ইউভান সব সময় ই নিজের মর্জির মালিক। বয়স পঁয়ত্রিশ এর কোঠায় গেলেও ম্যারেজ জিনিস টা কে বরাবর ই অভোইড করে সে। চোখের সামনে তার বড়ো ভাই রেহান আর ইসাবেলা বেশ ছোটো থাকতেই বিয়ে করে নিয়েছিল। বলতে গেলে ইসাবেলার পেটে তখন ফারহান ছিল। চাপের মুখে দুজনের বিয়ে হলেও ইসাবেলা সব সময় ই সবার জীবনে কর্তি থাকতে ভালবাসে। ইউভান এক সময় বড়ো ভাই এর পরিবারের সাথে থাকলেও এক সময় আলাদা হয়ে যায়। নিজের মতো করে জীবন যাপন করলেও বড়ো ভাই রেহান কে খুব ই সম্মান করে সে। এর জন্য ইসাবেলার সব রকমের মাতব্বরি দাঁত পিষে হলেও সহ্য করে যায়।

ইউভান ক্লান্ত কণ্ঠে একজন কে ডাকল। রোমান তার নাম। বডি গার্ড হিসেবে তার সর্ব ক্ষন সঙ্গী।

___ রোমান ... আপডেট কি ওদিকের..।

___ ম্যাম একটি কাজ খুঁজছে... ওনার অনেক টাকার প্রয়োজন । বেশ অস্থির হয়েছিল।

ইউভান  বিরক্ত হলো। মেয়ে টা কে সে কত রকম অফার ,,, টাকা পর্যন্ত দিয়েছিল তবুও কিভাবে ইউভান ডিউক অর্থাৎ ইংল্যান্ডের সবচাইতে ধনী ব্যক্তি কে রিজেক্ট করল... তার সাথে এক রাত শোবার জন্য কত মেয়ে পাগল ... সান্নিধ্য পেতে কত মেয়েরা মুখিয়ে থাকে। পঁয়ত্রিশ বছর এর জীবনে বহু নারীর সংস্পর্শে কাটলেও ... এর পরিবর্তে অপর পক্ষ মোটা টাকা নিয়েছে... কোনো ধরনের কমিটমেন্ট ছিল না। সব মেয়েরা বেশির ভাগ ইউভান এর কাছে তার সৌন্দর্য আর টাকার জন্যই ছুটে আসে। মিহিরিমা ও একই দলে পড়ে। সেদিনের করা অপমান টা এখনো ইউভান এর মনে সতেজ হয়ে রয়েছে।

____ মি..হি রি..মা ! Your body odor is driving me crazy.... How can I forget the memory of two nights.... Your moans...  সব শেষে করা তোমার অপমান ... How could she...  Get ready to come to my prison honey...

ইউভান   এর রাগে কপালের শিরা ফুলে উঠেছে। ভেতরে ভেতরে আক্রোশ । তবুও কুটিল হাসি টা চওড়া হয়ে ওঠে তার মুখ অবয়বে।

চলবে?

____________________________

Write a comment ...

Write a comment ...

story universe ( স্নেহার ডায়রি)

Pro
A proud pratilipi bengali writer